জেরুজালেম নিয়ে মিসরের লীক হওয়া অডিওর অন্তরালে


জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী করার পক্ষে দালালি করার ব্যাপারে মিসরের যে অডিও রেকর্ডিংগুলো ফাঁস হয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, সেটা অবিশ্বাস করার কোনো কারণ দেখছি না। গত কয়েক দশক ধরে আরব ডিক্টেটররা সবাই এই ভূমিকাই পালন করেছে। মুখে অনেক হম্বিতম্বি করেছে, কিন্তু বাস্তবে নিজেদের দেশের, বা আরো পরিষ্কারভাবে বললে নিজের গদির স্বার্থ বিনষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ করেনি। প্রায় কেউই করেনি।

প্যাটার্নগুলো খেয়াল করলে দেখবেন, সৌদি আরবেও কিন্তু একই রকম ঘটনা ঘটছে। সৌদি শাসকরা ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলছে ঠিকই, কিন্তু সেটা খুবই ক্ষীণ কন্ঠে। বরং সৌদিপন্থী সো কলড লিবারেল মিডিয়াগুলোতে পরোক্ষভাবে জেরুজালেমকে গুরুত্বহীন করার একটা প্রচেষ্টা দেখা যায়। অদূর ভবিষ্যতে যদি সৌদি আরবেরও অডিও ফাঁস হয়, অবাক হব না।

আমাদের ‘পশ্চিমা মিডিয়া’ নিয়ে একটা অ্যালার্জি আছে। এদের সব কিছুকেই আমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে গ্রেটার কন্সপিরেসী মনে করি। কিন্তু আপনি খেয়াল করলে দেখবেন পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধেও যুগান্তকারী সব অভিযোগ এই পশ্চিমা মিডিয়াগুলোতেই ফাঁস হয়েছে।

এখন পর্যন্ত সৌদি-ইসরায়েল কানেকশনের প্রায় সবগুলো অভিযোগই কিন্তু প্রথম ফাঁস হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস সহ অন্যান্য পশ্চিমা মিডিয়াতে। এবং স্বাভাবিকভাবেই দেখা যাচ্ছে, সৌদি আরবের অন্ধ ভক্তরা এগুলোকে পশ্চিমাদের অপপ্রচার বলে চালিয়ে দিতে চাইছে। তাদের অভিযোগ মেনে নিতে পারতাম, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কিন্তু তাদের এসব ‘অপপ্রচার’ এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সৌদি আরবের অনেক প্রিন্সের আমেরিকা ইউরোপে বিশাল বিশাল কানেকশন আছে। তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো মিথ্যা হলে খুব সহজেই তারা এনওয়াইটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত – স্যু করতে পারত। কিন্তু সেটা তো দূরের কথা, তারা খুব কড়া ভাবে কোনো ঘটনার প্রতিবাদও পর্যন্ত করছে না।

আমার শুধু একটা বিষয়ে খটকা লাগছে। সেটা হচ্ছে, মিসরী গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে টকশো উপস্থপকের ফোনালাপ কে রেকর্ড করেছে? এনওয়াইটি বলছে, ফিলিস্তিনপন্থী এবং ইসরায়েলের আগ্রাসন বিরোধী এক ব্যক্তি তাদেরকে এটা দিয়েছে। প্রশ্নটা হচ্ছে, সেই ব্যক্তি আল-জাজিরাকে না দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দিতে গেল কেন?

এমনকি হতে পারে, যেহেতু কাতার ভিত্তিক আল-জাজিরার সাথে সৌদি আরবের এবং মিসরের সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে, তাই তারাই ব্যাপারটাকে আরো নিরপেক্ষ একটা লুক দেওয়ার জন্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করানোর জন্য পশ্চিমা মিডিয়াকে দিয়ে প্রকাশ করাচ্ছে? আশ্চর্য হব না।

প্রথম লেখা: ০৭ জানুয়ারি, ২০১৮, ফেসবুকে

প্রাসঙ্গিক সংবাদ:

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s