Category Archives: রাজনৈতিক ভাবনা

বাংলাদেশ, লিবিয়া এবং বিশ্ব রাজনীতির ঘটনাবলি নিয়ে আমার ভাবনা এবং বিশ্লেষণ।

জেনারেল হাফতার কি এখনও সিআইএ এজেন্ট?

জেনারেল হাফতার একসময় সিআইএ এজেন্ট ছিলেন – এটা সবাই জানে। কিন্তু ঠিক কতদিন পর্যন্ত, এটা কেউ পরিষ্কারভাবে জানে না। সব জায়গায় এমনভাবে বর্ণনা করা হয়, যেন হাফতার ২০ বছর ধরেই সিআইএর এজেন্ট ছিলেন। কিন্তু লিবিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, ইউনিভার্সিটি অফ প্যারিস এইটের প্রফেসর জালাল হারশাউইর মতে, ব্যাপারটা পুরাপুরি সত্য না।

১৯৮৭ সালে চাদ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে যখন তিনি ফরাসিদের হাতে গ্রেপ্তার হন, তখন আন্তর্জাতিক চাপ এড়ানোর জন্য গাদ্দাফী তার সাথে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। হাফতারের সামনে তখন দুইটা অপশন ছিল – সারা জীবন বন্দী অবস্থায় কাটানো, অথবা আমেরিকান/ফ্রেঞ্চদের সাথে যোগ দেওয়া। হাফতার দ্বিতীয় অপশনটা গ্রহণ করেন।

Continue reading জেনারেল হাফতার কি এখনও সিআইএ এজেন্ট?

গাদ্দাফীকে উৎখাত করতে গিয়ে আমেরিকা যেভাবে ভজগট পাকিয়ে ফেলেছিল!

আশির দশকে আমেরিকা গাদ্দাফীকে হত্যার আয়োজন করছিল।

শুধু আমেরিকা বললে ভুল হবে। সেসময় বিভিন্ন দেশের সাথে গাদ্দাফীর সম্পর্ক খারাপ ছিল। সিআইএর তথ্য অনুযায়ী আমেরিকা ছাড়াও ফ্রান্স, চাদ, মিসর, সুদান, মরক্কো, সৌদি আরব এমনকি ইরাক পর্যন্ত গাদ্দাফীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আগ্রহী বিদ্রোহীদেরকে সাহায্য করে আসছিল।

গাদ্দাফীকে সরাতে চাওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রকম কারণ ছিল। ফ্রান্স এবং আমেরিকার প্রধান কারণ ছিল চাদের উপর গাদ্দাফীর হস্তক্ষেপ। চাদ ছিল ফ্রান্সের কলোনী। স্বাধীনতার পরেও সেখানে ফ্রান্সের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। কিন্তু গাদ্দাফী যখন ১৯৭৮ সালে চাদের একটি অংশকে লিবিয়ার ভূখন্ড দাবি করে সেখানে সেনাবাহিনী পাঠায়, তখনই প্রধানত ফ্রান্স এবং সেই সাথে আমেরিকা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সম্ভাবনা বিচরণ করতে শুরু করে।

Continue reading গাদ্দাফীকে উৎখাত করতে গিয়ে আমেরিকা যেভাবে ভজগট পাকিয়ে ফেলেছিল!

ম্যারি কোলভিনের প্রাইভেট ওয়ার

ফিচার ইমেজে গাদ্দাফীর সাথে ম্যারি কোলভিনের যে দৃশ্যটা দেখা যাচ্ছে, সেটা বাস্তবের না, A Private War সিনেমার। তবে বাস্তবেও সানডে টাইমসের সাংবাদিক ম্যারি কোলভিন গাদ্দাফীর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। একবার না, একাধিক বার।

১৯৮৬ সালে রিগ্যান প্রশাসন যখন লিবীয় নেতা মোয়াম্মার আল-গাদ্দাফিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাসভবনের উপর বিমান হামলা (অপারেশন এল-ডোরাডো ক্যানিয়ন) পরিচালনা করে, তখন ম্যারি কোলভিনই ছিলেন প্রথম সাংবাদিক, যিনি গাদ্দাফির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন।

বাস্তবে গাদ্দাফীর সাথে ম্যারি কোলভিন; Image Source: BBC

পরবর্তীতে ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পরেও গাদ্দাফির প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তিনি। ইনফ্যাক্ট গাদ্দাফী প্রশাসন ম্যারি কোলভিনের রিকোয়েস্টে সাড়া দিয়ে মোট তিনজন সাংবাদিককে গাদ্দাফীর সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি দেয়। বাকি দুইজন সাংবাদিক কারা হবেন, সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তারা ম্যারির উপরেই ছেড়ে দেয়।

