সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের প্রেম

এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোক আর তার প্রেমিকা বিকেলে বেড়াতে বের হয়েছে। প্রেমিকার মন খারাপ, কারণ তার প্রেমিক তার সাথে ঘুরতে বের হলে কখনোই তার রূপের প্রশংসা করে না। এমনকি, সে কি পরে এসেছে, কিভাবে সেজে এসেছে, সেদিকেও ভালো করে তাকায় না। আশেপাশের সুন্দর সুন্দর স্ট্রাকচারগুলোর দিকে চেয়ে চেয়েই তার সময় কেটে যায়।

তো এই বিশেষ দিনে ভদ্রলোক তার স্বভাবের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রেমিকার হাত ধরে বলল, দেখ কী সুন্দর আবহাওয়া! না গরম, না ঠান্ডা।

প্রেমিকার মন খুশিতে নেচে উঠল। এই প্রথম বুঝি তার প্রেমিক তার সাথে দুই একটা রোমান্টিক গলায় কথা বলবে! সে আগ্রহ নিয়ে প্রেমিকের মুখের দিকে তাকাল।

ইঞ্জিনিয়ার প্রেমিক তার কথা কন্টিনিউ করে যেতে লাগল, আবহাওয়াটা আসলেই চমত্‍কার! রোদও নেই, বৃষ্টিও নেই। কিছুটা মেঘলা … প্রেমিকা পরের বাক্যটা শোনার জন্য উত্‍সুক নয়নে তার প্রেমিকের দিকে তাকাল। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোক তার বাক্যটা শেষ করল – ওয়েদারটা কংক্রীট কাস্টিংয়ের জন্য একেবারে পারফেক্ট 🙂

প্রথম লেখা: ১ ডিসেম্বর, ২০১৪, ফেসবুকে

Advertisements

হুমায়ূন আহমেদের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার

এইটা কোন ব্যাঙ্গাত্মক বা ফানি পোস্ট না, সিরিয়াসলিই বলছি। বাংলাদেশের কাউকে যদি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিতে হয়, তবে সেটা কাজী আনোয়ার হোসেনকেই দেওয়া উচিত। জ্বী, ঠিকই পড়ছেন, সাহিত্যে না, শান্তিতেই নোবেল পুরস্কার দেওয়ার কথা বলছি।

বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ মানুষকে বইমুখী করার ব্যাপারে দুইজন ব্যক্তির অবদান অনস্বীকার্য। এক. হুমায়ূন আহমেদ, দুই, কাজী আনোয়ার হোসেন। শুধু সেবার আর হুমায়ুন আহমেদের তথাকথিত হলকা আর চটুল বই পড়তে পড়তেই কত পোলাপান যে নিজের অজান্তেই পাঠক হয়ে গেছে, তার কোন হিসাব বের করা যাবে না।

Continue reading হুমায়ূন আহমেদের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার

কাজলা দিদির প্যারডি

খেজুর গাছের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ,
মা গো আমার ঘুম আসে না, ঘুমের ওষুধ কই?

ত্রিপলী আর বেনগাজীতে
ধুড়ুম-ধাড়ুম বোমবাজিতে,
বারুদের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই।
মা গো আমার হাতের কাছে ঘুমের ওষুধ কই?

গুলির খোসায় ছেয়ে গেছে এয়ারপোর্টের রোড,
দেশের ভেতর করছে বিরাজ ইমার্জেন্সী মোড।
বিল্ডিংগুলোর ফাঁকে ফাঁকে,
স্নাইপারেরা লুকিয়ে থাকে।
মেরেই হঠাত বসতে পারে পেয়ে গোপন কোড,
সাবধানেতে থাকিস মাগো, এড়িয়ে চলিস রোড।

খেজুর গাছের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ,
মা গো আমার ঘুম আসে না, ঘুমের ওষুধ কই?
মাথার উপর সারাটি দিন,
উড়ছে বিমান বিরতিহীন,
ড্রোনের শব্দে ঘুম আসে না, তাই তো জেগে রই।
এমন সময় মা গো আমার ঘুমের ওষুধ কই?

প্রথম লেখা: ১৭ আগস্ট, ২০১৪, ফেসবুকে, সে সময় ত্রিপলীর এয়ারপোর্ট রোডে এবং বেনগাজীতে তুমুল যুদ্ধ চলছিল।

প্রতি ঈদে লিবিয়ানরা করে গালাগালি, আর আমরা করি বকাবকি

ঈদের দিন সকাল বেলা পুরো আরব বিশ্বে গালাগালির ধুম পড়ে যায়। অপরিচিতরা তাও একটু রেহাই পায়, কিন্তু পরিচিতদের কোন রেহাই নেই। দেখা হওয়া মাত্রই একজন আরেকজনকে সমানে গালাগালি করতে থাকে। কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে ব্যখ্যা করছি।

আমরা যেরকম ঈদের দিন একজন আরেকজনের সাথে কোলাকুলি করি, আরবীয়রা কিন্তু সেরকম কোলাকুলি করে না। তারা একজন আরেকজনের গালের পাশে গাল নিয়ে চুমুর মতো শব্দ করে। এটাকে ইচ্ছা করলে চুমাচুমিও বলা যায়। কিন্তু যেহেতু তারা প্রকৃতপক্ষে চুমু দেয় না, জাস্ট গালের পাশে গাল রাখে, কাজেই একে গালাগালি বলাই ভালো!

