শিক্ষা সফর – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

আত্মজীবনীমূলক > মুহম্মদ জাফর ইকবাল > শিক্ষা সফর

ইউনিভার্সিটিতে আমরা যখন পড়াশোনা করেছি, তখন লেখাপড়া ছিল একটু পুরনো ধাঁচের। তিন বছর পড়ার পর অনার্স পরীক্ষা শুরু হতো। সেটা শেষ করার পর এক বছরের মাস্টার্স। আমরা যে বছর পাস করেছি, সেই বছর থেকে মাস্টার্সের জন্য নতুন একটা বিভাগ খোলা হলো। সেটার নাম থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স।

এটা মোটামুটি আধুনিক একটা বিভাগ। আমেরিকান কায়দায় দুটি সেমিস্টার। দুই সেমিস্টারে পাঁচটি পাঁচটি করে ১০টি আধুনিক কোর্স। আমরা প্রথমদিকের ১০ জন – ছয়জন ছেলে ও চারজন মেয়ে খুব আগ্রহ নিয়ে এই আধুনিক বিভাগে ভর্তি হয়ে গেলাম। বাকি ছেলেমেয়েরা পুরনো বিভাগে রয়ে গেল।

এক বিভাগের ছেলেমেয়েদের দুই ভাগে ভাগ করলে যা হয়, তা-ই হলো। দুই ভাগের মাঝে একটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। তারা দলে ভারী, পুরো ডিপার্টমেন্টই তাদের। আমাদের মাত্র একজন শিক্ষক, নিজেদের ক্লাসরুম নেই, ল্যাব নেই, বসার জায়গা নেই, খানিকটা উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়াই। পুরোনো বন্ধুবান্ধবরা কখনো আমাদের নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে, কখনো হিংসা করে।

আমার নিজের সমস্যা একটু অন্য রকম, সারা জীবন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এসেছি। যখনই সম্ভব হয়েছে পার্সেন্টেজ দিয়ে সটকে পড়েছি। বড় ক্লাস, কেউ টের পায়নি। ছোট ক্লাসে সেটা করা যায় না, হাতেগোনা ১০ জন মাত্র ছাত্রছাত্রী, স্যারেরা সবার মুখ চেনেন, পালানোর উপায় নেই।  Read the rest of this entry »

ডিজিটাল আব্বা – আনিসুল হক

রম্যগল্প > আনিসুল হক > ডিজিটাল আব্বা

ডিপার্টমেন্টের হেডস্যার বললেন, ‘নেক্সট সেমিস্টারে তোমার আর কন্টিনিউ করার দরকার নাই। তুমি অন্য কোথাও দেখো।’

আমি বললাম, ‘স্যার, আর কোথায় দেখব! এত ভালো একটা ইউনিভার্সিটি আমি ছাড়ব না। আর আপনার মতো টিচার! আমাকে লাস্ট চান্স দেন, স্যার।’

‘গতবার আমি তোমাকে লাস্ট চান্স দিয়েছি। লাস্ট চান্স কয়বার হয়?’ স্যারের মুখে মৃদু হাসি।

‘এবিসি স্যার (মানে আবুল বাশার চৌধুরী) তো স্যার, আমাকে তিনবার লাস্ট চান্স দিয়েছেন।’

হেডস্যার হাসলেন, ‘তুমি টার্ম ফি দাও নাই। অ্যাবসেন্ট ছিলা প্রায় সব দিন। ফাইন দিয়ে এডমিশন নেওয়ার ডেটও পার হয়ে গেছে।’

‘ব্যাক ডেটে নেন, স্যার।’

‘তুমি এক কাজ করো। তোমার আব্বাকে ডেকে আনো। উনি এসে যদি বন্ড দেন, তাহলেই তোমাকে আমরা পরের সেমিস্টারে অ্যালাউ করব। যাও।’ স্যারের হাসি মিলিয়ে গেল। তাঁর মুখটা কঠিন মনে হচ্ছে। আমি ঘামছি। অথচ স্যারের রুমে এয়ারকন্ডিশনার। মাথার ওপরে ফ্যানও ঘুরছে।

আব্বা আসলে নিয়মিত টাকা দিয়েছেন। টার্ম ফি, সেশন ফি। আমি সেসব ভার্সিটিতে জমা দিইনি। এখন আব্বাকে কীভাবে বলব, আপনাকে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে হবে। এটা অসম্ভব। এর আগে আব্বা আমার কাছে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ চেয়েছেন। সেটা বানিয়েছি। রসিদ বানানো খুব সোজা। কম্পিউটারে বানিয়ে লাল-হলুদ কাগজে প্রিন্ট নিলেই হলো। পরীক্ষার প্রগ্রেসিভ রিপোর্ট চেয়েছেন। সেটাও বানিয়ে নিয়ে গেছি। আব্বা জানে আমার ফিফথ সেমিস্টার চলছে। আসলে আমার অবস্থা খুবই খারাপ। থার্ড সেমিস্টার পার হতে পারছি না।

আচ্ছা, এত কিছু যখন নকল করতে পেরেছি, একটা আব্বাও নকল করতে পারব। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে আছে মোস্তফা কামাল, তাকে দেখতে লাগে বাবা-বাবা। Read the rest of this entry »

সাহস – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

সায়েন্স ফিকশন > মুহম্মদ জাফর ইকবাল > সাহস

মহাকাশযানের অধিনায়ক জিজ্ঞেস করলেন, তুমি প্রস্তুত?

অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মহাকাশযানের ক্রু ইগর কাঁপা গলায় বলল, জ্বি ক্যাপ্টেন, আমি প্রস্তুত।

তাহলে যাও। আশা করি শত্রুর সঙ্গে এই যুদ্ধে তুমি জয়ী হবে।

ইগর তবু দাঁড়িয়ে থাকে, অগ্রসর হয় না। অধিনায়ক জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে?

ভয় করছে। মহাজাগতিক এই প্রাণীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে যেতে আমার ভয় করছে, ক্যাপ্টেন।

তোমার কোনো ভয় নেই, ইগর। ক্যাপ্টেন তার হাতের রিমোট কন্ট্রোল স্পর্শ করে বললেন, তোমার ভয় আমি দূর করে দিচ্ছি। রিমোট কন্ট্রোল স্পর্শ করে মহাকাশযানের অধিনায়ক ইগরের মস্তিষ্কে  Read the rest of this entry »

এটা একটা দুর্ঘটনার গল্প – মঈনুল আহসান সাবের

গল্প > মঈনুল আহসান সাবের > এটা একটা দুর্ঘটনার গল্প

রাণী কতক্ষণ সুমনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। সে জানতে চাইল, এই ডিসিশনটা কি তুমি নিয়েই নিয়েছ?

সুমন হাসি মুখে মাথা ঝাঁকাল, জ্বি ম্যাডাম, নিয়েই নিয়েছি। বহু ভেবেচিন্তে…।

রাণী হতাশ গলায় বলল, এটা তোমার একটা বাজে সিদ্ধান্ত।

সুমন হাসল, পরে তুমি দেখবে এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।

সুমনের চাকুরিটা রাণীর খুবই অপছন্দের। সপ্তাহে ছদিন তার রাতে ডিউটি, একদিন ছুটি। রাণী বলে, ওই একটা রাত তোমাকে ছাড় দিয়েছে কেন বল তো! একটা রাত বাসায় থাকতে হয় বলে তোমার নিজেরও কি অস্বস্তি লাগে না? Read the rest of this entry »

শপিং – আহসান হাবীব

রম্য রচনা > আহসান হাবীব > শপিং

ঈদ আসছে। কাজেই ঈদের শপিংও শুরু হয়ে গেছে। তো, এক লোক গেছে এক দোকানে –
: একটা রুমাল দিন।
: রুমাল?
: হ্যাঁ, কেন রুমাল নেই?
: থাকবে না কেন, কিন্তু তাই বলে শুধু রুমাল? কী বলছেন আপনি? আমাদের কাছে শার্ট-প্যান্ট, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, জুতা, মোজা, পায়জামা-পাঞ্জাবি … ঈদে যা যা লাগে সবই আছে লেটেস্ট ডিজাইনের … ঈদ স্পেশাল। আর আপনি চাইছেন শুধু রুমাল?
: হ্যাঁ, আগে একটা রুমালই দিন।
দোকানদার বিরস মুখে একটা রুমাল দিল। বউনির সময় শুধু একটা রুমাল! সে হতাশ। ক্রেতা রুমালটা নিয়ে তার মুখ বাঁধল। যেমন করে ডাকাতেরা মুখ বাঁধে। তারপর পকেট থেকে Read the rest of this entry »

ডাউনলোড করুন রহস্যপত্রিকা

রহস্য পত্রিকা

রহস্য পত্রিকা

ইতোপূর্বে আমি আমার রহস্যপত্রিকা পড়ুন অনলাইনে শিরোণাম বিশিষ্ট প্রবন্ধে টাইনিলোডার নামক একটি সাইটে আপলোড করা কিছু রহস্যপত্রিকার সন্ধান দিয়েছিলাম। কিন্তু এই সাইটটার সমস্যা হল এতে রহস্যপত্রিকার প্রতিটি পৃষ্ঠাকে পৃথক পৃথক ভাবে *.jpeg ফরম্যাটে পৃথক পৃথক পাতায় স্থান দেওয়া হয়েছে। সরাসরি পুরো একটা সংখ্যা একসাথে ডাউনলোড করে অফলাইনে পড়ার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে ব্যবহারকারীদেরকে অনলাইনে বসে প্রতিটি পৃষ্ঠায় ক্লিক করে Read the rest of this entry »

রহস্যপত্রিকা পড়ুন অনলাইনে

রহস্য পত্রিকা

রহস্য পত্রিকা

রহস্যপত্রিকার সাথে সম্ভবত বাংলাদেশের প্রায় সবাইই পরিচিত। বিশেষ করে মাসুদ রানার স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন যখন এর সম্পাদক। আমার নিজের অবশ্য এর আগে কখনও রহস্যপত্রিকা পড়ার সুযোগ হয়নি। সেবা প্রকাশনীর একমাত্র তিন গোয়েন্দা এবং মাসুদ রানা ছাড়া অন্য কোন বইই আসলে আমার পড়া হয়নি। সেবার ঐ বইগুলোর সুবাদেই সম্ভবত রহস্যপত্রিকা নামটার সাথে পরিচিত ছিলাম। কিন্তু কখনও হাতে পাইনি বলে পড়া হয়নি।

ইন্টারনেটে মূর্ছনা এবং বাংলাবুকে প্রচুর গল্পের বই পাওয়া গেলেও সেখানে কোন পত্রিকা বা ম্যাগাজিন জাতীয় কিছু পাওয়া যায় না। তবে Read the rest of this entry »