ম্যারি কোলভিনের প্রাইভেট ওয়ার

ফিচার ইমেজে গাদ্দাফীর সাথে ম্যারি কোলভিনের যে দৃশ্যটা দেখা যাচ্ছে, সেটা বাস্তবের না, A Private War সিনেমার। তবে বাস্তবেও সানডে টাইমসের সাংবাদিক ম্যারি কোলভিন গাদ্দাফীর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। একবার না, একাধিক বার।

১৯৮৬ সালে রিগ্যান প্রশাসন যখন লিবীয় নেতা মোয়াম্মার আল-গাদ্দাফিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাসভবনের উপর বিমান হামলা (অপারেশন এল-ডোরাডো ক্যানিয়ন) পরিচালনা করে, তখন ম্যারি কোলভিনই ছিলেন প্রথম সাংবাদিক, যিনি গাদ্দাফির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন।

বাস্তবে গাদ্দাফীর সাথে ম্যারি কোলভিন; Image Source: BBC

পরবর্তীতে ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পরেও গাদ্দাফির প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তিনি। ইনফ্যাক্ট গাদ্দাফী প্রশাসন ম্যারি কোলভিনের রিকোয়েস্টে সাড়া দিয়ে মোট তিনজন সাংবাদিককে গাদ্দাফীর সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি দেয়। বাকি দুইজন সাংবাদিক কারা হবেন, সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তারা ম্যারির উপরেই ছেড়ে দেয়।

Continue reading ম্যারি কোলভিনের প্রাইভেট ওয়ার

মাইদান আল-জেজায়ের

ত্রিপলীর কেন্দ্রে অবস্থিত এই চত্বরের নাম আলজেরিয়া স্কয়ার বা মাইদান আল-জেজায়ের

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, লিবিয়ার চত্বরের নাম আলজেরিয়া কেন? কারণ পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে যখন আলজেরিয়াতে ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম চলছিল, তখন এই চত্বরটা ব্যবহৃত হতো আলজেরিয়ানদেরকে সাহায্য করার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। লিবিয়ান নারীরা এখানে এসে তাদের স্বর্ণ-গয়না বিক্রি করে সেই টাকা দান করে দিতেন আলজেরিয়ানদেরকে দেওয়ার জন্য। ১৯৬২ সালে তাই চত্বরটির নাম রাখা হয় আলজেরিয়া চত্বর

১৯৬২ সালের পূর্ব পর্যন্ত জায়গাটির নাম ছিল ক্যাথেড্রাল স্কয়ার বা পিয়াজ্জা দেলে ক্যাতেদ্রালে। কারণ চত্বরটির সামনেই যে বিশাল মসজিদটি দেখা যাচ্ছে, সেটি ছিল ১৯২৩ সালে ইতালিয়ানদের দ্বারা তৈরি একটি রোমান ক্যাথলিক চার্চ/ক্যাথেড্রাল। গাদ্দাফী ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭০ সালে গির্জাটির কিছু সংস্কার করে একে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয় এবং এর নাম দেওয়া হয় জামাল আব্দুল নাসের মসজিদ

আলজেরিয়া স্কয়ার ত্রিপলীর সবচেয়ে বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কগুলোর একটা। ২০১১ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ত্রিপলীর প্রায় সবগুলো আন্দোলন বা প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হওয়ার স্থান এটি। যদি যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়, তাহলেই কেবল মিছিল এখান থেকে গ্রিন স্কয়ারের (মাইদান আশ্‌শুহাদার) দিকে যায়।

আগস্ট যুদ্ধের সেই দিনগুলো

লিবিয়াতে নিরাপদে চলাফেরার কতগুলো অলিখিত নিয়ম আছে। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে কিছু ফেসবুক গ্রুপে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া কোথাও কোনো গন্ডগোল আছে কিনা, রাস্তাঘাট বন্ধ আছে কিনা। অথবা গোলাগুলির শব্দ শুনেই বোঝার চেষ্টা করা ওটা কোনো উৎসব উপলক্ষ্যে আনন্দের গোলাগুলি, নাকি সংঘর্ষের গোলাগুলি, সংঘর্ষ হলে সেটা কতটুকু তীব্র।

কিন্তু গত ২৬ আগস্ট বিকেল বেলা আমি যখন অফিস থেকে বের হয়েছিলাম, তখন এর কোনোটিই করিনি। নিঃসন্দেহে এটা বড় ধরনের ভুল ছিল, কিন্তু তখনও আমি জানতাম না এই ভুলটিই হয়তো আমার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছিল, ২০১১ সালের পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো।

Continue reading আগস্ট যুদ্ধের সেই দিনগুলো