ইনশাআল্লাহ্ সমাচার


আমার দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে একটু ভাষা বিষয়ক প্যাচাল পাড়ি। একটা প্রশ্ন দিয়েই শুরু করি। মনে করুন আপনি কাউকে তার পরীক্ষার ফলাফল জিজ্ঞেস করলেন, “পাশ করেছ?” উত্তরে সে যদি বলে “ইনশাআল্লাহ্‌”, তাহলে আপনি কি বুঝবেন? সে কি পাশ করেছে, নাকি ভবিষ্যতে পাশ করার আশা আছে?

বাংলায় ইনশাআল্লাহ্‌ শব্দটা সাধারণত ভবিষ্যত বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই কেউ এরকম উত্তর দিলে আমরা স্বভাবতই ধরে নিতে পারি যে সে এবার পাশ করেনি, তবে ভবিষ্যতে আল্লাহ্‌র ইচ্ছা হলে পাশ করলেও করতে পারে। wink

আরবিতে কিন্তু ইনশা আল্লাহ্ শব্দটার ব্যবহার আরো অনেক ব্যাপক। আরবীয়রা শুধু ভবিষ্যত নয়, বর্তমান এমনকি অতীত কাল বর্ণনার সময়ও ইনশা আল্লাহ্‌ শব্দটা ব্যবহার করে। উদাহরণ চাই?  দিচ্ছি। তার আগে ইনশা আল্লাহ্‌ শব্দটার অর্থ জেনে নেই। ইনশা আল্লাহ্ শব্দটার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়।

উদাহরণ – :

1. ট্যাক্সিতে উঠলেই ড্রাইভার জিজ্ঞেস করে,
: ওয়েন ইনশা আল্লাহ্‌? [আল্লার ইচ্ছায় কোথায় যাবেন?]
: উত্তর দিতে হয় : জামেয়া ইনশা আল্লাহ্‌। [ইউনিভার্সিটিতে]

2. আপনি যদি নিজেই ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করতে চান সে যাবে কি না তাহলে,
: তেমশি জামেয়া? [ইউনিভার্সিটিতে যাবেন?]
: ইনশা আল্লাহ। [আল্লার ইচ্ছায় – এখানে যাব শব্দটা উহ্য]

3. কাউকে রেজাল্ট জিজ্ঞেস করতে,
: নাজাহ্‌ত? [পাশ করেছ?]
: ইনশা আল্লাহ্ [আল্লার ইচ্ছায় – এখানে করেছি শব্দটা উহ্য]

4. কেউ ছাত্র কিনা জিজ্ঞেস করতে,
: তালেব হান্দসা? [ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র?]
: ইনশা আল্লাহ্‌ [আল্লার ইচ্ছায়]

এভাবে আরবীয়রা বলতে গেলে প্রায় প্রতিটা বাক্যেই ইনশা আল্লাহ শব্দটা ব্যবহার করে থাকে। সেই তুলনায় বাংলায় এই শব্দটার ব্যবহার হয় না বললেই চলে। আমর শুধুমাত্র ভবিষ্যত কালে কোন ঘটনা ঘটবে বুঝাতেই এটা ব্যবহার করি। তাও যদি নিশ্চিত থাকি, তাহলে ব্যবহার করি না। কেবলমাত্র অনিশ্চিত হলে, যেটা ভাগ্যের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, সেক্ষেত্রেই এটা ব্যবহার করি। প্রায়ই দেখা যায় কেউ বলল যে সে অমুক কাজটা করবে। তখন পাশ থেকে আরেকজন স্মরণ করিয়ে দেয়, ইনশা আল্লাহ্‌ বল।

