ফিল্ম রিভিউ > ডগ যে আফটারনুন
ইংলিশ সিনেমা আমার বলতে গেলে দেখাই হয় নি। টাইটানিক, ট্রয়, স্পার্টাকাস, চার্লিজ অ্যাঞ্জেলস, স্পাইডারম্যান টু, মিস্টার বিনের জনি ইংলিশ, জিম ক্যারির ব্রুস অলমাইটি – এই তো! সম্প্রতি প্রজন্ম ফোরামের আহমাদ মুজতবার কাছ থেকে ফাটাফাটি কিছু মুভি ডাউনলোড করার সাইট পাওয়ার পর থেকেই আবার ইংলিশ সিনেমা দেখার জন্য মনটা ছটফট করছিল। সাইটগুলোতে গিয়ে সাথে সাথেই দ্যা ম্যাট্রিক্স (The Matrix) সিনেমাটা ডাউনলোড দিয়ে দিয়েছিলাম। ছয় দিন লাগিয়ে আজ 350 মেগাবাইটের মুভিটা ডাউনলোড কমপ্লিট হল। তবে এই কয়দিন ম্যাট্রিক্সের অপেক্ষায় বসে না থেকে কম্পিউটারে সেভ করে রাখা দুটো মুভি দেখে শেষ করলাম। আজ দেখলাম ডগ ডে আফটারনুন (Dog Day Afternoon)। সেটার কথাই কিছু বলি।
ডগ ডে আফটারনুনের ঘটনাটা 1972 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের ম্যানহাটন ব্যাংকে ঘটা একটা সত্যিকারের ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। গ্রীষ্মের এক বিকালে সানি (আল পেচিনো) এবং স্যাল (জন ক্যাজেল) নামে দুই ব্যক্তি ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে ব্রুকলিন ব্যাংকে ঢুকে পড়ে। কিন্তু সেই মুহুর্তে ব্যাংক ভল্টে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা না থাকায় তারা যখন কি করা যায় ভাবছিল, ঠিক তখনই তারা পুলিশ ক্যাপ্টেন মরেটির কাছ থেকে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারে যে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ব্যাংকটাকে ঘিরে ফেলেছে।
সানি যখন বুঝতে পারে যে আসলেই তাদের পালিয়ে যাওয়ার আর কোন পথ নেই, তখন সে মরেটিকে শর্ত দেয় যে, তাদেরকে যদি একটা হেলিকপ্টার বা অন্ততপক্ষে একটা লিমোজিনে করে কেনেডি এয়ারপোর্ট এবং সেখান থেকে প্লেনে করে অন্য কোন দেশে (আলজেরিয়া) নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া না হয়, তাহলে তারা জিম্মীদেরকে হত্যা করবে। এফবিআই প্রতিনিধি শেলডন তার এ প্রস্তাবে রাজি হয় এবং কেনেডি এয়ারপোর্টের টারমাকে অপেক্ষা করার সময় চালাকি করে লিমোজিন ড্রাইভার মারফিকে (যে নিজেও একজন FBI এজেন্ট) পিস্তল বের করে স্যালের কপালে গুলি করার সুযোগ করে দেয়। স্যল সাথে সাথে মারা যায়, সানি ধরা পড়ে এবং জিম্মীরা সবাই উদ্ধার পায়।
ইংলিশ সিনেমা দেখার অভ্যাস না থাকার কারণে এবং ইংরেজি ভাষাটা ভালো আয়ত্তে না থাকাতে সিনেমাটার প্রচুর সংলাপ বুঝতে পারিনি। কিন্তু টানটান উত্তেজনাকর মুহূর্তের সিনেমাটার কাহিনী বুঝতে বিন্দুমাত্রও সমস্যা হয় নি। আলভী আহমেদের সামহোয়্যার ইন ব্লগে একবার পড়েছিলাম যে, মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর মেড ইন বাংলাদেশ নাকি ডগ ডে আফটারনুনের প্লট অবলম্বনে তৈরি। সিনেমাটার কাহিনীতে যথেষ্ট মিল যে নেই তা না, কিন্তু পরিচালনায় খুব কমই মিল পেয়েছি আমি। ফারুকীর পরিচালনা স্টাইল, বিশেষত নাটকের এবং বিজ্ঞাপনের আমি একনিষ্ঠ ভক্ত। কিন্তু মেড ইন বাংলাদেশ যে কতটা জঘন্য হয়েছে সেটা ডগ ডে আফটারনুন না দেখলে বুঝতে পারতাম না।
সিনেমাটার বিস্তারিত একটা রিভিউ লেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এখন ভোর চারটা বাজে। ঘুম আসছে। ফযরের নামাজ পড়েই লম্বা একটা ঘুম দিব। তাই এখন আর লিখছি না। মনে চাইলে পরে হয়তো লিখতে পারি। আপাতত সিনেমাটার দু’একটা ভুল দিয়ে শেষ করছি। বলা অবশ্যই বাহুল্য যে ভুলগুলো ইন্টারনেট থেকে পাওয়া।
1. যখন সানি ব্যাংক ম্যানেজারকে ভল্টটা খুলতে বলে এবং লক্ষ করে যে ম্যানেজার ভুল চাবি ব্যবহার করছে, তখন সে তার হাত থেকে চাবিটা নিয়ে যায় এবং ডান হাতে পিস্তল এবং বাম হাতে চাবি ধরে রাখে। কিন্তু এর পরের শটেই পিছন থেকে দেখা যায় যে সে দুই হাতেই পিস্তল ধরে রেখেছে। এবং তার পরের শটে আবার দেখা যায় চাবিটা আবার তার হাতেই আছে।
2. সানি যখন প্রথমবারের মতো এফবিআই এজেন্টের সাথে কথা বলে তখন সে ফ্লাড লাইটের আলো থেকে চোখ বাচানোর জন্য দু’হাত দিয়ে তার চোখ ঢেকে রাখে। কিন্তু পরের শটেই যখন তার পিছন দিক থেকে এফবিআই এজেন্টকে দেখানো হয়, তখন দেখা যায় যে তার দুই হাত দুই পাশে স্বাভাবিক ভাবেই আছে। আবার পরের শটে আগের মতো চোখ বাচানোর জন্য দুই হাত মাথার উপরে।
3. যে সময়ের ঘটনা দেখানো হয়েছে সে সময় নিউইয়র্কের গাড়িগুলোর লাইসেন্স প্লেটের রং ছিল নীলের উপর কমলা। কিন্তু সিনেমাতে দেখানো হয়েছে কমলার উপর নীল।
আপাতত এটুকুই লিখলাম। সময় পেলে আরো বিস্তারিত লিখব। পড়তে চাইলে নজর রাখুন। মন্তব্য আকারে আপডেট করা হবে। ও হ্যাঁ একটা কথা, যগ ডে আফটারনুনের বাংলা অনুবাদ “কুকুর দিবস অপরাহ্ন”কি খুব খারাপ হয়েছে?