শপিং – আহসান হাবীব

রম্য রচনা > আহসান হাবীব > শপিং

ঈদ আসছে। কাজেই ঈদের শপিংও শুরু হয়ে গেছে। তো, এক লোক গেছে এক দোকানে -
: একটা রুমাল দিন।
: রুমাল?
: হ্যাঁ, কেন রুমাল নেই?
: থাকবে না কেন, কিন্তু তাই বলে শুধু রুমাল? কী বলছেন আপনি? আমাদের কাছে শার্ট-প্যান্ট, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, জুতা, মোজা, পায়জামা-পাঞ্জাবি … ঈদে যা যা লাগে সবই আছে লেটেস্ট ডিজাইনের … ঈদ স্পেশাল। আর আপনি চাইছেন শুধু রুমাল?
: হ্যাঁ, আগে একটা রুমালই দিন।
দোকানদার বিরস মুখে একটা রুমাল দিল। বউনির সময় শুধু একটা রুমাল! সে হতাশ। ক্রেতা রুমালটা নিয়ে তার মুখ বাঁধল। যেমন করে ডাকাতেরা মুখ বাঁধে। তারপর পকেট থেকে একটা পিস্তল বের করল!
: এবার দিন।
: মা-মানে? দোকানদার এবার ভীত।
: মানে একটু আগে যা যা দিতে চেয়েছিলেন সব দিন … শার্ট-প্যান্ট, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, জুতা, মোজা, পায়জামা-পাঞ্জাবি … ঈদে যা যা লাগে সবই লেটেস্ট ডিজাইনের … ঈদ স্পেশাল বলে কথা!
: জি জি … (দোকানদার ততক্ষণে বুঝে গেছে ইনি কোন ধরনের শপিং করতে এসেছেন!)

এটা অবশ্য একটা অতিরঞ্জিত গল্প! এবার আসা যাক বাস্তবে। এবারও একটা লোক এল। এটা আরেক দোকান।
: দুইটা রুমাল দিন।
: রুমাল?
: হ্যাঁ, কেন, নেই রুমাল?
: থাকবে না কেন, কিন্তু তাই বলে শুধু রুমাল? কী বলছেন আপনি? আমাদের কাছে শার্ট-প্যান্ট, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, জুতা, মোজা, পায়জামা-পাঞ্জাবি … ঈদে যা যা লাগে সবই আছে লেটেস্ট ডিজাইনের … ঈদ স্পেশাল আর আপনি চাইছেন শুধু দুইটা রুমাল?
: হ্যাঁ … দুইটা রুমাল।
দোকানদার বিরস মুখে দিল। দুই রুমালের দাম মিটিয়ে লোকটা চলে যাচ্ছে। তখন দোকানদারের কৌতুহল হলো।
: ভাই, কিছু যদি মনে না করেন একটা প্রশ্ন করতে পারি?
: পারেন।
: ঈদের শপিংয়ে এসে শুধু দুটো রুমাল কিনলেন মাত্র?
: ভাই রে, ঈদে বেতন-বোনাস কিছু পাইনি, এখনো পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছি না। অফিসে গ্যাঞ্জাম চলছে। তাই দুটো রুমাল কিনলাম বাচ্চাদের জন্য।
: আপনি কি মনে করেন বাচ্চারা শুধু রুমালে শান্ত হবে? রুমাল দিয়ে কী করবে তারা?
: তাদের চোখ বাঁধব … যেন ঈদের চাঁদ দেখতে না পায়।

আসলে এটাও অতিরঞ্জিত গল্প, বরং প্রকৃত বাস্তবে ফিরে আসি। আমার এক বন্ধু আছে। বিরাট পয়সাওয়ালা সে। ঈদ শপিং কখনো দেশে করে না, বিদেশে করে। এবারও সে যাচ্ছে।
: দোস, তোর কিছু লাগবে? শপিংয়ে বাইরে যাচ্ছি…
: কেন, দেশে শপিং করা যায় না? দেশে দোকানপাট নেই?
: আছে, তবে বুঝলি না – বিদেশে ঈদ শপিং মানে বেড়ানো, শপিং দুটোই – রথ দেখা আর কলা বেচা একসঙ্গে …
: কিন্তু জানিস তো পৃথিবী বিখ্যাত এক পর্যটক বলেছেন, যারা ভ্রমণে গিয়ে কেনাকাটা করে, তারা আসলে অন্ধ …
বন্ধু এবার গলা নামিয়ে ফিসফিস করে বলে, দোস, আমি সত্যি অন্ধ … চোখে ছানি পড়েছে, অপারেশন করাতে যাচ্ছি … !!!

3 Responses to “শপিং – আহসান হাবীব”

  1. shafiur rahman Says:

    Can not be the font size bigger than this so that the viewer can see it very easily? Do not you see the type too small to read?

  2. মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা Says:

    শফিউর ভাই, আপনার কম্পিউটারে সম্ভবত বৃন্দা ছাড়া অন্য কোন বাংলা ফন্ট ইনস্টল করা নেই; তাই আপনার দেখতে সমস্যা হচ্ছে। আপনি http://tohamh.googlepages.com/Adarsha_Vrinda.zip এই লিংক থেকে আদর্শলিপি ফন্টটা ডাউনলোড করে আনজিপ করে নিন।

    এরপর আপনার কম্পিউটারের C:\WINDOWS\Fonts ফোল্ডারে গিয়ে Vrinda ফন্টটা ডিলিট করে দিয়ে সেখানে এই Adarsha_Vrinda ফন্টটা কপি-পেস্ট করে দিন। এরপর ব্রাউজার রিফ্রেশ করলেই দেখবেন সাইটটা সুন্দরভাবে পড়া যাচ্ছে।

  3. Shawon Says:

    hello toha bhai … golpo ta jos! erokom aro shundor shundor golpo apni amader upoher diben bole asha kori …. okey … bhaiya … khoda hafiz …

    apner site ta amar khub bhalo legeche … ami apner kach theke onek kchu shikte perechi .. dhonbad aro ekbar!!!


Leave a Reply