আরও এক ডজন অসাধারণ কোর্টরুম ড্রামা


এর আগের পোস্টে এক ডজন অসাধারণ কোর্টরুম ড্রামার বিস্তারিত রিভিউ দিয়েছিলাম। সেগুলো ছাড়াও আমার দেখা আরো এক ডজন মুভির অতি-সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিলাম এখানে, যাদের সবগুলোকে হয়তো ঠিক কোর্টরুম ড্রামা বলা যাবে না, কিন্তু এইসব মুভিতে বিচারকার্যের একটা বড় ভূমিকা আছে।

1. টুয়েল্ভ (12)

টুয়েল্ভ অ্যাংগ্রী মেন এর রাশিয়ান রিমেক। কাহিনীর মধ্যে কিছু আধুনিক টুইস্ট ঢুকানোর চেষ্টা করেছে। কয়েকটা জায়গায় অভিনয় এবং পরিচালনা চোখে পড়ার মতো হলেও অরিজিন্যালটার ধারে কাছেও যেতে পারে নি। রেটিং অবশ্য ভালোই, অস্কারে বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্মে নমিনেশনও পেয়েছিল।

2. জেএফকে (JFK)

কেনেডি হত্যাকান্ডের তদন্ত নিয়ে তৈরি অসাধারণ একটা পলিটিক্যাল মুভি। কেনেডি কেস ক্লোজ হয়ে যাওয়ার তিন বছর এক ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি পুনরায় তদন্ত শুরু করে। বেরিয়ে আসতে থাকে এক বিশাল ষড়যন্ত্রের সাক্ষ্য-প্রমাণ, যাতে সি.আই.এ, সিক্রেট সার্ভিস, মিলিটারি সহ প্রশাসনের সবাই জড়িত। অলিভার স্টোনের মাস্টারপীস। টানটান উত্তেজনায় পূর্ণ। মুভির শেষ দিকে বিশাল লম্বা একটা কোর্ট সীন আছে। সেই সীনে বিশাল লম্বা একটা বক্তৃতা দেন ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নীর চরিত্রে অভিনয়কারী কেভিন কস্টনার।

3. সোফি শোল: দ্যা ফাইনাল ডেজ (sophie Scholl: The Final Days)

সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মানির কাহিনী। হোয়াইট রোজ আন্দোলনের দুই কর্মী ভাই-বোন গেস্ঠাপোর হাতে ধরা পড়ে ইউনিভার্সিটিতে হিটলার বিরোধী লিফলেট বিতরণ করার সময়। বিচারের নামে প্রহসনের আদালতে তোলা হয় তাদেরকে। খুব সিম্পল কিন্তু অসাধারণ একটা জার্মান মুভি। স্বৈরাচারী শাসন ব্যাবস্থার অধীনে বিচার ব্যাবস্থার একটা উত্কৃষ্ট উদাহরণ।

4. দ্যা রীডার (The Reader)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের গার্ড ছিল এরকম এক মহিলার বিচার নিয়ে মুভি। অসাধারণ একটা মুভি। মুভির প্রথম অর্ধেক দেখে বুঝার কোন উপায় নেই এর শেষ দিকটা কত অসাধারণ! আর কেট উইনস্লেটের মারাত্মক অভিনয় মনে রাখার মতো।

5. এরিন ব্রোকভিচ (Erin Brokovich)

সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি এই মুভির মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর অস্কার পেয়েছিলেন জুলিয়া রবার্টস। তিন সন্তানের মা, বদমেজাজী, পদে পদে সামাজিক প্রথাকে অগ্রাহ্য করে চলা জুলিয়া রবার্টস, যার আইন বিষয়ক কোন জ্ঞানই ছিল না, তিনিই এক আইন বিষয়ক ফার্মে ক্লার্ক হিসেবে চাকরি করার সময় ক্লায়েন্টদের সাথে কথা বলতে গিয়ে সন্দেহ বশত এক তেল-গ্যাস কোম্পানীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন। তার তদন্তে বেরিয়ে আসে সেই কোম্পানীর পানি দূষণ সংক্রান্ত এবং এলাকাবাসীর উপর তার ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ। শুরু হয় আমেরিকার ইতাহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষতিপূরণের মামলার আইনি কার্যক্রম।

6. প্রাইমাল ফিয়ার (Primal Fear)

রিচার্ড গিয়ার একজন আইনজীবি যিনি খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত মানসিক বিকারগ্রস্ত এডওয়ার্ড নর্টনের পক্ষে আদালতে লড়েন। এই মুভিটা প্রায়ই সেরা টুইস্ট এন্ডিং মুভির তালিকায় থাকে, কিন্তু প্রচুর টুইস্ট এন্ডিং মুভি দেখা থাকার কল্যাণে এটার এন্ডিংটা আমি মাঝপথেই বুঝে ফেলেছিলাম। ফলাফল, পুরা মজাটাই মাটি। তবে নর্টনের মারাত্মক অভিনয়ের জন্য হলেও সিনেমাটা দেখা যেতে পারে।

7. দ্যা লাইফ অফ ডেভিড গেইল (The Life of David Gale)

কেভিন স্পেসি মৃত্যুদন্ড প্রথার বিরোধী আন্দোলনের একজন প্রধান নেতা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তিনিই খুনের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে মৃত্যুদন্ডের প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন। বন্দী অবস্থায় কেট উইন্সলেট তার সাক্ষাত্কার নিতে যান। এমন সময় কেটের হাতে একটা ভিডিও এসে পড়ে, যেখানে দেখা যায় ব্যাপারটা খুন ছিল না, ছিল আত্মহত্যা। মৃত্যুদন্ডের আদেশ বাতিল করানোর জন্য ছুটে কেট। এই মুভির শেষেও একটা টুইস্ট আছে।

8. দ্যা অ্যাকিউস্‌ড (The Accused)

সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে তৈরি মুভি। গণধর্ষনের শিকার একটি মেয়ে মামলা করে ধর্ষণের সময় উপস্থিত দর্শকদের বিরুদ্ধে। এই মুভিতে অভিনয়ের জন্য জুডি ফস্টার সেরা অভিনেত্রীর অস্কার পেয়েছিলেন।

9. ফিলাডেলফিয়া (Philadelphia)

টম হ্য‌াংকস একজন এইডস আক্রান্ত আইনজীবি, যাকে তার যোগ্যতার ঘাটতি বা অন্য কোন কারণে নয়, শুধুমাত্র তার রোগের জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ফলে কোম্পানীর বিরুদ্ধে মামলা করেন হ্যাংকস। অভিনয়ে আরো আছেন ডেনজেল ওয়াশিংটন। টম হ্যাংকস এই মুভিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার জিতেছিল। আমার কাছে অবশ্য একটু বোরিং মনে হয়েছে মুভিটা।

10. ক্র্য‍ামার ভার্সেস ক্র্যামার (Kramer vs. Kramer)

ডাস্টিন হফম্যান এবং মেরিল স্ট্রীপ অভিনীত অসাধারণ একটা মুভি। সেরা কোর্টরুম ড্রামার বিভিন্ন তালিকায় এই মুভির নাম রাখা হলেও এতে কোর্ট সীন খুবই সামান্য। পুরা মুভিটাতেই বিবাহ বিচ্ছেদের পর ডাস্টিন হফম্যান কিভাবে তার ছোট ছেলেটাকে মায়ের অভাব বুঝতে না দিয়ে বড় করতে চেষ্টা করে সেই গল্প বলা হয়। শুধু শেষ অংশে এসে অল্প কিছুক্ষণ ছেলেটার কাস্টডি বিষয়ক মামলার জন্য কোর্টের কিছু দৃশ্য আসে। কোর্টরুম ড্রামা হিসেবে না হলেও শুধু ড্রামা হিসেবে মুভিটা অসাধারণ।

11. দ্যা ট্রায়াল (The Trial)

কাফকার গল্প অবলম্বনে অরসন ওয়েলসের ফিকশনাল মুভি। মেকিং অসাধারণ, কিন্তু কোন দৃশ্য দিয়ে কি বুঝাতে চেয়েছে কিছুই বুঝিনি। পুরা মুভিটাই অ্যান্টেনার উপর দিয়ে গেছে। মুভির রেটিং খুবই ভালো, কিন্তু দেখতে হলে নিজ দায়িত্বে দেখবেন।

12. স্লীপার্স (Sleepers)

জেলখানায় চাইল অ্যাবিউজ এবং তার পরবর্তীতে তার আইনি প্রতিষোধের কাহিনী। কিছুটা স্লো হলেও বেশ ভালো মুভি। ব্রাড পিট, রবার্ট ডি নিরো, ডাস্টিন হফম্যানের মতো বাঘা বাঘা অভিনেতারা সব একসাথে।

বিঃদ্রঃ এই লিস্টে আরো কিছু মুভির নাম আসতে পারত, যেমন এম, ইন কোল্ড ব্লাড ইত্যাদি। কিন্তু এগু‍লোতে কোর্ট সীন এতো কম যে, এগুলোকে ঠিক কি কারণে কোর্টরুম ড্রামা ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে সেটা আমার কাছে বোধগম্য না।

এবার আরো এক ডজন মুভির নাম দেই। একেবারে ফ্রি! এগুলো কোর্টরুম ড্রামার বিভিন্ন তালিকায় প্রায়ই পাওয়া যায়, কিন্তু আমার এখনও দেখা হয় নি। তাই রিভিউ দিলাম না, শুধু নাম দিয়ে দিলাম।

দ্যা প্যাশন অফ জোয়ান অফ আর্ক
এ ম্যান ফর অল সীজনস
ইন দ্যা নেইম অফ দ্যা ফাদার
অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল
দ্যা কেইন মিউটিনি
এ টাইম টু কিল
মাই কাজিন ভিনি
দ্যা রেইনমেকার
প্রেজিউমড ইনোসেন্ট
দ্যা পিপল ভার্সেস ল্যারি ফ্লিন্ট
দ্যা ক্লায়েন্ট
এ সি‌ভিল অ্যাকশন

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s