সম্প্রতি দেখা ১০টি চমৎকার নাটক


ঈদের পর থেকে যে নাটক ডাউনলোড করা এবং দেখা শুরু করেছিলাম, সেই ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত আছে। এর মধ্যে একটাও বিদেশী মুভি বা সিরিয়াল দেখিনি, নাটক নিয়েই পড়ে আছি, আর নতুন নতুন নাটক ডাউনলোড করা চালিয়ে যাচ্ছি। খুব বেছে বেছে পরিচালকের নাম ধরে ধরে নাটক ডাউনলোড করি বলে যেগুলো দেখেছি, প্রায় সবগুলোই ভালো লেগেছে। সেখান থেকে কয়েকটার সংক্ষিপ্ত রিভিউ দিলাম। লিস্টের ধারাবাহিকতা দৈবচয়নভিত্তিক।

১। রাতারগুল (২০১৪)

ভিন্ন ধরনের লোকেশনে ভিন্ন ধরনের কাহিনী নিয়ে দারুণ একটা টেলিফিল্ম। কাহিনীকে একটু টেনে লম্বা করা হয়েছে মনে হতে পারে, কিন্তু ভিন্নধর্মী কাহিনী, চমৎকার লোকেশন, আর অসাধারণ অভিনয়ের গুণে সেটা সহজেই উপেক্ষা করা যায়। সিলেটের রাতারগুলের মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত নাটকটির কাহিনী হিউম্যান ট্রাফিকিং নিয়ে। নাটকের প্রায় পুরাটুকুই নদীর উপরে নৌকায় চিত্রায়িত। অভিনয়ে মামুনুর রশীদ, রওনক হাসান, তিশা। রওনক এই নাটকের জন্য সেরা অভিনেতার মেরিল প্রথম-আলো পুরস্কার জিতেছিল। পরিচালক সুমন আনোয়ার।

২। কালাগুল (২০১৫)

সুমন আনোয়ার এবং আয়েশা মনিকার পরিচালনায় এই টেলিফিল্মটি মূলত রাতারগুল ট্রিলজির দ্বিতীয় পর্ব। রাতারগুলের চেয়ে এটার কাহিনী এবং চিত্রনাট্য অনেক উন্নত মানের, প্রতিটা মুহূর্ত থ্রিলিং, কিন্তু এন্ডিংটা অনেকটাই হঠাৎ। এই ধরনের কাহিনীর চিত্রনাট্য আরেকটু সমৃদ্ধ করলে অনায়াসেই একটা ভালো চলচ্চিত্র তৈরি করা সম্ভব। বাংলা টেলিফিল্ম হিসেবে চমৎকার একটা ক্রাইম থ্রিলার। কাহিনী মূলত কিডন্যাপারদের হাত থেকে একটা মেয়ের পালানোর চেষ্টা নিয়ে। অভিনয়ে তিশা, ইন্তেখাব দিনার, সাচ্চু, মিমো। এই ট্রিলজির শেষ পর্বের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি।

৩। সন্ধ্যাকমল

প্রেমচন্দ্রের ছোটগল্প অবলম্বনে সিম্পল, সুন্দর কাহিনীর নাটক। কলাকুশলীদের অভিনয় অতুলনীয়। নিশো, তিশা আর মামুনুর রশীদ তিনজনেই ফাটিয়ে অভিনয় করেছে। অনেকদিন এরকম মারাত্মক অভিনয় দেখিনি। নাটকের কালার কারেকশনও চমৎকার। এটারও পরিচালক সুমন আনোয়ার।

৪। ছিন্ন (২০১৪)

রাতারগুলের মতো এটাও প্রায় সম্পূর্ণই নদীর উপরে নৌকায় চিত্রায়িত। অসাধারণ একটা টেলিফিল্ম, অসাধারণ তার লোকেশন আর কালার কারেকশন, তার চেয়েও অসাধারণ এর শিল্পীদের অভিনয়; যদিও কিছু কিছু জায়গায় অতি-অভিনয় বলেও মনে হতে পারে। থ্রিলারধর্মী এই টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, লুতফর রহমান জর্জ আর তিশা। পরিচালনা করেছেন ওয়াহিদ আনাম। টেলিফিল্মটি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০১৪ তে বিশেষ পুরস্কার (সমালোচক) বিভাগে জয়ী হয়েছে।

৫। সুখের ছাড়পত্র (২০১৫)

ফারুকীর ভাই-বেরাদাররা ইদানীং ফারুকীর প্রভাব থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী অসাধারণ কিছু নাটক তৈরি করছে। এটা হচ্ছে ভাই-বেরাদারদের অন্যতম আশফাক নিপুনের পরিচালনায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমার দেখা এই ঈদের সেরা নাটক। নাটক দেখে বুঝার কোন উপায় নাই এটা ভাই-বেরাদারদের কারো কাজ। পরিচ্ছন্ন একটা রোমান্টিক নাটক। তাহসান মিথিলার অসাধারণ কেমিস্ট্রি নাটকটাকে আরো উপভোগ্য করে তুলেছে। এ মাস্ট ওয়াচ।

৬। অ্যাংগ্রী বার্ড (২০১৫)

