কৌতুক > প্রেম/ভালোবাসা > আস্তাগফিরুল্লাহ
এক সুন্দরী তরুণী পঞ্চাশ তলা উঁচু এক ভবনের ছাদে হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গেল।
পড়তে পড়তে দশ তলা পার হয়ে সে যখন ঠিক চল্লিশ তলা পর্যন্ত আসল তখন এক বৃটিশ ভদ্রলোক (!) বারান্দা থেকে হাত বাড়িয়ে তাকে ধরে ফেলল। এভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় মেয়েটি খুশিতে আত্মহারা হয়ে অগ্র-পশ্চাত্ বিবেচনা না করেই সিনেমার ডায়লগের মতো গড় গড় করে বলল – আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন; কাজেই আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনার ঋণ শোধ করার জন্য আপনি যা চাইবেন আমি তাই দিব। বলুন আপনি কি চান?
বৃটিশ দেখল এ যেন না চাইতেই একেবারে শরবত। কাজেই সে সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে বলল, আমি বেশি কিছু চাই না – শুধু তোমাকে চাই। তোমার এই সুন্দর শরীরটা চাই। চল, আমার সাথে বিছানায় চল।
বৃটিশের এ অন্যায় আবদার শুনে বিন্দুমাত্র চিন্তা-ভাবনা না করে তরুণী বলল – ইতর, বদমাশ, জানোয়ার! ভেবেছিস এত সহজ? আমার জীবন বাঁচিয়ে এখন তার বিনিময়ে এই চাইছিস? দরকার নেই আমার এ জীবনের। তোর মতো পাপিষ্ঠের সাথে বিছানায় যাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। ছেড়ে দে আমাকে। ছেড়ে দে …
কাজেই বৃটিশ লোকটা তাকে ছেড়ে দিল এবং সে আবার পড়তে লাগল। পড়তে পড়তে আরো দশ তলা পেরিয়ে সে যখন ত্রিশ তলা পর্যন্ত এল তখন এক আমেরিকান ভদ্রলোক (!) হাত বাড়িয়ে তাকে ধরে ফেলল। আগেরবারের ঘটনা থেকে তরুণীর যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। কাজেই সে বেশি কিছু না বলে আমেরিকানকে শুধু তার জীবন বাঁচানোর জন্য একটা ধন্যবাদ দিল। কিন্তু আমেরিকানটা বৃটিশটার চেয়েও এক ডিগ্রী বেশি অসভ্য। সে নিজে থেকেই বলল, দেখ মেয়ে আমি এখনও তোমাকে বারান্দা থেকে সরিয়ে নেই নি। তুমি যদি আমার সাথে বিছানায় যেতে রাজি থাক, তাহলেই কেবল তোমাকে আমি সরিয়ে নিব। নইলে কিন্তু দিলাম ছেড়ে।
আমেরিকানের কথা শেষ হওয়ার আগেই তরুণী বলল, পেয়েছিস কি তোরা? মেয়ে দেখলেই ভোগ করতে ইচ্ছে করে? তোদের ঘরে কি মা-বোন নেই? দরকার নেই তোর দয়ার। ছেড়ে দে আমাকে। তোর হাতে যাওয়ার চেয়ে মাটিতে পড়ে মরাও অনেক ভালো। ছেড়ে দে …
কাজেই আমেরিকান লোকটাও তাকে ছেড়ে দিল এবং সে আবার পড়তে লাগল।
পড়তে পড়তে তরুণীটি আরো দশতলা পেরিয়ে গেল – কিন্তু এবার আর কেউ তাকে হাত বাড়িয়ে ধরল না। এই সময় তার একটু আফসোস হতে লাগল। তার মনে হল, ঐ দুজনের কথামতো তাদের সাথে বিছানায় গেলে কি এমন ক্ষতি হতো! অন্তত মারা যাওয়ার চেয়ে সেটাতো খারাপ হতো না! ইস, কেন যে সে ওদের কথায় রাজি হল না! তা হলে তো আর জীবনের আসল আনন্দগুলো উপভোগ করার আগেই বিদায় নিতে হতো না … হায় আর কেউ কি নেই তাকে বাঁচানোর? বিনিময়ে সে এবার সব দিতে রাজি আছে …
এসব ভাবতে ভাবতে সে যখন আরো দশতলা অর্থাত্ মোট চল্লিশ তলা পেরিয়ে ঠিক দশতলা উচুঁতে আসল, ঠিক তখন আরবীয় হুজুর তাকে হাত বাড়িয়ে ধরে ফেললেন। মেয়েটি এবার খুশিতে গদগদ হয়ে বলল – আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন! চলুন আমি আপনার সাথে বিছানায় যাব!
