Category Archives: লিবিয়ার রাজনীতি

লিবিয়ার জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জঙ্গীবাদ সমস্যা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ

লিবিয়ার রাজনীতিতে ২০১৮ সালে কী ঘটবে?

আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে কয়েকটা হাফ অনুবাদ টাইপ লেখা দিয়েছিলাম Roar বাংলাতে, কিন্তু নতুন বছরে লিবিয়ার রাজনীতিতে কী ঘটবে, সেটা নিয়ে লেখা হয়নি। লিবিয়ার ব্যাপারটা আসলে ভীষণ জটিল। ক্রমাগত অ্যালায়েন্স শিফটিংয়ের কারণে লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সিরিয়ার রাজনীতি খুবই আনপ্রেডিক্ট্যাবল। তাই কী ঘটবে বলার আগে সাম্প্রতিক সময়ে কী ঘটছে, সেদিকটা একটু দেখি।

যেটা আশা করিনি, লিবিয়া নির্বাচনের দিকে হাঁটছে। তবে আশাবাদী হওয়ার খুব বেশি কারণ নাই। নির্বাচন তখনই ফলপ্রসু হয়, যখন একটা অনিশ্চয়তা থাকে – লড়াইটা প্রায় সমান সমান হয়। কিন্তু যদি নির্বাচনের আগেই বলে দেওয়া যায় কারা জিতবে, এবং ল্যান্ডস্লাইডে জিতবে, তাহলে সেই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত বানচাল হয়ে যাওয়ার অথবা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। লিবিয়াতে সম্ভবত সেটাই হতে যাচ্ছে।

Continue reading লিবিয়ার রাজনীতিতে ২০১৮ সালে কী ঘটবে?

Advertisements

গাদ্দাফী এবং আরাফাত – এক কালের দুই বিপ্লবী

প্রথম জীবনে গাদ্দাফী ছিলেন বিপ্লবী চরিত্রের নেতা। তার মূলনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আরব জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা এবং ইসরায়েলকে উচ্ছেদ করা। লিবিয়াতে ক্ষমতায় আসার পরপরই গাদ্দাফী লিবিয়ার সম্পূর্ণ ইহুদী সম্প্রদায়কে বহিষ্কার করেছিলেন। অবশ্য এটা কতটুকু জাস্টিফাইড ছিল, সেই আলোচনায় এখানে গেলাম না।

Continue reading গাদ্দাফী এবং আরাফাত – এক কালের দুই বিপ্লবী

গাদ্দাফীর শাসণামলের ১০টি ফ্যাক্ট: সত্য না মিথ্যা?

মোয়াম্মার আল-গাদ্দাফীর গুণগান সম্বলিত একটি ভাইরাল লিস্ট পাওয়া যায় ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে, যেখানে গাদ্দাফীর সময়ে লিবিয়ানরা কত সুখে-শান্তিতে ছিল, সেটি বোঝানোর জন্য ১০টি বা ১২টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়। লিস্টটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, দুদিন পরপরই কেউ না কেউ এটি শেয়ার করে, এবং অবধারিতভাবে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডদের কেউ না কেউ আমাকে সেখানে ট্যাগ করে এর সত্যতা জানতে চায়। অনেক দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত এর সত্যতা যাচাইমূলক একটি লেখা লিখেই ফেললাম।

Continue reading গাদ্দাফীর শাসণামলের ১০টি ফ্যাক্ট: সত্য না মিথ্যা?

কাজলা দিদির প্যারডি

খেজুর গাছের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ,
মা গো আমার ঘুম আসে না, ঘুমের ওষুধ কই?

ত্রিপলী আর বেনগাজীতে
ধুড়ুম-ধাড়ুম বোমবাজিতে,
বারুদের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই।
মা গো আমার হাতের কাছে ঘুমের ওষুধ কই?

গুলির খোসায় ছেয়ে গেছে এয়ারপোর্টের রোড,
দেশের ভেতর করছে বিরাজ ইমার্জেন্সী মোড।
বিল্ডিংগুলোর ফাঁকে ফাঁকে,
স্নাইপারেরা লুকিয়ে থাকে।
মেরেই হঠাত বসতে পারে পেয়ে গোপন কোড,
সাবধানেতে থাকিস মাগো, এড়িয়ে চলিস রোড।

খেজুর গাছের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ,
মা গো আমার ঘুম আসে না, ঘুমের ওষুধ কই?
মাথার উপর সারাটি দিন,
উড়ছে বিমান বিরতিহীন,
ড্রোনের শব্দে ঘুম আসে না, তাই তো জেগে রই।
এমন সময় মা গো আমার ঘুমের ওষুধ কই?

প্রথম লেখা: ১৭ আগস্ট, ২০১৪, ফেসবুকে, সে সময় ত্রিপলীর এয়ারপোর্ট রোডে এবং বেনগাজীতে তুমুল যুদ্ধ চলছিল।

‘লিবিয়ার শতবর্ষের নির্জনতা’ : মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার সাক্ষাৎকার

ইরফানুর রহমান রাফিন একজন জনপ্রিয় ব্লগার। সম্প্রতি তিনি নিজের ব্লগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎ প্রকাশ করা শুরু করেছেন। প্রথম সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জনপ্রিয় রাজনৈতিক সমালোচক অনুপম দেবাশীষ রয়ের। আর দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি ছিল আমার।

এই সাক্ষাৎকারে লিবিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, গাদ্দাফীর উত্থান, তার শাসণামলের ভালোমন্দ দিকগুলো, ২০১১ সালের বিদ্রোহের সূচনা, দেশী-বিদেশী শক্তির প্রভাব, বিদ্রোহ পরবর্তী লিবিয়ার রাজনীতি, আল-ক্বায়েদা-আইসিসের উত্থান, তাদের ক্ষমতার উৎস, লিবিয়ার ভবিষ্যৎ সহ অনেক কিছু উঠে এসেছে।

মূল সাক্ষাৎকারটি পড়তে পারেন এই লিংক থেকে

Continue reading ‘লিবিয়ার শতবর্ষের নির্জনতা’ : মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার সাক্ষাৎকার

গাদ্দাফীর অধীনে আমাদের শেষ রোযা এবং শেষ ঈদের স্মৃতি

ঈদ এক বছর পরপরই আসে। বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে একটা ঈদ আসে দুই মাস পরে,আরেকটা আসে দশমাস পরে। কিন্তু আমাদের জন্য এবার ঈদ এসেছে দুই বছর পরে। কারণ গত বছরের কোন ঈদই আমরা ঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। রোযার ঈদের সময় আমরা ছিলাম চারদিকে বিদ্রোহী সৈন্যদের দ্বারা অবরুদ্ধ শহরে। আর কুরবানীর ঈদের সময় ছিলাম মাত্র যুদ্ধ কাটিয়ে উঠা বিদ্ধস্ত শহরে। জীবনে প্রথমবারের মতো কুরবানী ছাড়াই ঈদ উদযাপন করতে বাধ্য হয়েছিলাম আমরা।

Continue reading গাদ্দাফীর অধীনে আমাদের শেষ রোযা এবং শেষ ঈদের স্মৃতি

লিবিয়া যুদ্ধে আমি (৮ম পর্ব): প্রতীক্ষিত পুনর্মিলন

২২ শে অক্টোবর, শনিবার। সকাল দশটার দিকে আমরা খামসিন থেকে বের হয়ে সিরতের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। সাথে প্রচুর পরিমাণ খাবার-দাবার। যাচ্ছি একটা ট্রাকের পেছনে চড়ে। খামসিনের চেক পয়েন্ট থেকে বিদ্রোহীরা এই ট্রাকওয়ালাকে রিকোয়েস্ট করে আমাদেরকে উঠিয়ে দিয়েছে। রাস্তা দিয়ে ফেরার সময় দেখলাম যুদ্ধের গাড়ি তেমন নেই, কিন্তু সাধারণ পিকআপে আর ট্রাকে করে মানুষ দামী দামী গাড়ি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন সহ দামী দামী জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানপাট এবং বড়লোকদের বাড়ি থেকে লুটপাট করা জিনিস এগুলো।

Continue reading লিবিয়া যুদ্ধে আমি (৮ম পর্ব): প্রতীক্ষিত পুনর্মিলন