হায় রে! প্রথম আলোর আব্দুল কাইয়ূমও দেখি কপি-পেস্ট করে!


প্রথম আলোর জনপ্রিয় সাময়িকী “ছুটির দিনে”র কার্যকারণ বিভাগটি আমার খুবই প্রিয় একটি বিভাগ। এর লেখক আব্দুল কাইয়ূম এখানে বিজ্ঞানের বিভিন্ন মজার মজার বিষয় এবং আমাদের বাস্তব জীবনে ঘটা বিভিন্ন ঘটনার বৈজ্ঞানিক কারণগুলো খুব সহজ ভাষায় চমত্কার ভাবে ব্যাখ্যা করেন। সঙ্গত কারণেই এর লেখক আব্দুল কাইয়ূমকে আমি আমার একজন প্রিয় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখকের তালিকায় স্থান দিয়েছিলাম। কিন্তু আজকের কার্যকারণ বিভাগের প্রবন্ধটা পড়ে আমার একটু আশাভঙ্গ হল বৈকি।

আব্দুল কাইয়ূমের আজকের প্রবন্ধটির নাম “সুইমিং পুলে সাতারের পর কেন আবার গোসল করতে হয়”। প্রবন্ধটা
নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় এবং তথ্যবহুল। কিন্তু ঠিক এই প্রবন্ধটিই আমি দিন কয়েক আগে ইয়াহুতে পড়েছিলাম। আমি নিজেও ওটা অনুবাদ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু পরে আর করা হয়নি। ঐ প্রবন্ধটা এবং আব্দুল কাইয়ূমের প্রবন্ধটা পড়লে পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় আব্দুল কাইয়ূম ওটাকে অনুবাদ করেছেন।

তিনি যে ওটা ইয়াহু থেকে অনুবাদ করেছেন তার পক্ষে একটা ভালো যুক্তি হল আমরা বাংলাদেশীরা সাধারণত তাপমাত্রাকে সেলসিয়াস হিসেবে প্রকাশ করি, কিন্তু অনেক দেশেই সেটাকে ফারেনহাইটে প্রকাশ করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই ইয়াহুর প্রবন্ধটিতে বেইজিংয়ের তাপমাত্র ৭০ ডিগ্রী ফারেনহাইট লেখা হয়েছিল এবং আব্দুল কাইয়ূমও সেটাকে ফারেনহাইটই লিখেছেন। তিনি এমনকি সেলসিয়াসে কনভার্ট করার কষ্টটাও করেন নি।

অনুবাদ করাটা অবশ্য খুবই ভালো অভ্যাস। আমরা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন প্রবন্ধ ইন্টারনেট থেকে অনুবাদ করে বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করি। কিন্তু এক্ষেত্রে একটা সাধারণ নিয়ম হচ্ছে অনুদিত প্রবন্ধের নিচে মূল লেখকের নাম উল্লেখ করে দেওয়া। আব্দুল কাইয়ূম সেটা করেন নি।

আমি নিজে বিজ্ঞানে খুবই দুর্বল একজন ছাত্র। বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা অনুবাদ করার কোন যোগ্যতাই আমার নেই। তবুও অনেকটা শখের বশে এবং নিজের লেখার স্টাইলকে উন্নত করতে আমি মাঝে মাঝে কিছু প্রবন্ধ অনুবাদ করার চেষ্টা করি এবং সেগুলো বিভিন্ন সাইটে প্রকাশ করি। এসব ক্ষেত্রে আমি প্রবন্ধের নিচে “অমুক সাইট হতে অমুক লেখকের তমুক প্রবন্ধ অবলম্বনে” কথাটা লিখে দেই। এটা সম্ভবত একটু বেশি উদারতা। অনেকে শুধু “ইন্টারনেট থেকে” কথাটা লিখেই সন্তুষ্ট থাকতে চান। কিন্তু আব্দুল কাইয়ূম সেটাও করেন নি।

সূত্র উল্লেখ না করে অনুবাদ অনেকেই করে। কিন্তু আব্দুল কাইয়ূমের মতো স্বনামধন্য লেখকদের কাছ থেকে কি আমরা এই সংস্কৃতি আশা করতে পারি?

আব্দুল কাইয়ূমের লেখা প্রবন্ধটা এখানে দিলাম :

কার্যকারণ
সুইমিং পুলে সাঁতারের পর কেন আবার গোসল করতে হয়
আব্দুল কাইয়ুম
সরাসরি টিভি সম্প্রচারে অলিম্পিক খেলা দেখার সময় আমরা লক্ষ করেছি, প্রতিযোগিতা শেষে সাঁতারুরা সুইমিং পুল থেকে উঠেই একপাশে গিয়ে কলের ঝরনায় গা ধুয়ে নেন। প্রশ্ন ওঠে, সুইমিং পুলের পানির মধ্যে এতক্ষণ সাঁতারের সময় তো যথেষ্ট গোসল হয়েছে, তাহলে আবার কেন গোসল করার দরকার পড়ে? যে ঝরনায় তাঁরা গোসল করেন, সেটা বলতে গেলে খোলামেলা, সুইমিং পুলেরই পাশে। কোনো আড়াল নেই। অর্থাৎ এটা আসলে দৈনন্দিন গোসল নয়।
দুটি কারণে আবার গোসল করতে হয়। প্রথমত, সুইমিং পুলের পানিতে জীবাণুনাশক হিসেবে ক্লোরিন থাকে কিছুটা বেশি মাত্রায়। এই পানিতে বেশিক্ষণ সাঁতার কাটলে ক্লোরিনের প্রভাবে গায়ের চামড়ায় একটা খসখসে ভাব আসে। এটা ধুয়ে পরিষ্ককার করার জন্য কলের পানিতে গোসল করে নেওয়া একটা স্বাস্থ্যসম্মত বিধি।
দ্বিতীয়ত, সুইমিং পুলের পানি আর আবহাওয়ার তাপমাত্রার পার্থক্যজনিত সমস্যা গা-সহনীয় করে নেওয়ার জন্য গোসল করতে হয়।
বেইজিংয়ে বাতাসের তাপমাত্রা ছিল ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি, আর সাঁতারের পানির তাপমাত্রা ছিল ৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। সাঁতার থেকে ওঠার পর শরীরের মাংসপেশি যেন তাপমাত্রার পার্থক্যের জন্য সংকুচিত হয়ে না যায়, সে জন্য বাইরের পানির ঝরনায় গোসল অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
শুধু পরেই নয়, সাঁতারের আগেও গোসল করার নিয়ম রয়েছে। শরীরে ঘাম ও ময়লা থাকে। সুইমিং পুলে অনেকে সাঁতার কাটেন। তাই পানি যথাসম্ভব পরিষ্ককার রাখার জন্য বাইরের পানিতে গা ধুয়ে সাঁতারে নামার সাধারণ নিয়মটি সবাই মেনে চলেন। সুইমিং পুলে নামার আগে কলের পানিতে গা ভিজিয়ে নিলে বায়ুমন্ডল ও পানির তাপমাত্রার পার্থক্য কিছুটা কমিয়ে আনা যায়। এ কারণেও সাঁতারের আগে গোসলের নিয়মটি সাধারণত মেনে চলা হয়।

ইয়াহুর প্রবন্ধটা আরো দিন চার-পাচেক আগে ইয়াহুর হোমপেজে পড়েছিলাম। এখন আর খুজে পাচ্ছি না। পেলে এখানে দিতে পারতাম।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: