Category Archives: লিবিয়া পরিচিতি

লিবিয়ানরা আফ্রিকান নাকি আরব?

লিবিয়ানরা একইসাথে আফ্রিকান এবং আরব। ভৌগলিক দিক থেকে তারা আফ্রিকান, ভাষা/জাতিগত দিক থেকে আরব। কিন্তু নিজেদেরকে তারা আরব ভাবতেই বেশি পছন্দ করে।

দৈনন্দিন কথাবার্তায় তারা আফ্রিকানদেরকে এমনভাবে “আফারেক” (আরবিতে আফ্রিকানের বহুবচন) বলে সম্বোধন করে, যাতে মনে হয় তারা নিজেরা আফ্রিকান না। আফারেক শব্দটা এখানে অধিকাংশ সময়ই তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত হয়।

Continue reading লিবিয়ানরা আফ্রিকান নাকি আরব?

মাছির চোখের মরুদ্যান

লিবিয়ার পশ্চিমে, তিউনিসিয়া সীমান্তের কাছে, গাদামেস শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই লেকটির নাম আইন আল-দুব্বান সল্ট লেক। আইন আল-দুব্বান অর্থ মাছির চোখ (আইজ অফ ফ্লাই সল্ট লেক)। পাশাপাশি অবস্থিত দুইটি লেককে উপর থেকে মাছির চোখের মতো দেখা যায় বলেই এদের এই নামকরণ।

পাশাপাশি অবস্থিত লেক দুইটির একটির গভীরতা ৬-৭ মিটার, অপরটির গভীরতা ৩৫ থেকে ৭০ মিটার। লেকের পানি স্বচ্ছ, গাঢ় নীল। স্থানীয়দের অনেকে এখানে মাছ চাষ করে। লবণাক্ত পানির হ্রদ হওয়ার কারণে পূর্বে এখানে লবণও চাষ করা হতো এবং এখান থেকে আহরিত লবণ দেশের উত্তরে সরবরাহ করা হতো।

চারপাশে গাছপালা দ্বারা পরিবেষ্টিত এই লেকটি লিবিয়ার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। লেকটির অবস্থান ত্রিপলী-গাদামেস হাইওয়ের উত্তরে। মূল হাইওয়ে ছাড়িয়ে প্রথমে কিছুদূর কাঁচা রাস্তা থাকলেও শেষের ৭ কিলোমিটার কোনো রাস্তাই নেই। তাই স্থানীয়দের সাহায্য ছাড়া এখানে যাওয়া একটু কঠিন। এমনকি যুদ্ধের আগেও এখানে লোকাল গাইড এবং পুলিশ ছাড়া যাওয়া নিষেধ ছিল। বর্তমানে তো এখানে যাওয়া আরো ঝুঁকিপূর্ণ।

মাইদান আল-জেজায়ের

ত্রিপলীর কেন্দ্রে অবস্থিত এই চত্বরের নাম আলজেরিয়া স্কয়ার বা মাইদান আল-জেজায়ের

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, লিবিয়ার চত্বরের নাম আলজেরিয়া কেন? কারণ পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে যখন আলজেরিয়াতে ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম চলছিল, তখন এই চত্বরটা ব্যবহৃত হতো আলজেরিয়ানদেরকে সাহায্য করার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। লিবিয়ান নারীরা এখানে এসে তাদের স্বর্ণ-গয়না বিক্রি করে সেই টাকা দান করে দিতেন আলজেরিয়ানদেরকে দেওয়ার জন্য। ১৯৬২ সালে তাই চত্বরটির নাম রাখা হয় আলজেরিয়া চত্বর

১৯৬২ সালের পূর্ব পর্যন্ত জায়গাটির নাম ছিল ক্যাথেড্রাল স্কয়ার বা পিয়াজ্জা দেলে ক্যাতেদ্রালে। কারণ চত্বরটির সামনেই যে বিশাল মসজিদটি দেখা যাচ্ছে, সেটি ছিল ১৯২৩ সালে ইতালিয়ানদের দ্বারা তৈরি একটি রোমান ক্যাথলিক চার্চ/ক্যাথেড্রাল। গাদ্দাফী ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭০ সালে গির্জাটির কিছু সংস্কার করে একে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয় এবং এর নাম দেওয়া হয় জামাল আব্দুল নাসের মসজিদ

আলজেরিয়া স্কয়ার ত্রিপলীর সবচেয়ে বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কগুলোর একটা। ২০১১ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ত্রিপলীর প্রায় সবগুলো আন্দোলন বা প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হওয়ার স্থান এটি। যদি যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়, তাহলেই কেবল মিছিল এখান থেকে গ্রিন স্কয়ারের (মাইদান আশ্‌শুহাদার) দিকে যায়।

ভ্যালি অফ প্ল্যানেটস: লিবিয়ার বুকে গ্রহদের উপত্যকা

১৭ লক্ষ ৫৯ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের লিবিয়ার অধিকাংশই মরুময় এলাকা। উত্তরে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী কিছু এলাকা এবং মাঝে মাছে কিছু মরুদ্যান ছাড়া পুরো দেশটাই মরুভূমি। এই মরুভূমির আয়তন প্রায় ১১ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।

লিবিয়ান ডেজার্ট মূলত সাহারা মরুভূমির একটি অংশ। এর কিছু অংশ বালুময়, আর কিছু অংশ পাথুরে। কিছু কিছু এলাকায় পাথুরে সমতল ভূমি বা হামাদায় অবস্থিত পাথরগুলো লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এসব বাতাসের ঘর্ষণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিচিত্র সব আকার ধারণ করেছে। এরকমই একটি এলাকা হলো ‘ওয়াদি আল-কাওয়াকেব’ বা ভ্যালি অফ প্ল্যানেটস (গ্রহ উপত্যকা)।

Continue reading ভ্যালি অফ প্ল্যানেটস: লিবিয়ার বুকে গ্রহদের উপত্যকা