All posts by মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

জন্মের পর থেকেই লিবিয়াতে আছি। ২০১১ সালের গৃহযুদ্ধের পুরো সময়টা জুড়ে ছিলাম গাদ্দাফীর জন্ম এবং মৃত্যুস্থান সিরতে। ২০১৫ সালে শহরটা আইএসের দখলে যাওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে ত্রিপলীতে চলে আসি। তারপর থেকে সেখানেই আছি। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু শখ বিচিত্র বিষয়ে। সেগুলো নিয়ে জানতে, চিন্তা করতে এবং লেখালেখি করতে পছন্দ করি।

দোতলায় ল্যান্ডিং, মুখোমুখি ফ্ল্যাট, কথা হবে তো?

দেখলাম অস্থির সময়ের স্বস্তির গল্প সিরিজের নাটক “কথা হবে তো?” চমৎকার একটি নাটক। গল্পটি খুবই চেনা এবং সিম্পল। কিন্তু পরিচালকের নিপুণতায় সেটিই হয়ে উঠেছে হাজার নাটকের ভীড়ে একরাশ স্নিগ্ধতার পরশ বুলিয়ে দেওয়া ব্যতিক্রমধর্মী সুন্দর একটি নাটক।

কাহিনী বলব না, শুধু বলি মুখোমুখি দুটো ফ্ল্যাট, পাশাপাশি বসবাস, দেখা হয়, খবর শোনা হয়, কিন্তু কথা বলা হয় না। বিদায়ের সময় দোতলার ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে টুকটাক ভাঙ্গাভাঙ্গা কথা, এরপরই এতোদিনের ভুলের অবসান … শেষ দৃশ্যের কথপোকথের দৃশ্যটা দারুণ ছিল। কিছুটা আদনান আল রাজীবের সীলন টির বিজ্ঞাপনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

Continue reading দোতলায় ল্যান্ডিং, মুখোমুখি ফ্ল্যাট, কথা হবে তো?

Advertisements

মুগ্ধ হওয়ার মতো অসাধারণ কিছু লিবিয়ান চিত্রকর্ম

আব্দুর রাজ্জাক আল-রিয়ানী একজন লিবিয়ান চিত্রশিল্পী। সম্ভবত লিবিয়ার সেরা চিত্রশিল্পীদের মধ্যে একজন। অন্তত আমার কাছে তার আঁকা প্রতিটি ছবিই ‌অসাধারণ মনে হয়। ক্যানভাসের উপর তেল রঙে আঁকা তার একেকটি ছবিতে জীবন্ত হয়ে ফুটে ওঠে লিবিয়ার মানুষজন, ঘরবাড়ি এবং আসবাবপত্র।

আব্দুর রাজ্জাক আল-রিয়ানীর জন্ম ত্রিপলী, লিবিয়াতে। ১৯৯১ সালে ত্রিপলী ইউনিভার্সিটি (তৎকালীন আল-ফাতাহ ইউনিভার্সিটি) থেকে চারুকলারয় স্নাতক অর্জন করেন। এরপর ২০০৫ সালে ইতালির রোম ইউনিভার্সিটি অফ ফাইন আর্টস থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসের উপর পিএইচডি করছেন।  লিবিয়া ছাড়াও মাল্টা, ইতালি, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে।

Continue reading মুগ্ধ হওয়ার মতো অসাধারণ কিছু লিবিয়ান চিত্রকর্ম

ডাউনলোড করুন বাংলা টিনটিন সমগ্র (হাই কোয়ালিটি)

কমিক্সের মধ্যে টিনটিন আমার সবচেয়ে প্রিয়। এবং এটি যে অন্যদেরও ভীষণ প্রিয়, সেটি বুঝা যায় আমার ব্লগে যত ভিজিটর আসে, তার একটা বড় অংশই আসে গুগল থেকে টিনটিন সার্চ করার মাধ্যমে।

ব্লগটি নতুন করে সাজানোর পর প্রথমে পুরানো অনেক পোস্টের পাশাপাশি টিনটিন ডাউনলোড করার পোস্টটিও রিমুভ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু পাঠক চাহিদার কথা বিবেচানা করে আবার নতুন করে পোস্ট করলাম।

Continue reading ডাউনলোড করুন বাংলা টিনটিন সমগ্র (হাই কোয়ালিটি)

গাদ্দাফীর শাসণামলের ১০টি ফ্যাক্ট: সত্য না মিথ্যা?

মোয়াম্মার আল-গাদ্দাফীর গুণগান সম্বলিত একটি ভাইরাল লিস্ট পাওয়া যায় ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে, যেখানে গাদ্দাফীর সময়ে লিবিয়ানরা কত সুখে-শান্তিতে ছিল, সেটি বোঝানোর জন্য ১০টি বা ১২টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়। লিস্টটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, দুদিন পরপরই কেউ না কেউ এটি শেয়ার করে, এবং অবধারিতভাবে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডদের কেউ না কেউ আমাকে সেখানে ট্যাগ করে এর সত্যতা জানতে চায়। অনেক দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত এর সত্যতা যাচাইমূলক একটি লেখা লিখেই ফেললাম।

Continue reading গাদ্দাফীর শাসণামলের ১০টি ফ্যাক্ট: সত্য না মিথ্যা?

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের প্রেম

এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোক আর তার প্রেমিকা বিকেলে বেড়াতে বের হয়েছে। প্রেমিকার মন খারাপ, কারণ তার প্রেমিক তার সাথে ঘুরতে বের হলে কখনোই তার রূপের প্রশংসা করে না। এমনকি, সে কি পরে এসেছে, কিভাবে সেজে এসেছে, সেদিকেও ভালো করে তাকায় না। আশেপাশের সুন্দর সুন্দর স্ট্রাকচারগুলোর দিকে চেয়ে চেয়েই তার সময় কেটে যায়।

তো এই বিশেষ দিনে ভদ্রলোক তার স্বভাবের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রেমিকার হাত ধরে বলল, দেখ কী সুন্দর আবহাওয়া! না গরম, না ঠান্ডা।

প্রেমিকার মন খুশিতে নেচে উঠল। এই প্রথম বুঝি তার প্রেমিক তার সাথে দুই একটা রোমান্টিক গলায় কথা বলবে! সে আগ্রহ নিয়ে প্রেমিকের মুখের দিকে তাকাল।

ইঞ্জিনিয়ার প্রেমিক তার কথা কন্টিনিউ করে যেতে লাগল, আবহাওয়াটা আসলেই চমত্‍কার! রোদও নেই, বৃষ্টিও নেই। কিছুটা মেঘলা … প্রেমিকা পরের বাক্যটা শোনার জন্য উত্‍সুক নয়নে তার প্রেমিকের দিকে তাকাল। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোক তার বাক্যটা শেষ করল – ওয়েদারটা কংক্রীট কাস্টিংয়ের জন্য একেবারে পারফেক্ট 🙂

প্রথম লেখা: ১ ডিসেম্বর, ২০১৪, ফেসবুকে

হুমায়ূন আহমেদের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার

এইটা কোন ব্যাঙ্গাত্মক বা ফানি পোস্ট না, সিরিয়াসলিই বলছি। বাংলাদেশের কাউকে যদি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিতে হয়, তবে সেটা কাজী আনোয়ার হোসেনকেই দেওয়া উচিত। জ্বী, ঠিকই পড়ছেন, সাহিত্যে না, শান্তিতেই নোবেল পুরস্কার দেওয়ার কথা বলছি।

বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ মানুষকে বইমুখী করার ব্যাপারে দুইজন ব্যক্তির অবদান অনস্বীকার্য। এক. হুমায়ূন আহমেদ, দুই, কাজী আনোয়ার হোসেন। শুধু সেবার আর হুমায়ুন আহমেদের তথাকথিত হলকা আর চটুল বই পড়তে পড়তেই কত পোলাপান যে নিজের অজান্তেই পাঠক হয়ে গেছে, তার কোন হিসাব বের করা যাবে না।

Continue reading হুমায়ূন আহমেদের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার

কাজলা দিদির প্যারডি

খেজুর গাছের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ,
মা গো আমার ঘুম আসে না, ঘুমের ওষুধ কই?

ত্রিপলী আর বেনগাজীতে
ধুড়ুম-ধাড়ুম বোমবাজিতে,
বারুদের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই।
মা গো আমার হাতের কাছে ঘুমের ওষুধ কই?

গুলির খোসায় ছেয়ে গেছে এয়ারপোর্টের রোড,
দেশের ভেতর করছে বিরাজ ইমার্জেন্সী মোড।
বিল্ডিংগুলোর ফাঁকে ফাঁকে,
স্নাইপারেরা লুকিয়ে থাকে।
মেরেই হঠাত বসতে পারে পেয়ে গোপন কোড,
সাবধানেতে থাকিস মাগো, এড়িয়ে চলিস রোড।

খেজুর গাছের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ,
মা গো আমার ঘুম আসে না, ঘুমের ওষুধ কই?
মাথার উপর সারাটি দিন,
উড়ছে বিমান বিরতিহীন,
ড্রোনের শব্দে ঘুম আসে না, তাই তো জেগে রই।
এমন সময় মা গো আমার ঘুমের ওষুধ কই?

প্রথম লেখা: ১৭ আগস্ট, ২০১৪, ফেসবুকে, সে সময় ত্রিপলীর এয়ারপোর্ট রোডে এবং বেনগাজীতে তুমুল যুদ্ধ চলছিল।