মেয়েটির মুখে এরকম নির্লজ্জ কথা শুনে হুজুর হতভম্ব হয়ে গেলেন। নিজের অজান্তেই “আসতাগফিরুল্লাহ” শব্দটা উচ্চারণ করে তিনি মেয়েটিকে হাত থেকে ছেড়ে দিলেন …
29 অগাষ্ট, 2008 at 9:24 am
হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না। আগে হাসি। হাঃ হাঃ হাঃ…
29 অগাষ্ট, 2008 at 2:38 pm
হাহাহা জট্টিল….আস্তাগফিরুল্লাহ….
31 অগাষ্ট, 2008 at 3:20 am
খুবই মর্মন্তিক একটি কৌতুক। কি বলা যায় কিছু আর বলার নেই।
12 সেপ্টেম্বর, 2008 at 12:18 pm
Dear Mr. Mozammel Hossain Toha Br,
My name is Haque Md Sanaul, Living in Tokyo. We will start a Biomonthly Bangla Magazine from Japan from 15th September . Its Name “Doshdik”. http://www.doshdik.com It will be Printed & online magazine. I like to want support from you for any kind of article.
Best Regards
Haque Md Sanaul
Tokyo, Japan
14 সেপ্টেম্বর, 2008 at 12:43 am
ধন্যবাদ সানাউল ভাই। সংবাদটা শুনে খুশি হলাম। আশা করি অন্যান্য অনলাইন ম্যাগাজিনের মতো এটা মাঝ পথে থমকে না গিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকবে এবং স্বীয় যোগ্যতায় জনপ্রিয় অর্জন করে নিবে।
আপনি লেখা পাঠানোর জন্য ইমেইল অ্যাড্রেস দেননি। সাইটে গিয়েও কিছু পেলাম না। তাই এখানেই আপলোড করে দিচ্ছি। আপনি যেহেতু নির্দিষ্ট কোন ধরনের প্রবন্ধের কথা উল্লেখ করেন নি, তাই প্রাথমিকভাবে আমি আমার লেখা একটা প্রেমের গল্পই দিচ্ছি।
গল্পটার নাম “নাম না জানা সেই মেয়েটি”। আপনাদের সুবিধার কথা ভেবে পিডিএফ ফরম্যাটে না দিয়ে ওয়ার্ড ফরম্যাটেই দিলাম। আশা করি গল্পটার নিচে আমার ব্লগের লিংকটা উল্লেখ করে দিতে ভুলবেন না। গল্পটা ডাউনলোড করে নিন এখান থেকে – http://tohamh.googlepages.com/NaamNaJanaSheiMeyeti.zip
20 জুন, 2009 at 11:04 am
দারুণ,খুব ভাল লাগল।ভবিষ্যতে আরো মজার মজার কৌতুক আশা করব।আমাদের কৌতুক পড়ার চাহিদাটা বাড়িয়ে দিলেন।
11 জুলাই, 2009 at 11:06 am
انا شاكر لاجل اظهار الاحاديث فى الانترنيت
29 জুলাই, 2009 at 9:52 am
কৌতুক > প্রেম/ভালোবাসা > আস্তাগফিরুল্লাহ
দারুণ,