সগৌরবে ফেল করেছি

গতকাল বিকেলে আল-তাহাদ্দী ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিরিয়ারিং এর প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ঘরে ইন্টারনেট কানেকশন থাকা সত্ত্বেও ফলাফল জানার জন্য সাইবার ক্যাফেতে যেতে হল। এর একটা কারণ হল আমার ইন্টারনেট কানেকশনটা হচ্ছে সুপার জঘন্য আর দ্বিতীয় কারণ হল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটটা সম্পূর্ণ আরবিতে। এখনও যে আরবি খুব একটা ভালো আয়ত্ত করতে পারিনি, সেটা জানা গেল ফলাফল থেকেই। অন্য সবগুলো বিষয়ে মমতাজ (ممتاز) পেলেও আরবি 1 এ একেবারে সগৌরবে ফেল করেছি।

আরবিতে যে ফেল করব, সেটা অবশ্য জানাই ছিল। কোন রকম পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া সম্পূর্ণ নতুন একটা ভাষা নিয়ে প্রথম সেমিস্টারেই পাশ করে যাওয়া কোনভাবেই সম্ভব না, যেখানে পাসমার্ক হচ্ছে 50। তাই খুব একটা দুঃখ লাগছে না। এছাড়া আরকটা সান্তনার কথা হল, আরবি 1 এ ফেল করলেও বাকি সবগুলো বিষয়ে মমতাজ পেয়েছি। এমনিতে আমি খুব সিরিয়াস টাইপের ছাত্র না হলেও বাকি বিষয়গুলোতে মমতাজ পেয়ে যাওয়ার রহস্য হচ্ছে, প্রথম সেমিস্টারের সিলেবাসের কিছু কিছু অংশ বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে ছিল। তাই সেগুলো আমার কাছে একেবারে জলবত তরলং হয়ে গিয়েছিল।

ওহ মমতাজ মমতাজ যে করছি, মমতাজ মানেটাই তো বলা হয়নি। এটা ভেঙ্গে না বললে তো সবাই আবার এটাকে মরার কোকিলে খ্যাত মমতাজের সাথে গুলিয়ে ফেলবে। মমতাজ শব্দটার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে চমত্কার। কিন্তু পড়ালেখার ব্যাপারে লিবিয়াতে মমতাজ বলতে একটা গ্রেড বোঝানো হয়, যার রেঞ্জ হচ্ছে 85 থেকে 100 এর মধ্যে। বাকি গ্রেডগুলো হল যথাক্রমে জাইয়্যেদ জিদ্দান (75-84), জাইয়্যেদ (65-74), মক্ববুল (50-64), দায়ীফ (35-49) এবং দায়ীফ জিদ্দান (0-34)। একটা ব্যাপার অবশ্য আমার মাথায় এখনও ঢুকেনি, সেটা হচ্ছে যেখানে পাসমার্ক হচ্ছে 50 সেখানে 50 এর নিচের মার্কসগুলোর জন্য গ্রেডিং রাখার দরকারটা কি? কে কত অপমানজনক ভাবে ফেল করেছে সেটা জানানোর জন্য?

Leave a Reply