মোবাইল ফোন দিয়ে ডিম সিদ্ধ!


গুজবটা শুরু হয়েছিল আরো বছর খানেক আগে৷ অনেকেই হয়তো সেই সময় mobile phone fries your brain শিরোণামে একটা ই-মেইল পেয়ে থাকবেন৷ এই ই-মেইলের মূল বিষয় ছিল মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভয়াবহতা৷ ই-মেইলটাতে দাবি করা হয়েছিল যে, দুটো মোবাইল ফোনকে মুখোমুখি করে তাদের মাঝে একটা ডিম যদি এমনভাবে রাখা হয়, যেন ফোনদুটো ডিমটাকে দুইদিক থেকে স্পর্শ করে থাকে এবং এই অবস্থায় যদি ফোনদুটোর একটা থেকে অপরটাতে কল করা হয়, তবে ফোনদুটো থেকে নির্গত মাইক্রোওয়েভ রশ্মির প্রভাবে ডিমটা ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে হতে এমন অবস্থায় পৌঁছবে যে, 65 মিনিট পর সেটা আক্ষরিক অর্থেই সিদ্ধ হয়ে খাওয়ার উপযোগী হয়ে যাবে৷ এই বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনার পর মেইলটার উপসংহারে বলা হয়েছিল, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রশ্মি যদি ডিমের ভিতরের প্রোটিনকে সিদ্ধ করে ফেলতে পারে, তবে চিন্তা করুন সেটা আমাদের ব্রেইনের প্রোটিনের জন্যও যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে!

যদিও ই-মেইলটার শেষে এই তথ্যের কোন সূত্রের উল্লেখ ছিল না, তবুও এটা অবিশ্বাসের তেমন কোন কারণ ছিল না৷ কারণ আমরা
মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে খাবার-দাবার গরম করার ধারণার সাথে পরিচিত৷ এছাড়া মেইলটিতে পদ্ধতিটা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশাবলিও দেওয়া ছিল৷ তবে কেউ যদি একটু ধৈর্য্য ধরে পরীক্ষাটা করেন তাহলেই বুঝতে পারবেন বাস্তবে এর সত্যতা কতটুকু৷ 65 মিনিট একটানা কল করা যেহেতু সবার পক্ষে সম্ভব হয় না, তাই অনেকেই হয়তো ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষাটা করেন নি৷ যারা সাহস করে পরীক্ষাটা করেছেন, তাদের একজন হচ্ছেন বৃটেনের সাউদাম্পটনের Charlie Ivermee৷

চার্লি যে সময়ের কথা বলেছেন, তখন সেখানে প্রতি কলের প্রথম দশ মিনিট ফ্রি ছিল৷ কাজেই তিনি তার আট বছর বয়সী মেয়ের সহায়তায় দশ মিনিট করে পরপর সাত বার অর্থাত্‍ মোট সত্তর মিনিট ধরে কল করে পরীক্ষাটা সম্পন্ন করেন৷ কিন্তু সিদ্ধ হওয়া তো অনেক পরের কথা, এতক্ষণ কল করা সত্ত্বেও এর তাপমাত্রা সামান্য পরিমাণও বৃদ্ধি পায় নি৷ অর্থাত্‍ পুরো মেইলটাই ছিল একটা ধোঁকা!

ব্যাপারটা যে আসলেই বোগাস, সেটা অবশ্য পরীক্ষা না করেও একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেই বুঝা যায়৷ কারণ আমরা যখন মোবাইল ফোন দিয়ে কল করি, তখন এটা থেকে নির্গত রশ্মিগুলো কখনোই সরাসরি অন্য মোবাইল ফোনে যায় না৷ রশ্মিগুলো প্রথমে বেস স্টেশনে ট্রান্সমিট হয় এবং এরপর সেখান থেকে প্রাপক মোবাইল ফোনে প্রেরিত হয়৷ কাজেই দুটো ফোনকে পরস্পরের দিকে মুখ করিয়ে রাখা একটা ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই না৷ চার্লি বলেন, এটা খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার যে মানুষ এরকম অবাস্তব বিষয়গুলো খুব সহজেই বিশ্বাস করে ফেলে৷ তারমতে যে বিষয়টা সত্য না মিথ্যা সেটা মাত্র এক ঘন্টার মধ্যেই প্রমাণ করে দেওয়া যায়, সেটা শুধুশুধু বিশ্বাস করে প্রযুক্তির প্রতি ভীতি তৈরি করাটা খুবই হাস্যকর একটা ব্যাপার৷

Advertisements

3 Responses to “মোবাইল ফোন দিয়ে ডিম সিদ্ধ!”

  1. সোহাগ ভূইঁয়া Says:

    প্রথমে পড়ে একটু ভয় পেয়ে গেলেও শেষের দিকে এসে নিশ্চিন্ত হলাম!
    পড়ে মজা লাগলো। ধন্যবাদ। 🙂

  2. ডাঃ আশেক মাহমুদ Says:

    সবসময় ব্যস্ত থাকি , তাই আগের মত নেটে বসা হয় না।আজ হঠাৎ নেটে বসে কাকতালিয় ভাবেই লিখাটা চোখে পড়ল।সত্যি খুব ভাল লেগেছে।

  3. kuasha Says:

    ami to first e voi paye chi lam.karon amar fone to amar kane SUPER GLUE ar moto lage thak to!!!kinto shes-e porar por mon ta shanto hoi che!! MY GOD!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!


মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: