ব্যবহার করুন নোটপ্যাড টু

নোটপ্যাড টু কি?

নোটপ্যাড টু (Notepad2) একটি ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার। এর ইন্টারফেস এবং কার্যক্রম অনেকটাই নোটপ্যাডের মতো। তবে নোটপ্যাডের তুলনায় এটি অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এতে অনেক বেশি অপশন রয়েছে, যেগুলো পরবর্তীতে বর্ণিত হয়েছে। একে নোটপ্যাডের একটি উত্তম বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। একটি একটি ফ্রি ওয়্যার (Freeware) এবং ওপেন সোর্স (Open Source) সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন ফ্লোরিয়ান ব্লেমার (Florian Balmer)।

নোটপ্যাড টু কেন ব্যবহার করবেন?

সাধারণত আমরা লেখালেখি জাতীয় কাজের জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ডই ব্যবহার করে থাকি। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড যে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, শক্তিশালী এবং সহজ ব্যবহার্য্য প্রোগ্রাম, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে, সব ধরনের লেখালেখির কাজে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করার কি আসলেই কোন প্রয়োজনীয়তা আছে?

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে যখন আমরা কোন ডকুমেন্টকে প্রিন্ট করতে চাই। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ফরম্যাটিং, পেজ বর্ডার, ক্লিপ আর্টস, ওয়ার্ড আর্টস বা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের ইচ্ছেমতো বিভিন্ন ধরনের ছবি ব্যবহার করে যেকোন ডকুমেন্টকে খুব সুন্দর করে এবং খুব সহজে প্রিন্টের উপযোগী করে তোলা যায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমরা যত ডকুমেন্ট তৈরি করি, তার খুব সংখ্যকই প্রিন্ট করি। অধিকাংশ সময়ই আমাদেরকে খুব ছোটখাটো এবং মাঝে মাঝে এমনকি অস্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী ডকুমেন্টও তৈরি করতে হয়, যেখানে কোন ধরনের ফরম্যাটিং করা মানেই উলু বনে মুক্তো ছড়ানো। সেক্ষেত্রে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করার কোন যৌক্তিকতা আছে কি?

সাধারণ কাজে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার না করার পেছনে কয়েকটা ভালো যুক্তি হল, এটা চালু হতে অনেক সময় লাগে। সাধারণভাবে সেভ করা ওয়ার্ড 2007 এর ফাইলগুলো এর পুরানো সংস্করণের সাথে পুরাপুরি কম্পাটিবল নয়। সব কম্পিউটারে মাইক্রোসফট অফিস ইনস্টল করা নাও থাকতে পারে, ফলে ফাইল ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে এটা অত্যন্ত অজনপ্রিয় একটা ফরম্যাট। ইউনিকোডে বাংলা লেখার সময় বৃন্দা ছাড়া অন্য কোন ফন্ট ব্যবহার করতে চাইলে এটা মাঝে মাঝে অনর্থক ঝামেলা করে।

এসব কারণে অনেকেই সাধারণ লেখালেখির কাজে ওয়ার্ড ব্যবহার না করে নোটপ্যড ব্যবহার করে থাকেন। কারণ এটি সবচেয়ে কম স্পীডের কম্পিউটারেও চোখের পলকে চালু হয়ে যায়। উইন্ডোজ মাত্রই নোটপ্যাড বিশিষ্ট বলে এটার কম্পিটিবলিটি নিয়ে কোন চিন্তা করতে হয় না। এটাতে একই ডকুমেন্টে একাধিক ফন্ট ব্যবহার করার অপশন নেই বলে ইউনিকোডে বাংলা লেখার সময় ফন্ট সম্পর্কিত কোন সমস্যাও পোহাতে হয় না।

তবে নোটপ্যাডের সমস্যা হচ্ছে এটা একেবারে বেশি সিম্পল। এর ইন্টারফেসটা খুবই সাদামাটা। বলা যায় অনেকটা ডস মোডের কাছাকাছি। এর এমনকি কোন টুলবারও নেই। আর এর অপশন তো একেবারেই কম। এসব কারণে অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নোটপ্যড ব্যবহার করেন না। যারা সাধারণ কাজের জন্য ওয়ার্ড ব্যবহার করতে চান না, অথচ নোটপ্যাডও পছন্দ করেন না, তারা নোটপ্যাড টু ব্যবহার করতে পারেন স্বাচ্ছন্দে। কারণ এটাতে উপরে বর্ণিত প্রায় সকল সমস্যারই খুব সুন্দর সমাধান রয়েছে।

নোটপ্যড টু এর সুবিধাসমূহ

নোটপ্যাড টু দেখতে অনেকটা নোটপ্যাড এর মতো হলেও নোটপ্যাড এর তুলনায় এর অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজনীয় বাটন সহ এর একটি চমত্কার টুলবার আছে। কাজেই নিউ, ওপেন, সেভ প্রভৃতি কমাডন্ডের জন্য আপনাকে মেনুবারে না গেলেও চলবে। এটাতে আপনি অনেক ধাপ পর্যন্ত আনডু-রিডু করতে পারবেন, যেখানে নোটপ্যাডে মাত্র এক ধাপের বেশি আনডু-রিডু করা যায় না। এর স্ট্যাটাস বারে মোট লাইন সংখ্যা, বর্তমান লাইন সংখ্যা, কলাম সংখ্যা, ডকুমেন্টের সাইজ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। ফন্ট সাইজ অপরিবর্তিত রেখেই আপনি এর টেক্সটগুলোকে ইচ্ছেমতো জুম ইন বা জুম আউট করতে পারবেন। এর ফাইন্ড-রিপ্লেস বক্সটি নোটপ্যডডের তুলনায় অনেক বেশি অপশন সমৃদ্ধ। ওয়ার্ডের মতো এতে মাউজের ড্র্যাগ-ড্রপে অপশনের মাধ্যমেই কাট-কপি-পেস্ট করা সম্ভব, যেটা নোটপ্যাডে নেই।

সবচেয়ে বড় কথা হল, নোটপ্যাড টু কে html. xml, css, VBScript, JavaScrip, C++ Source Code প্রভৃতি এডিটর হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অর্থাত্‍ আপনি যদি কোন ওয়েব পেজকে নোটপ্যাড টু এর সাহায্যে ওপেন করেন তাহলে বিভিন্ন ট্যাগ এর অভ্যন্তরে অবস্থিত টেক্সটগুলোকে বিভিন্ন রঙে রঙিন অবস্থায় দেখতে পাবেন। ফলে সেটা এডিট করতে আপনার অনেক সুবিধা হবে। এছাড়া নোটপ্যাড টু এর আরো অনেক অপশন আছে, যেগুলো আপনি ব্যবহার করতে করতে ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন।

নোটপ্যড টু এর বৈশিষ্ট্যসমূহ

নোটপ্যাড টু একটি ফ্রি ওয়্যার। অর্থাত এটি বিনামূল্যে ব্যবহার তো করতে পারবেনই, প্রয়োজন মনে করলে এর সোর্সও এডিট করতে পারবেন। এটাকে আপনি স্থায়ীভাবে উইন্ডোজের নোটপ্যাডের সাথে প্রতিস্থাপনও করতে পারবেন। এই সফটওয়্যারটি সাইজে খুবই ছোট, এর ইউনিকোড ভার্সনের সাইজ (অসংকুচিত) মাত্র 267 কিলোবাইট। এটি ইনস্টল করার কোন প্রয়োজন নেই

এর সাধারণ সংস্করণের সাইজ মাত্র 247 কিলোবাইট। ডাউনলোড করতে পারবেন এখান থেকে
এর ইউনিকোড সংস্করণের সাইজ মাত্র 242 কিলোবাইট। ডাউনলোড করতে পারবেন এখান থেকে
এর সোর্সকোডের সাইজ মাত্র 270 কিলোবাইট। ডাউনলোড করতে পারবেন এখান থেকে

এছাড়া আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন এই সাইট – http://www.flos-freeware.ch/notepad2.html

নোটপ্যাড টু কে কিভাবে নোটপ্যাডের সাথে স্থায়ীভাবে প্রতিস্থাপন করবেন?

প্রথমেই C:\WINDOWS\notepad.exe ফাইলটিকে ব্যাকআপ করে রাখুন। কারণ সাবধানের মার নেই। যদি ভবিষ্যতে আবার প্রয়োজন হয় তখন কার কাছে হাত পাতবেন? এবার যেকোন একটা ফোল্ডার ওপেন করে Tools > Folder Options এর View ট্যাবের Hidden files and folders সেকশন থেকে Hide protected operating system files (Recommended) এর পাশের চেকবক্সে ক্লিক করে টিকমার্কটা উঠিয়ে দিন। এরপর একটা অস্থায়ী ফোল্ডারে notepad2.exe ফাইলটাকে রিনেম করে notepad.exe হিসেবে প্রস্তুত করুন। এর এই সদ্যপ্রস্তুতকৃত notepad.exe ফাইলটাকে কপি করে C:\WINDOWS, C:\WINDOWS\system32 এবং C:\WINDOWS\system32\dllcache এ পেস্ট করুন।

এসময় হয়তো উইন্ডোজের সিডি প্রবেশ করানোর নির্দেশ সম্বলিত একটি বার্তা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে ওটা ইগনোর করে উপরে বর্ণিত প্রক্রিয়াটাই আবার সম্পাদন করতে হবে। কয়েকবার এরকম করলেই ফাইলটা রিপ্লেস হয়ে যাবে। আমার নিজের কম্পিউটারে ব্যাপারটা এভাবেই কাজ করেছে। তবে আপনার যদি কোন সমস্যা হয় তবে বিস্তারিত জানার জন্য এই লিংকের মন্তব্যগুলো পড়ে দেখতে পারেন। এছাড়া এই লিংকটাও আপনার কাজে লাগতে পারে।

7 Responses to “ব্যবহার করুন নোটপ্যাড টু”

  1. মাসুম Says:

    ত্বোহা ভাই সুপার হইছে। চালাইয়া যান।

  2. মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা Says:

    ধন্যবাদ মাসুম ভাই। আমার ব্লগে প্রথম মন্তব্যকারী হিসেবে আপনাকে স্বাগতম। আশা করি সাথে থাকবেন।

  3. নাজমুল Says:

    ধন্যবাদ ত্বোহা ভাই।

  4. Tuhin Rahman Says:

    Thank u toha bhai. I am a new fan of ur site. Really u done a lot and hard work. Thanks for all. I like ur work.

  5. ইফতেখার Says:

    ত্বোহা, ডাউনলোড লিঙ্ক error দেখাচ্ছে (Unicode version)

  6. Jack Says:

    Bro.. I Think notepad++ is better then notepad2

    please check http://notepad-plus.sourceforge.net/uk/about.php

  7. মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা Says:

    নোটপ্যাড ++ আরো অ্যাডভান্সড এবং আরেকটু জটিল। ওটা সম্ভবত প্রগ্রামারদের জন্য বেশি উপযোগী। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নোটপ্যাড টু-ই মনে হয় যথেষ্ট।


Leave a Reply