Continue reading ম্যারি কোলভিনের প্রাইভেট ওয়ার

আগস্ট যুদ্ধের সেই দিনগুলো

লিবিয়াতে নিরাপদে চলাফেরার কতগুলো অলিখিত নিয়ম আছে। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে কিছু ফেসবুক গ্রুপে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া কোথাও কোনো গন্ডগোল আছে কিনা, রাস্তাঘাট বন্ধ আছে কিনা। অথবা গোলাগুলির শব্দ শুনেই বোঝার চেষ্টা করা ওটা কোনো উৎসব উপলক্ষ্যে আনন্দের গোলাগুলি, নাকি সংঘর্ষের গোলাগুলি, সংঘর্ষ হলে সেটা কতটুকু তীব্র।

কিন্তু গত ২৬ আগস্ট বিকেল বেলা আমি যখন অফিস থেকে বের হয়েছিলাম, তখন এর কোনোটিই করিনি। নিঃসন্দেহে এটা বড় ধরনের ভুল ছিল, কিন্তু তখনও আমি জানতাম না এই ভুলটিই হয়তো আমার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছিল, ২০১১ সালের পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো।

Continue reading আগস্ট যুদ্ধের সেই দিনগুলো

গণমানুষের নেতা গাদ্দাফী যেভাবে স্বৈরশাসক হলেন

সত্তরের দশকের গাদ্দাফী ছিল সত্যিকার অর্থেই জনগণের নেতা। সে সময় প্রায় প্রতিদিন গাদ্দাফী রাস্তায় বের হতো। একা, কোনো বডিগার্ড ছাড়া। সে সময় ত্রিপলীতে থাকা বাংলাদেশীদের অনেকেও গাদ্দাফীকে সরাসরি দেখেছে। কোনো অনুষ্ঠানে না, হঠাৎ কোনো রাস্তায়।

নিজের ফোক্স ওয়াগন গাড়িটা নিয়ে গাদ্দাফী একেক দিন একেক জায়গায় চলে যেত। কোনো স্কুলে, ইউনিভার্সিটিতে, মার্কেটে, হসপিটালে, ব্যাংকে। অথবা জনগণের ভীড়ে, ত্রিপলীর আশেপাশের কোনো গ্রামে। গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে মিশত, কথা বলত, তাদের মতামত জানতে চাইত।

Continue reading গণমানুষের নেতা গাদ্দাফী যেভাবে স্বৈরশাসক হলেন

ঘাতক বাস চালকের জবানবন্দীর অন্তরালে

বাস চালকের জবানবন্দী পড়ে আমি আবেগে অভিভূত হয়ে গেলাম। আমার চোখ দিয়ে নিজের অজান্তেই ঝর ঝর করে পানি পড়তে লাগল। মানবতা এখনও বেঁচে আছে, হারিয়ে যায়নি!

ভেবে দেখেন, সবগুলো পত্রিকায় গত এক সপ্তাহে এসেছে, এটা ছিল বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা। চালক ইচ্ছে করে বাচ্চাদের উপর গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে তাদেরকে খুন করেছে, এটা কেউ দাবি করেনি। চালক যদি নিজ মুখে স্বীকার না করত, তাহলে সেটা প্রমাণ করারও কোনো উপায় ছিল না। আর এরকম ক্ষেত্রে সাধারণত কেউ স্বীকারও করে না। ঠিক এ ধরনের কেসে কয়টা এরকম স্বীকারোক্তি শুনেছেন?

Continue reading ঘাতক বাস চালকের জবানবন্দীর অন্তরালে

গুজব কেন আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর

গুজব সাধারণত তিন পক্ষ ছড়ায়। অতি উৎসাহী পক্ষ, বেকুব পক্ষ এবং সরকারী পক্ষ। তিনটাই আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর।

এ জন্য আমি সব সময়ই গুজবের বিরুদ্ধে। গুজব অধিকাংশ সময়ই ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। অ্যাজ এ মেম্বার অফ অতি উৎসাহী পক্ষ, আপনি হয়তো মনে করতে পারেন, গুজব ছড়িয়ে বিপ্লব ঘটিয়ে দিব। কখনো কখনো হয়তো এ পদ্ধতিতে সফল হওয়া সম্ভব, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা ব্যাকফায়ার করার সম্ভাবনাই বেশি।

Continue reading গুজব কেন আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর