মাইক্রোসফট সাপোর্ট সেন্টার


কৌতুক > কম্পিউটার > মাইক্রোসফট সাপোর্ট সেন্টার

টেক্সাস থেকে বেশ কিছু যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হওয়া একটা ছোট ইঞ্জিনবিশিষ্ট চার্টার প্লেন সিয়াটলের কাছাকাছি এসে ঘন কুয়াশার মধ্যে পড়ে গেল। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো ঠিক এই সময় তার ইঞ্জিনটাও বিগড়ে গেল। প্লেনের পাইলট উপায়ান্তর না দেখে আশেপাশে ল্যান্ড করার উপযোগী জায়গার খোঁজ করতে লাগল। কিন্তু রেডিও সহ অন্যান্য যন্ত্রপাতিগুলোও একে একে সাড়া দিতে অস্বীকার করার ফলে প্লেনের অবস্থান জানতে না পারার কারণে সেটা খুব একটা সহজ হল না।

এভাবে ঘন্টাখানেক যাওয়ার পর পাইলট টের পেল যে, প্লেনের জ্বালানীও কমে আসছে। তাই সে প্লেনটাকে যথাসম্ভব নিচে নামিয়ে আনল এবং খালি চোখের উপর ভরসা করে ল্যান্ড করার মতো জায়গা খুঁজতে লাগল। এমন সময় কুয়াশা একটু কমে আসার কারণে সে একটু দূরেই একটা উঁচু ভবন দেখতে পেল, যার পঞ্চম তলায় এক ভদ্রলোক নিবিষ্ট মনে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করে যাচ্ছিলেন। পাইলট খুবই আশান্বিত হয়ে প্লেনটাকে ঘুরিয়ে বিল্ডিংটার জানালার সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় চিত্কার করে লোকটাকে জিজ্ঞেস করল, এই যে ভাই, বলতে পারেন আমি এখন ঠিক কোথায় আছি? উত্তরে ভদ্রলোক বললেন, আপনি এই মুহূর্তে একটা ছোট ইঞ্জিনবিশিষ্ট চার্টার প্লেনের ভেতরে আছেন।

ভদ্রলোকের এই উত্তর শুনে যাত্রীরা যারপরনাই হতাশ হলেও পাইলট আনন্দে প্রায় লাফিয়ে উঠল। সে সাথে সাথে প্লেনটাকে বিল্ডিংটা থেকে ঠিক 100 মিটার সামনে নিয়ে এরপর ঠিক 275 ডিগ্রী ঘুরিয়ে নিল। তারপর সোজা 5.3 কিলোমিটার গিয়ে আশেপাশে কোন কিছুর দিকে না তাকিয়ে একেবারে আক্ষরিক অর্থেই চোখ বন্ধ করে প্লেনটাকে নিখুঁতভাবে ল্যান্ড করিয়ে ফেলল। আর ঠিক সেই মুহূর্তে প্লেনের জ্বালানী সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেল।

বিস্মিত যাত্রীরা প্লেন থেকে নেমেই পাইলটকে ঘিরে ধরল এবং জিজ্ঞেস করল যে সে কিভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করল। পাইলট উত্তর দিল, খুবই সহজ। আমি যখন ঐ ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম যে আমি কোথায়, তখন সে যেই উত্তরটা দিল সেটা ছিল একশ পার্সেন্ট সঠিক কিন্তু সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। কাজেই আমি বুঝে গেলাম যে এটা হচ্ছে মাইক্রোসফট সাপোর্ট সেন্টার অফিস। আর সিয়াটল এয়ারপোর্টটা এমএস সাপোর্ট সেন্টার থেকে কতদূরে সেটা তো আমার জানা ছিলই। 🙂

Advertisements
Posted in হাসির ভান্ডার. ট্যাগ সমুহঃ , , , , , , , . মাইক্রোসফট সাপোর্ট সেন্টার তে মন্তব্য বন্ধ
%d bloggers like this: