প্রসঙ্গ শাপলা চত্বর হত্যাকান্ড


 হেফাজতের কুরআন পোড়ানো

ওয়েল, হেফাজতের ডাকে আসা হাজার হাজার মানুষ সত্যিকার জিহাদী না হতে পারে, সত্যিকার ধর্মপ্রাণ না হতে পারে, জামাতকে রক্ষার জন্যও আসতে পারে। কিন্তু তারা তো আর অমুসলমান না, বা নাস্তিকও না! তাহলে তারা কুরআন পোড়াবে কেন?

হতে পারে তারা অনেক কিছু পুড়িয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বইয়ের দোকানও ছিল, সেই বইয়ের দোকানে কুরআন শরীফও ছিল। কিন্তু ইচ্ছে করে কুরআন পুড়িয়ে তাদের লাভটা কি? যেসব তথাকথিত সুশীল নাস্তিকেরা “দেখুন হেফাজত কুরআন পুড়িয়েছে” বলে ফেসবুক গরম করছেন, তারা কি আসলে নামান্তরে ধর্মকে নিয়েই রাজনীতি করছেন না? অথচ এরাই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার! আর কতদিন এরকম ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের রাজনীতি করবেন, ভাই?

অবশ্য এইসব সুশীলদের কুরআন শরীফ নিয়ে রাজনীতি নতুন না। সাঈদীর রায়ের পরপর জামাতের হরতালের আগে দিয়ে এরা ঠিক বাঁশের কেল্লা স্টাইলে প্রচার শুরু করেছিল, জামাত নাকি প্ল্যান করেছে কুরআনে আগুন দিয়ে আওয়ামী লীগের নাম দিবে। কোথায় কী?

কথা হচ্ছে, এবারও কি ব্যাপারটা সেরকমই? আগুন কি আসলেই হেফাজতরাই লাগিয়েছে? নাকি তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লাগিয়েছে? বাংলাদেশের জিওগ্রাফী সম্পর্কে ভালো আইডিয়া নেই। কিন্তু অনেকেই যেভাবে গুগল আর্থের ছবি দিয়ে হেফাজতের অবস্থান ভার্সেস বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট তথা আগুন পোড়ানোর স্থান এবং আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের অবস্থান চিহ্নিত করে দিচ্ছে, তাতে তো মনে হচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পক্ষেই আগুন লাগানো বেশি সম্ভব।

প্রথম লেখা: ৬ মে, ২০১৩, ফেসবুকে

হেফাজতের বিরুদ্ধে অভিযানের পক্ষ-বিপক্ষ

সরকারী অভিযানকে আপনি সমর্থন করতেই পারেন, তাতে কোন সমস্যা নেই। একটা সুবিধাবাদী ধর্মব্যাবসায়ী দল সাধারণ নিরীহ মুসল্লীদের ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী অবরোধ করে রেখে বিশৃঙ্খলা চালাবে, এটা নিশ্চয়ই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু তাই বলে বিদ্যুত্‍ বিচ্ছিন্ন করে, সকল মিডিয়ার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়ে, রাতের অন্ধকারে অভিযান পরিচালনাকেও আপনি সমর্থন করবেন?

ঠিক আছে, করেন। সমস্যা নাই। শুধু মনে রাইখেন, আওয়ামী লীগ সরকার চিরদিন থাকবে ক্ষমতায় থাকবে না। এবং তারা বিএনপির মতো নপুংসক দল না, বিরোধী দলে গেলে তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী তারা পান থেকে চুন খসার উপক্রম হলেই হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও করে দেশের বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী তখনকার সরকার যে আরো এক ডিগ্রী বেশি মাত্রার নিষ্ঠুরতার সাথে বিরুদ্ধমত দমন করবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন।

আমি হয়তো অলস প্রকৃতির মানুষ, কিন্তু অনেকে নিশ্চয়ই আপনাদের এখনকার হেফাজতিদের মৃত্যুর পর উল্লাস করে দেওয়া স্ট্যাটাসগুলোর স্ক্রীণশট তুলে রাখছে। কাজেই ভবিষ্যতে কি স্ট্যাটাস দিবেন, সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করেন।

প্রথম লেখা: ৭ মে, ২০১৩, ফেসবুকে

আল-জাজিরার রিপোর্ট

শাপলা চত্বর নিয়ে আলজাজিরার আলোচিত ভিডিওটা দেখলাম। সমালোচনা করার মতো কিছুই খুঁজে পেলাম না। তাদের কাছে একটা ভিডিও এসেছে যেটাতে দেখা যাচ্ছে পুলিশ একটা লাশ তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে, তারা সেটা প্রচার করেছে। তারা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বরাত দিয়ে বলেছে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৫০। এছাড়া তারা একজন বোবা লাশ দাফনকারীরও সাক্ষাত্কার নিয়েছে যে ১৪টি দাড়িওয়ালা লাশ দাফন করেছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে জাজিরা শুধু মুদ্রার একপিঠই দেখায় নি, একই ভিডিওতে তারা অপর পিঠও দেখিয়েছে। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাত্কারের ফাঁকে ফাঁকে পুলিশের মৃত্যু, হেফাজতিদের মৃতের ভান করে শুয়ে থাকা এবং পরে উঠে যাওয়ার ভিডিওগুলোও দেখিয়েছে। কিন্তু তারপরেও সমালোচকরা জাজিরাকে ছাড় দিয়ে কথা বলছে না। তাদের ক্ষোভ “সরকার মৃতের সংখ্যা নিয়ে মিথ্যা বলছে” জাজিরা এই কখা বলল কেন?

আরে ভাই, সরকারের কাজই তো হল মিথ্যা বলা। আর জাজিরা তো আড়াই হাজারের কথা বলে নাই, তারা বলেছে সরকারী ভাষ্য সঠিক না, এবং HRW এর মতে কমপক্ষে ৫০ মারা গেছে। একটা মিডিয়া যদি তার কাছে আসা বিভিন্ন অ্য‍াঙ্গেলের তথ্য তুলে না ধরে, তা হলে সেই তথাকথিত সুশীল মিডিয়া দিয়ে আমরা করবটা কি?

প্রথম লেখা: ২০ মে, ২০১৩, ফেসবুকে

One thought on “প্রসঙ্গ শাপলা চত্বর হত্যাকান্ড”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s