এই ঈদের আরেকটা চমৎকার রোমান্টিক নাটক। পরিচালক এই সময়ের আমার অন্যতম পছন্দের পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ান। অভিনয় তাহসান-তিশা। কাহিনী সিম্পল, কিন্তু মেকিং যথারীতি অসাধারণ। আমার আরেকটা পোস্টের এই নাটক এবং তাহসানের অভিনয় নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা হয়েছে। তাই আর কিছু লিখলাম না।

৭। পয়েন্ট ব্ল্যাংক (২০১৫)

এই সময়ের আমার আরেকজন প্রিয় পরিচালক তানিম রহমান অংশুর এই ঈদের থ্রিলার। এই পরিচালক হরর-থ্রিলার-অ্যাকশন ধর্মী নাটক নিয়ে কয় বছর ধরেই এক্সপেরিমেন্ট করে আসছেন। এবং কাহিনীর কথা বাদ দিলে মেকিং ভালোই হচ্ছে। এটার ক্ষেত্রেও একই কথা। কাহিনী কিছুই না, এন্ডিংটাও হঠাৎ করেই হয়ে গেছে। কিন্তু মেকিং ভালোই হয়েছে। নাটকে থ্রিলটাও মোটামুটি ভালোই হয়েছে। কিছুটা ডগ ডে আফটারনুনের ছোঁয়া ছিল হয়তো বা। অভিনয়ে ছিল অপূর্ব, সুজানা।

৮। যে জীবন ফড়িংয়ের

এটা অবশ্য সাম্প্রতিক নাটক না, কয়েকবছরের পুরানো নাটক। রচনা-পরিচালনা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের। অভিনয়ে অপি করিম। সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটা নাটক। এক আধুনিক তরুণীর উপর এক বোহেমিয়ান জীবনযাপনকারী কবির জীবন-দর্শনের প্রভাব নিয়েই কাহিনী। স্ক্রীপ্ট অসাধারণ, ডায়লগগুলো পুরাই সেই লেভেলের কাব্যিক। কিন্তু কবির অভিনয় কিছু অপ্রতিভ মনে হয়েছে। আর এই টাইপের নাটক সবার কাছে ভালো নাও লাগতে পারে, বোরিং মনে হতে পারে।

৯। তারপর পারুলের দিন

মেজবাউর রহমান সুমনের নাটক। এই সময়ের অন্যতম সেরা পরিচালক। খুবই পরিশীলিত রুচির এবং অসাধারণ সব চিত্রনাট্যের নাটক তৈরি করেন। এটাও তার ব্যতিক্রম না। অভিনয়ে আছেন এই সময়ের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী, ভিন্নধর্মী এক্সপেরিমেন্টাল চরিত্রের জন্য পারফেক্ট জয়া আহসান। আর কিছু লাগবে কি? নাটকের কাহিনী বাস্তবধর্মী, সিম্পল এবং সুন্দর, ডায়লগগুলো আরও সুন্দর। আর সবচেয়ে অসাধারণ জয়ার অভিনয়। জয়ার কল্পনায় একটা স্বপ্নীল দৃশ্য আছে – পুরাই অপার্থিব জগতের একটা দৃশ্য!

‌১০। লাল খাম বনাম নীল খাম (২০১৪)

ফারুকীর ভাই-বেরাদারদের মধ্যে সবচেয়ে ফালতু পরিচালক হিসেবে মোস্তফা কামাল রাজের নাম উচ্চারিত হয়। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে রাজ এই দুর্নাম থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। সমস্যা হচ্ছে তার নাটকগুলো হয় সিনেমার মতো, আর সিনেমাগুলো হয় নাটকের মতো। এটা অবশ্য বাংলাদেশের অনেকের বেলায়ই সত্য। সে যাই হোক, এটা একটা অসাধারণ টাইপের নাটক ছিল। সিম্পল, বাট অসাধারণ। নাটকের কাহিনী ‌‌১৯৯২ সালের, এবং নাটকের মেকিংটাও এমন ছিল যে, সেটা সত্যি সত্যিই বিটিভির যুগের রোমান্টিক নাটকগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল (আমার অবশ্য খুব কমই বিটিভির নাটক দেখা হয়েছে)।

নাটকটিতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল, অগ্নিলা, সোহেল খান। চঞ্চল, অগ্নিলার সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী হিসেবে এবং রাজের সেরা চিত্রনাট্যকার এবং সেরা পরিচালক হিসেবে মেরিল প্রথম-আলো পুরস্কারে সমালোচক বিভাগে নমিনেশন ছিল। নাটকের কালার কারেকশন এতো চমত্‍কার হয়েছে যে, সেটা সত্যি সত্যিই নব্বইয়ের দশকের ছোঁয়া নিয়ে এসেছিল। নাটকটার আরেকটা ভালো দিক ছিল, এটার স্ক্রীপ্ট সম্ভবত লিখিত ছিল, যেটা ভাই-বেরাদারদের ক্ষেত্রে বিরল। এবং ফারুকীদের নাটকে যা দেখা যায়, অতিরিক্ত প্রগলভতা এবং উচ্চস্বরে ঝগড়াটে টাইপের ডায়লগ, এই নাটক সেই দোষগুলো থেকেও মুক্ত ছিল।

প্রথম লেখা: ১২ আগস্ট ২০১৫, ফেসবুকে

কী-ওয়ার্ডস: নাটক, বাংলা নাটক ডাউনলোড, ঈদের নাটক রিভিউ, সেরা নাটক, অসাধারণ নাটক, download bangla natok, download eid natok

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s