অকেজো করে দিন ডেস্কটপকে – ভড়কে দিন অনভিজ্ঞ ব্যবহারকারীকে


উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে প্রয়োজন হলেই ডেস্কটপের আইকনগুলোকে লুকিয়ে রাখা যায়। কিন্তু সাধারণত এর কোন প্রয়োজন হয় না। কারণ ডেস্কটপ রাখাই হয়েছে মূলত বিভিন্ন প্রোগ্রাম এবং ফাইল-ফোল্ডারের শর্টকাট আইকনগুলো প্রদর্শন করার জন্য – সেগুলো লুকিয়ে রাখার জন্য নয়। তবে আইকন লুকিয়ে রাখার এই পদ্ধতিটা ব্যবহার করে আর কিছু করা না গেলেও অন্তত নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের সাথে একটু মজা করা যায়। আপনার যদি এমন কোন বন্ধু থাকে যে সবেমাত্র কম্পিউটার কিনেছে এবং এখনও উইন্ডোজের খুঁটিনাটি বিষয়ের সাথে খুব ভালোভাবে পরিচিত হয় নি, তবে নিচে বর্ণিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে আপনি তার ডেস্কটপকে এমনভাবে অকেজো করে দিতে পারবেন, যে সে বেচারা ভাববে তার কম্পিউটারটাই বোধহয় নষ্ট হয়ে গেছে।

পদ্ধতিটা খুবই সহজ এবং বেশ মজাদার। প্রথমেই ডেস্কটপে গিয়ে কী-বোর্ড থেকে প্রিন্ট স্ক্রীন (F12 কী এর ঠিক ডান পাশে অবস্থিত) কী প্রেস করে ডেস্কটপের একটা স্ক্রীনশট তুলে নিন। এবার Start > All Programs > Accessories থেকে Paint প্রোগ্রামটা চালু করে এতে CTRL+V প্রেস করুন অথবা এর মেনুবার থেকে Edit > Paste এ ক্লিক করুন। এর ফলে এখানে ডেস্কটপের ছবিটা পেস্ট হয়ে যাবে। এবার ফাইলটিকে একটা নাম দিয়ে (মনে করি Desktop.jpg) ডেস্কটপ ছাড়া অন্য যেকোন স্থানে (মনে করি My Documents এ) সেভ করুন।

এবার ডেস্কটপে ফিরে গিয়ে খোলা জায়গায় মাউজের রাইট বাটন ক্লিক করে প্রাপ্ত মেনুর Arrange Icons By থেকে Show Desktop Icons আইটেমের উপর ক্লিক করে এর পাশের টিকচিহ্নটি তুলে দিন। এরফলে ডেস্কটপ খালি হয়ে যাবে অর্থাত্‍ কোন আইকন দেখা যাবে না। এখন মাই ডকুমেন্টস থেকে একটু আগে সেভ করা Desktop.jpg ফাইলটা চালু করে এর উপর রাইট ক্লিক করে প্রাপ্ত ড্রপ ডাউন মেনু থেকে Set As Desktop Background সিলেক্ট করুন। এরফলে আপনার তোলা আইকন সহ ডেস্কটপের ছবিটি বর্তমান আইকন বিহীন ডেস্কটপের ওয়ালপেপার হিসেবে সেট হয়ে যাবে। ফলে প্রকৃতপক্ষে ডেস্কটপে কোন আইকন না থাকা সত্ত্বেও সবগুলো আইকনকে যথাস্থানেই দেখা যাবে। কিন্তু যেহেতু সেগুলো আসলে আইকন নয়, কাজেই সেগুলোর উপর যতই ক্লিক করা হোক, কোন লাভ হবে না।

এখন এই পদ্ধতি যদি আপনি আপনার এমন কোন বন্ধুর কম্পিউটারে প্রয়োগ করেন, যে নতুন কম্পিউটার কিনেছে এবং কম্পিউটার সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানে না, তাহলে সে যখন দেখবে আইকনগুলোতে ক্লিক করা সত্ত্বেও কোন কাজ হচ্ছে না, স্বভাবতই সে একটু ঘাবড়ে যাবে। তার ঘাবড়ে যাওয়াকে নিশ্চিত করার জন্য আপনি টাস্কবারও হিডেন করে রাখতে পারেন। এরফলে সে স্টার্ট বাটনে ক্লিক করেও কোন সাড়া পাবে না। ফলে সে এতই নার্ভাস হয়ে পড়বে যে, সম্ভবত তার উইন কী প্রেস করে স্টার্ট মেনু চালু করার আইডিয়াও মাথায় আসবে না। সে শুধু বারবার কম্পিউটার রিস্টার্টই করতে থাকবে।

