রম্য রচনা > আহসান হাবীব > ভূমিকম্প
এক লোক বারে মদ খেতে বসেছে। হঠাৎ সে বেয়ারাকে ডাকল।
− বয়!
− জ্বী স্যার?
− থ্যাংকস তোমাকে।
− কেন স্যার?
− দারুণ ককটেল বানিয়েছ আজ, পুরো শরীর কাঁপছে! মনে হচ্ছে দারুণ নেশা হয়েছে।
− মাফ করবেন স্যার, ওয়াইন সার্ভ এখনো শুরু করিনি আমরা, ভুমিকম্প হচ্ছে।
− অ্যাঁ!
− আপনাকে প্লেন ওয়াটার দেওয়া হয়েছে।
তবে বিষয়টা প্লেন ওয়াটারের মতো সহজ নয় মোটেই।
ঢাকায় রিখটার স্কেলে 5.6 মাত্রার ভুমিকম্প হয়েছে। আতঙ্কে পাঁচ-ছয়তলা থেকে মানুষজন লাফিয়ে পড়ে হাত-পা ভেঙেছে। ব্যাপার খুবই সিরিয়াস। পাঁচ-ছয়তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে ছুটে নামতেও পদদলিত হয়ে কেউ কেউ আহত হয়েছে বলে শোনা গেছে।
তবে সবাই যে উঁচু বিল্ডিং থেকে ছুটে নিচের দিকেই নেমেছে তা কিন্তু নয়। কেউ কেউ ওপরের দিকেও ছুটেছে।
এ রকম একজনকে পাওয়া গেল। সে ওপরের দিকে ছুটছে। ছুটে নিচে নামতে নামতে একজন প্রশ্ন করল −
− কী ভাই, আপনি দেখি ওপরের দিকে ছুটছেন!
− হ্যাঁ … ছাদের দিকে যাচ্ছি।
− কেন?
− যত বড় বিল্ডিং, এটার নিচে ছুটতে ছুটতে পাড়া খেয়ে না হলে বিল্ডিং ভেঙে চাপা পড়ে সেই তো মরতেই হবে … মানে ঈশ্বরের কাছেই যেতে হবে … এর চেয়ে ছাদ থেকে এক লাফে ঈশ্বরের কাছে … শর্টকাট আর কি!
তবে কথা হচ্ছে, ভুমিকম্প থেকে বাঁচতে শর্টকাট কোনো পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। অপরিকল্পিত এই ঢাকা শহরে বড় ধরনের একটা ভুমিকম্প হলে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কল্পনা করা যাক না কী হয়! বড়সড় একটা ভুমিকম্প হলো ঢাকায়, কেউ বেঁচে নেই! দেখা গেল, শুধু একটা পরিবার বেঁচে আছে। তাদের বাড়ির কিছু হয়নি!
− কী করে এটা হলো? প্রশ্ন করল ন্যাশনাল জিওগ্রাফি থেকে কভার করতে আসা ‘ডকু টিম’-এর পরিচালক মি. জ্যাকব জোনস।
− কোনটা কী করে হলো?
− এই যে শুধু আপনার পরিবার আর আপনার বাড়ি টিকে গেল আর পুরো ঢাকা শহর অ্যাবানডেন্ট সিটি হয়ে গেল!
− আসলে কি জানেন, আমি ছিলাম দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা। দুর্নীতি করে এই বাড়িটা বানিয়েছিলাম। এই বাড়ির প্রতিটি ইটে দুর্নীতি আছে। তাই …
− তাই?
− তাই সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতাম … ভয়ে কাঁপতাম আমি, আমার পরিবারের সবাই, কখন দুদক ধরে! এবং বাড়িটা পর্যন্ত ভয়ে কাঁপত! তাই যখন বড়মাপের ভুমিকম্প হলো, সব কাঁপতে থাকল। তখন আমরা আমার বাড়ির কিছুই টের পেলাম না, দিব্যি রক্ষা পেয়ে গেলাম! মাইনাসে মাইনাসে প্লাস আর কি! হেঃ হেঃ … !
এই লেখাটি প্রথম আলোর রস+আলো থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।