আর এই সূত্র অনুসারে এশীয়রা যে কোলাকুলি করে, সেটা যেহেতু বুকের সাথে বুক মিলিয়েই করা হয়, কাজেই তাকে ইচ্ছে করলে বুকাবুকি বা বকাবকিও বলা যেতে পারে!

ঈদ হল একটা প্রধান ধর্মীয় উত্‍সব। আর এই দিনে কিনা মনুষ্য জাতির একদল বকাবকি আর আরেক দল গালাগালি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বড়ই আফসোস!

প্রথম লেখা: সামহোয়্যার ইন ব্লগে

কথা বলতে না পারার কষ্ট

অর্থের কষ্ট, ক্ষুধার কষ্ট, ঘুমের কষ্ট অনেকেই জীবনের কোন না কোন সময় অনুভব করেছে। কিন্তু কথা না বলতে পারার কষ্টটা কেমন?

অস্কারজয়ী আর্জেন্টাইন একটা মুভি আছে, এল সিক্রেতো দেসুস ওহোস – দ্যা সিক্রেট ইন দেয়ার আইজ। সেখানে স্ত্রীর হত্যাকারীর উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এক ভদ্রলোক হত্যাকারীকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যায় এবং বছরের পর বছর ধরে বন্দী করে রাখে। এই দীর্ঘ সময়ে সে খুনীকে নিয়মিত খাবার-দাবার দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু তার সাথে একটা কথাও বলে নি। মুভির শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, বন্দী খুনী তার কাছে তার মুক্তির জন্য আবেদন করছে না, বরং অনুনয় করছে তার সাথে অন্তত একটু কথা বলার জন্য!

Continue reading কথা বলতে না পারার কষ্ট

প্রযুক্তির উৎকর্ষতা: দৃষ্টিনন্দন ঘূর্ণায়মান বাড়ি

ভাবতে পারেন, আপনি যে বাড়িটিতে বাস করছেন, সেটি সারা জীবন বৈচিত্র্যহীনভাবে এক দিকে মুখ করে থাকার পরিবর্তে প্রতিনিয়ত নিজ অক্ষের উপর ঘুরে চলছে? একই জানালা দিয়ে আপনি সকাল বেলা পূর্বদিকের সূর্যোদয় দেখছেন, দুপুর বেলা দখিনা হাওয়া খাচ্ছেন, আর সন্ধ্যাবেলা সেই জানালা দিয়েই পশ্চিমের সূর্যাস্ত উপভোগ করছেন? কাল্পনিক মনে হতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। সংখ্যায় অল্প হলেও বিশ্বের বেশ কিছু স্থানে সত্যি সত্যিই এমন কিছু বাড়ি আছে, যেগুলো নিজ অক্ষর উপর আবর্তন করতে সক্ষম!

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘূর্ণায়মান ভবন হলো:

১। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোর মাউন্ট হেলিক্সের বৃত্তাকার দোতলা বাড়ি রোটেটিং হোম (Rotating Home), যা একটি সেন্ট্রাল কোরের চারপাশে সর্বনিম্ন ৩০ মিনিটে একবার এবং সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টায় একবার যত খুশি তত বার ঘুরতে পারে।।

২।  ১৯৩৫ সালে নির্মিত ইতালির ভিলা গিরাসোল (Villa Girasole), যা তিনটি বৃত্তাকার রেলপথে ১৫টি রোলার স্কেটের উপর দিয়ে সূর্যকে অনুসরণ করে প্রতি ৯ ঘণ্টা ২০ মিনিটে একবার আবর্তন করতে পারে।

৩। ব্রাজিলে অবস্থিত সম্পূর্ণ ১৫ তলা বিশিষ্ট কনক্রিট স্ট্রাকচারে তৈরি স্যুইট ভোলার্দ টাওয়ার (Suite Vollard Tower), যার ১১টি আবাসিক তলা পৃথকভাবে যেকোনো দিকে যত খুশি তত বার আবর্তন করতে পারে।

এই ভবনগুলো ছাড়াও আরো কয়েকটি ঘূর্ণায়মাণ ভবনের ছবি, ভিডিও এবং বিস্তারিত বিবরণ সহ মূল প্রবন্ধটি পড়তে পারেন Roar বাংলার এই লিংক থেকে

‘লিবিয়ার শতবর্ষের নির্জনতা’ : মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার সাক্ষাৎকার

ইরফানুর রহমান রাফিন একজন জনপ্রিয় ব্লগার। সম্প্রতি তিনি নিজের ব্লগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎ প্রকাশ করা শুরু করেছেন। প্রথম সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জনপ্রিয় রাজনৈতিক সমালোচক অনুপম দেবাশীষ রয়ের। আর দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি ছিল আমার।

এই সাক্ষাৎকারে লিবিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, গাদ্দাফীর উত্থান, তার শাসণামলের ভালোমন্দ দিকগুলো, ২০১১ সালের বিদ্রোহের সূচনা, দেশী-বিদেশী শক্তির প্রভাব, বিদ্রোহ পরবর্তী লিবিয়ার রাজনীতি, আল-ক্বায়েদা-আইসিসের উত্থান, তাদের ক্ষমতার উৎস, লিবিয়ার ভবিষ্যৎ সহ অনেক কিছু উঠে এসেছে।

মূল সাক্ষাৎকারটি পড়তে পারেন এই লিংক থেকে

Continue reading ‘লিবিয়ার শতবর্ষের নির্জনতা’ : মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার সাক্ষাৎকার