অবশ্য সে যদি উইন্ডোজ কী প্রেস করতে চায়ও সেটাকেও অকেজো করার ব্যবস্থা আছে। রেজিস্ট্রি এডিটর থেকে এই কী ডিজ্যাবল করে রাখা যায়। স্টার্ট মেনু চালু করার আরেকটি উপায়ও অবশ্য আছে – CTRL+ESC প্রেস করা। এটা বন্ধ করার সহজ কোন পদ্ধতি আমার জানা নেই। আপনি ইচ্ছে করলে ঝামেলা এড়ানোর জন্য কন্ট্রোল প্যানেল থেকে কী-বোর্ডটাই আন ইনস্টল করে রাখতে পারেন।

আশা করা যায়, এগুলো ঠিকঠাক ভাবে করতে পারলেই আপনার বন্ধুর অবস্থা ত্রাহি মধুসূদন হয়ে যাবে। আর সে মুহূর্তে আপনি যদি তার পাশে থাকেন, তাহলে তার কম্পিউটারের অবস্থা যে কি রকম শোচনীয় সে সম্পর্কে একগাদা লেকচার দিয়ে মড়ার উপর খাড়ার ঘা বসিয়ে দিতে পারেন। চাইলে তার এই জঘন্য পারফরম্যান্স বিশিষ্ট (!) কম্পিউটারটি আপনার কাছে কম দামে বিক্রি করে ফেলার জন্য প্ররোচিতও করতে পারেন! 🙂 তবে যাই করুন, বেচারা মনের দুঃখে কেঁদে ফেলার আগেই আশা করি সব খুলে বলবেন।

Advertisements

5 Responses to “অকেজো করে দিন ডেস্কটপকে – ভড়কে দিন অনভিজ্ঞ ব্যবহারকারীকে”

  1. নাজমুল Says:

    আইডিয়াটা দারুন বটে। কিছুটা দুঃখজনকও। তবে নিজের কার্য সিদ্ধির জন্য এটি একটি মোক্ষম অস্ত্রই বলা যায়। ধন্যবাদ।

  2. মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা Says:

    আমি নিজে এটা প্রয়োগ করেছিলাম আমাদের ইউনিভার্সিটির এক লেকচারারের উপর। আমাকে তার অফিসের রুমে অপেক্ষা করতে বলে বেরিয়ে গিয়ে আর ফিরে আসছিল না, এমন বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম, কিছু করার না পেয়ে শেষে তার কম্পিউটারে দিলাম এটা প্রয়োগ করে।

    ভদ্রলোক ফিরে এসে বার বার ক্লিক করেও সাড়া না পেয়ে শেষে কম্পিউটার রিস্টার্ট করে দিলেন। পরে কি হয়েছিল আর বলতে পারি না।

  3. Jakaria Says:

    http://computerbd.blogspot.com যাতে মাত্র এক ক্লিকে দীর্ঘ দিন ধরে প্রত্রিকায় প্রকাশিত কম্পিউটার বিষয়ক (প্রয়োজনীয়) লেখাগুলো পড়ে ফেলতে পাড়েন।

  4. ডাঃ আশেক মাহমুদ Says:

    সত্যি আমি আভিভূত।

  5. এস. এম. তালহা জুবায়েদ Says:

    সত্যিই খুবই মজার!!! আমার সুন্দরী ফুফাতো বোনকে তো এাহি মধুসুদন বানিয়ে ছেড়েছিলাম! 4 বছর পিছে ঘুরেও যেখানে হিরো হতে পারিনি সেখানে এখন তো কাজিনটার কাছে আমি হিরো বনে গেছি! ধন্যবাদ ত্বোহা ভাই.


মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: