Tag Archives: লিবিয়া

মাছির চোখের মরুদ্যান

লিবিয়ার পশ্চিমে, তিউনিসিয়া সীমান্তের কাছে, গাদামেস শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই লেকটির নাম আইন আল-দুব্বান সল্ট লেক। আইন আল-দুব্বান অর্থ মাছির চোখ (আইজ অফ ফ্লাই সল্ট লেক)। পাশাপাশি অবস্থিত দুইটি লেককে উপর থেকে মাছির চোখের মতো দেখা যায় বলেই এদের এই নামকরণ।

পাশাপাশি অবস্থিত লেক দুইটির একটির গভীরতা ৬-৭ মিটার, অপরটির গভীরতা ৩৫ থেকে ৭০ মিটার। লেকের পানি স্বচ্ছ, গাঢ় নীল। স্থানীয়দের অনেকে এখানে মাছ চাষ করে। লবণাক্ত পানির হ্রদ হওয়ার কারণে পূর্বে এখানে লবণও চাষ করা হতো এবং এখান থেকে আহরিত লবণ দেশের উত্তরে সরবরাহ করা হতো।

চারপাশে গাছপালা দ্বারা পরিবেষ্টিত এই লেকটি লিবিয়ার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। লেকটির অবস্থান ত্রিপলী-গাদামেস হাইওয়ের উত্তরে। মূল হাইওয়ে ছাড়িয়ে প্রথমে কিছুদূর কাঁচা রাস্তা থাকলেও শেষের ৭ কিলোমিটার কোনো রাস্তাই নেই। তাই স্থানীয়দের সাহায্য ছাড়া এখানে যাওয়া একটু কঠিন। এমনকি যুদ্ধের আগেও এখানে লোকাল গাইড এবং পুলিশ ছাড়া যাওয়া নিষেধ ছিল। বর্তমানে তো এখানে যাওয়া আরো ঝুঁকিপূর্ণ।

ম্যারি কোলভিনের প্রাইভেট ওয়ার

ফিচার ইমেজে গাদ্দাফীর সাথে ম্যারি কোলভিনের যে দৃশ্যটা দেখা যাচ্ছে, সেটা বাস্তবের না, A Private War সিনেমার। তবে বাস্তবেও সানডে টাইমসের সাংবাদিক ম্যারি কোলভিন গাদ্দাফীর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। একবার না, একাধিক বার।

১৯৮৬ সালে রিগ্যান প্রশাসন যখন লিবীয় নেতা মোয়াম্মার আল-গাদ্দাফিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাসভবনের উপর বিমান হামলা (অপারেশন এল-ডোরাডো ক্যানিয়ন) পরিচালনা করে, তখন ম্যারি কোলভিনই ছিলেন প্রথম সাংবাদিক, যিনি গাদ্দাফির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন।

বাস্তবে গাদ্দাফীর সাথে ম্যারি কোলভিন; Image Source: BBC

পরবর্তীতে ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পরেও গাদ্দাফির প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তিনি। ইনফ্যাক্ট গাদ্দাফী প্রশাসন ম্যারি কোলভিনের রিকোয়েস্টে সাড়া দিয়ে মোট তিনজন সাংবাদিককে গাদ্দাফীর সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি দেয়। বাকি দুইজন সাংবাদিক কারা হবেন, সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তারা ম্যারির উপরেই ছেড়ে দেয়।

Continue reading ম্যারি কোলভিনের প্রাইভেট ওয়ার

মাইদান আল-জেজায়ের

ত্রিপলীর কেন্দ্রে অবস্থিত এই চত্বরের নাম আলজেরিয়া স্কয়ার বা মাইদান আল-জেজায়ের

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, লিবিয়ার চত্বরের নাম আলজেরিয়া কেন? কারণ পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে যখন আলজেরিয়াতে ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম চলছিল, তখন এই চত্বরটা ব্যবহৃত হতো আলজেরিয়ানদেরকে সাহায্য করার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। লিবিয়ান নারীরা এখানে এসে তাদের স্বর্ণ-গয়না বিক্রি করে সেই টাকা দান করে দিতেন আলজেরিয়ানদেরকে দেওয়ার জন্য। ১৯৬২ সালে তাই চত্বরটির নাম রাখা হয় আলজেরিয়া চত্বর

১৯৬২ সালের পূর্ব পর্যন্ত জায়গাটির নাম ছিল ক্যাথেড্রাল স্কয়ার বা পিয়াজ্জা দেলে ক্যাতেদ্রালে। কারণ চত্বরটির সামনেই যে বিশাল মসজিদটি দেখা যাচ্ছে, সেটি ছিল ১৯২৩ সালে ইতালিয়ানদের দ্বারা তৈরি একটি রোমান ক্যাথলিক চার্চ/ক্যাথেড্রাল। গাদ্দাফী ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭০ সালে গির্জাটির কিছু সংস্কার করে একে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয় এবং এর নাম দেওয়া হয় জামাল আব্দুল নাসের মসজিদ

আলজেরিয়া স্কয়ার ত্রিপলীর সবচেয়ে বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কগুলোর একটা। ২০১১ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ত্রিপলীর প্রায় সবগুলো আন্দোলন বা প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হওয়ার স্থান এটি। যদি যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়, তাহলেই কেবল মিছিল এখান থেকে গ্রিন স্কয়ারের (মাইদান আশ্‌শুহাদার) দিকে যায়।

গণমানুষের নেতা গাদ্দাফী যেভাবে স্বৈরশাসক হলেন

সত্তরের দশকের গাদ্দাফী ছিল সত্যিকার অর্থেই জনগণের নেতা। সে সময় প্রায় প্রতিদিন গাদ্দাফী রাস্তায় বের হতো। একা, কোনো বডিগার্ড ছাড়া। সে সময় ত্রিপলীতে থাকা বাংলাদেশীদের অনেকেও গাদ্দাফীকে সরাসরি দেখেছে। কোনো অনুষ্ঠানে না, হঠাৎ কোনো রাস্তায়।

নিজের ফোক্স ওয়াগন গাড়িটা নিয়ে গাদ্দাফী একেক দিন একেক জায়গায় চলে যেত। কোনো স্কুলে, ইউনিভার্সিটিতে, মার্কেটে, হসপিটালে, ব্যাংকে। অথবা জনগণের ভীড়ে, ত্রিপলীর আশেপাশের কোনো গ্রামে। গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে মিশত, কথা বলত, তাদের মতামত জানতে চাইত।

Continue reading গণমানুষের নেতা গাদ্দাফী যেভাবে স্বৈরশাসক হলেন

ভ্যালি অফ প্ল্যানেটস: লিবিয়ার বুকে গ্রহদের উপত্যকা

১৭ লক্ষ ৫৯ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের লিবিয়ার অধিকাংশই মরুময় এলাকা। উত্তরে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী কিছু এলাকা এবং মাঝে মাছে কিছু মরুদ্যান ছাড়া পুরো দেশটাই মরুভূমি। এই মরুভূমির আয়তন প্রায় ১১ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।

লিবিয়ান ডেজার্ট মূলত সাহারা মরুভূমির একটি অংশ। এর কিছু অংশ বালুময়, আর কিছু অংশ পাথুরে। কিছু কিছু এলাকায় পাথুরে সমতল ভূমি বা হামাদায় অবস্থিত পাথরগুলো লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এসব বাতাসের ঘর্ষণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিচিত্র সব আকার ধারণ করেছে। এরকমই একটি এলাকা হলো ‘ওয়াদি আল-কাওয়াকেব’ বা ভ্যালি অফ প্ল্যানেটস (গ্রহ উপত্যকা)।

Continue reading ভ্যালি অফ প্ল্যানেটস: লিবিয়ার বুকে গ্রহদের উপত্যকা

সা’দী গাদ্দাফীর বর্তমান ও ভবিষ্যত

গাদ্দাফীর ছেলে সা’দী গাদ্দাফীকে একটি হত্যা মামলায় নির্দোষ হিসেবে রায় দিয়েছে ত্রিপলীর একটি আদালত।

সা’দী গাদ্দাফীর তৃতীয় ছেলে। ছোটকালে আমরা তাকে ফুটবলার হিসেবেই বেশি চিনতাম। লিবিয়ার ন্যাশনাল ফুটবল টীমের ক্যাপ্টেন ছিল কিছুদিন। খেলোয়াড় হিসেবে মোটামুটি ভালো মানের, কিন্তু লিবিয়াতে তার চেয়েও বেটার প্লেয়ার ছিল। তারপরেও মিডিয়াতে সারাক্ষণ ফোকাসে থাকত। দেশের ভেতরে খেলার সময় প্রায়ই দেখা যেত পুরা টীম তার জন্য অপেক্ষা করছে, শেষ মুহূর্তে সে হেলিকপ্টারে করে এসে নামার পর খেলা শুরু হচ্ছে 

Continue reading সা’দী গাদ্দাফীর বর্তমান ও ভবিষ্যত

লিবিয়াতে নারীদের সামাজিক অবস্থান

নারী দিবস উপলক্ষ্যে লিবিয়ায় নারীদের অবস্থার ব্যাপারে কিছু না লিখলে সেটা অন্যায় হবে 

ভার্সিটিতে ফার্স্ট ইয়ারে উঠার পর ব্যাপারটা আমি প্রথম লক্ষ্য করি। এক লিবিয়ান ফ্রেন্ডের সাথে আরেক লিবিয়ান ফ্রেন্ডের বাসায় গিয়েছিলাম একটা নোটের জন্য। যার সাথে গিয়েছি, সে দরজয় বেল টিপে দরজার সামনে থেকে দূরে গিয়ে উল্টোদিক ফিরে দাঁড়িয়ে রইল। আমি প্রথমে দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু তার দেখাদেখি তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং জিজ্ঞেস করলাম ব্যাপারটা কী?

Continue reading লিবিয়াতে নারীদের সামাজিক অবস্থান