অর্থাত আমরা ইনশা আল্লাহা শব্দটিকে এই অর্থে ব্যবহার করি – “যদি আল্লাহ্‌র ইচ্ছা হয়, তাহলে এই কাজটা হতে পারে”। মজার ব্যাপার হচ্ছে ইনশা আল্লাহ্ শব্দটার আভিধানিক অর্থ কিন্তু অনেকটা এরকমই। শব্দটা মূলত তিনটা শব্দের সমষ্টি – إن شاء الله‏ – ইন শা আল্লাহ্‌। ইন অর্থ যদি, শা অর্থ ইচ্ছা এবং আল্লাহ্‌ অর্থ তো আল্লাহ্‌ই। সুতরাং এর অর্থ দাড়ায় “যদি আল্লাহ্‌র ইচ্ছা হয়।” কিন্তু আরবি ভাষায় বর্তমানে এর প্রয়োগ আভিধানিক অর্থ ছাড়িয়ে অনেক ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এখন এটার ব্যবহারিক অর্থ দাড়িয়েছে “আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়”। ফলে এটাকে কাল নির্বিশেষে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে সবশেষে একটা কথা বলি, আরবদের ইনশা আল্লাহ্‌, আল হামদু লিল্লাহ্‌ প্রভৃতি শব্দ ব্যবহারের বাহুল্য দেখে কেউ ভাববেন না যে তারা সবাইই অসম্ভব ধর্মপ্রাণ। ভাষার উপর ধর্মের প্রত্যক্ষ প্রভাব থাকলেও ভাষা দিয়ে ধর্মানুরাগিতা বিচার করা সম্ভব না।

Advertisements

7 Responses to “ইনশাআল্লাহ্ সমাচার”

  1. مهدي خادم Says:

    Dear
    i don’t know what your blog language.
    can u send me some information about it?

  2. মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা Says:

    This is Bangladeshi (Bangla/Bengali) language. I am a Bangladeshi but I live in Libya. This post is about the differences in uses of the word Insha-Allah in Bangladesh and Libya.

    May I know something about you? How did you find my blog?

  3. مهدي خادم Says:

    i saw your blog link in my wordpress dashboard. I coudn’t read your title but I saw Insha-Allah in your post link and clicked the link.

  4. ফ্লোরেন্স রিয়া Says:

    খুব সুন্দর করে লিখেছেন, পড়ে ভালো লাগলো, এতোটা জানতাম না। আমি ইসলাম ধর্মীয় নই, তবে বাংলাদেশের মেয়ে আমি (বর্তমানে ভারতে আছি বিয়ের পরে), অনেক বন্ধুবান্ধবীরাই ইসলাম ধর্মী, এতোটা সুন্দর করে কেউ বুঝায়নি আগে। জারি রাখুন, আপনার লেখায় অনেক কিছু জানা যাবে।

    • mrinal roy Says:

      although post is quite old and i don’t know whether this will draw your attention or not. like u i am not a follower of islam too. but i don’t think there is any relation between a language with any relegion. language cannot be confined to any relegion, nor with any geographical boundary. India, for example, being a vast country with multi relegion, multi lingual and multiethnic entity. but all the followers of islam here does not necressarily know urdu. for example, followers of islam in west bengal have bangla as their mother tongue, in tamilnadu, they speak in tamil etc etc. the language is originated from urtu, a mixture of persian arabic and local hindi, used by islamic soldiers invading india and staying in tents. the meaning of urtu is tent. it is a very polished and elitist language like french and bengali. many great indian writers of non urdu mother tongue wrote in urdu. Premchand, u can say Charles dickens of india is one such writer. khanam, ye to aapki urdu zuban pe dilchaspi lene wali baat hai.
      feelhal ke liye sabbah khair. KHUDA HAFIZ.
      AAPKE JAWAB KE INTEZAR ME.
      -mrinal roy

  5. mrinal roy Says:

    i am bengali and been living in lucknow, famous for tehzib, in india for quite a long time. lucknow is a centre of study for urdu and persian literature. Adaab/ assalam aleiqum /khuda hafeez from someone allah hafeez are very common to be heard here. But Insha – Allah, i find, is used mostly by elite muslims especially shia muslims. i got many friends from Iran and they, i found, using Insha-Allah invariably with every sentence and it is very pleasing t the ears too. So far, my understanding about its meaning was God Willing. But thanks for the information that it is also used as blessings of Allah.


মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: