আইএসের শহরে জীবন যাপন


সিরতে আইএস এর সাথে মিসরাতী মিলিশিয়াদের সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেছে। সকালে বুগ্রেইনে (সিরতের ১৩৫ কিমি পশ্চিমে) গেছিলাম। বিকালে ফেরার সময় সিরতের পঞ্চাশ কিমি দূরের খামসিনের চেক পয়েন্ট থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। সিরতে ঢুকতে দেয়নি। শুধু আমাদেরকে না, কাউকেই সিরতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। চেকপয়েন্টের মিলিশিয়ারা বলছে, সিরতে ঢুকা তো যাবেই না, বরং যারা ভেতরে আছে, তাদেরকেও সিরত থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।

পুরো রাস্তা জুড়ে দেখলাম মিসরাতীদের যুদ্ধের গাড়ি আর ট্যাংক সিরতের দিকে এসে জমা হচ্ছে। সিরতে ঢুকতে না পেরে মোবাইলের জিপিএস ব্যবহার করে দক্ষিণ দিকের সাহারার ভেতরের একটা পরিত্যক্ত কাঁচা রাস্তার ভিতর দিয়ে দুই ঘন্টা ধরে এরপর সিরতের কাছাকাছি জারফ পর্যন্ত এসে দেখি সামনের রাস্তায় যুদ্ধ হচ্ছে। আমরা থাকতেই একটা মিজাইলও এসে পড়ল। আবার ব্যাক করে এরপর গার্বিয়াতের ভিতর দিয়ে অবশেষে সিরতে এসে পৌঁছলাম।

এসে দেখি পুরো শহরে কারেন্ট নাই। ইচ্ছা করেই কেটে দিছে মনে হয়। মোবাইলের নেটওয়ার্কও আসে, যায়। ওয়াইম্যাক্স কানেকশন এখনও কিভাবে আছে, সেটাই আশ্চর্য। আর না, মনে হচ্ছে এবার সত্যি সত্যিই সিরত ছাড়তে হবে।

প্রথম লেখা: ১৪ মার্চ, ২০১৫

 

লেটেস্ট আপডেট: আইএস বাহিনী আজ বিকেলে সিরতের ইবনে সীনা হসপিটাল থেকে ২০ জন ইউক্রেনীয়ান এবং ফিলিপিনি ডাক্তার-নার্সকে তুলে নিয়ে গিয়ে গিয়েছিল। পরে তারা হসপিটাল ছেড়ে কোথাও যেতে পারবে না এই শর্তে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত পরশুদিন পর্যন্ত ইবনেসীনা মিসরাতী মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু পরশুদিন সিরতের দুই দিকে মিসরাতীদের সাথে আইএস এর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, সেদিন মিসরাতী বাহিনী ইবনেসীনার পেছনে অবস্থিত গাদ্দাফীর বোনের মাজরার বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে রাতের অন্ধকারে সেদিক দিয়ে পালিয়ে চলে যায়। বর্তমানে সিরত শহরটা সম্পূর্ণভাবে আইএস এর নিয়ন্ত্রণে।

গতকাল রাতের বেলা সিরত ইউনিভার্সিটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এক ঘোষনায় জানিয়ে দেওয়া হয়, পরবর্তী ঘোষনা না দেওয়া পর্যন্ত ইউভার্সিটির পড়াশোনা সহ সকল কার্যক্রম বন্ধ। আজ তিনদিন ধরে সিরতের দুইদিকের প্রবেশপথ বন্ধ। পেট্রোলপাম্পগুলোকে প্রচন্ড ভীড়। গতকাল আড়াই ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে শেষে যখন সামনে মাত্র একটা গাড়ি বাকি, তখন শুনলাম পেট্রোল শেষ। ভাগ্য আর কাকে বলে! আজ অবশ্য সাড়ে চার ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে শেষে পেট্রোল ভরতে পেরেছি।

জীবন আপাতত পোর্ট্যাবল। জামাকাপড়, জরুরী কাগজপত্র সব সুটকেসবন্দী অবস্থায় আছে। যেকোন মুহূর্তে পরিস্থিতি একটু খারাপ হলেই গাড়ি নিয়ে ত্রিপলীর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ব ইনশাআল্লাহ্‌!

প্রথম লেখা: ১৬ মার্চ, ২০১৫

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s