সিরিয়াতে কোন পক্ষকে সমর্থন করা উচিত?

সিরিয়াতে কোন পক্ষকে সমর্থন করা উচিত? আসাদকে? নাকি বিদ্রোহীদেরকে? মূল প্রসঙ্গে পরে যাই, তার আগে ইরান প্রসঙ্গে কিছু বলি।

শুরু করি চেতনা দিয়ে। আমাদেরকে শেখানো হয়, যেহেতু একাত্তরে পাকিস্তান আমাদের উপর গণহত্যা চালিয়েছে, তাই কেয়ামত পর্যন্ত সব পাকিস্তানীকে আমাদের ঘৃণা করতে হবে। এমনকি, পাকিস্তানের উপর দিয়ে যে ফ্লাইট চলে, সেই প্লেনেও চড়া যাবে না। অন্যদিকে ভারত যেহেতু আমাদের বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়েছে, তাই কেয়ামত পর্যন্ত তাদেরকে ভালোবাসতে হবে। চাওয়ার আগেই সবকিছু তাদেরকে তুলে দিতে হবে।

Continue reading সিরিয়াতে কোন পক্ষকে সমর্থন করা উচিত?

‘লিবিয়ার শতবর্ষের নির্জনতা’ : মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার সাক্ষাৎকার

ইরফানুর রহমান রাফিন একজন জনপ্রিয় ব্লগার। সম্প্রতি তিনি নিজের ব্লগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎ প্রকাশ করা শুরু করেছেন। প্রথম সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জনপ্রিয় রাজনৈতিক সমালোচক অনুপম দেবাশীষ রয়ের। আর দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি ছিল আমার।

এই সাক্ষাৎকারে লিবিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, গাদ্দাফীর উত্থান, তার শাসণামলের ভালোমন্দ দিকগুলো, ২০১১ সালের বিদ্রোহের সূচনা, দেশী-বিদেশী শক্তির প্রভাব, বিদ্রোহ পরবর্তী লিবিয়ার রাজনীতি, আল-ক্বায়েদা-আইসিসের উত্থান, তাদের ক্ষমতার উৎস, লিবিয়ার ভবিষ্যৎ সহ অনেক কিছু উঠে এসেছে।

মূল সাক্ষাৎকারটি পড়তে পারেন এই লিংক থেকে

Continue reading ‘লিবিয়ার শতবর্ষের নির্জনতা’ : মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার সাক্ষাৎকার

অ্যান্টি অ্যামেরিকান নিউজের পরিমাণ কেন বেশি?

পত্রপত্রিকায় বা ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা দেখা যায় আমেরিকার বিরুদ্ধে। এর একটা কারণ তো পরিষ্কার – আমেরিকা আসলেই বিশ্বের নাম্বার ওয়ান কালপ্রিট। তা না হলে তারা তাদের সুপার পাওয়ার মেইন্টেইন করতে পারত না।

কিন্তু আমেরিকা বিরোধিতার এটাই একমাত্র কারণ না। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, পাবলিক আমেরিকা বিরোধিতা বেশি খায়। সেজন্য দেখা যায় যারা আসলে আমেরিকা বিরোধী না, বা ইনফ্যাক্ট যারা নিজেরাই আমেরিকার পাপেট, তারাও প্রকাশ্যে প্রচন্ড আমেরিকা বিরোধী সাজে এবং পাবলিকের মন জয় করার জন্য অন্যদেরকে আমেরিকাপন্থী, বা যেকোনো অপরাধকে আমেরিকার ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করতে থাকে।

Continue reading অ্যান্টি অ্যামেরিকান নিউজের পরিমাণ কেন বেশি?

কোনো ঘটনায় যে লাভবান, সেই কি দায়ী?

কোনো ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, সেটা বোঝার একটা উপায় হচ্ছে ঐ ঘটনায় কারা লাভবান হচ্ছে, সেটা লক্ষ্য করা।

কিন্তু এই পদ্ধতি কোনো ফুলপ্রুফ পদ্ধতি না। কারণ একই ঘটনায় একাধিক পক্ষ লাভবান হতে পারে। একজনের লাভের গুড় অন্য কেউও খেতে পারে। আবার আমরা যেটাকে স্বল্পকালীন লাভ মনে করছি, কোনো পক্ষ হয়তো সেটাকেই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি মনে করতে পারে।

Continue reading কোনো ঘটনায় যে লাভবান, সেই কি দায়ী?

লিবিয়া সিভিল ওয়ার গাইড

অনেকেই ইদানীং নতুন করে শুরু হওয়া লিবিয়া যুদ্ধ ফলো করছেন। কিন্তু লিবিয়ার পরিস্থিতি এতো জটিল, কনটেক্সট জানা না থাকলে কিছু ভুল বোঝাবোঝির সৃষ্টি হতে পারে। সেজন্য এখানে কিছু সহজ টিপস দিলাম:


১। “আর্মি” শব্দটাকে সিরিয়াসলি নিবেন না।

সত্যিকার আর্মি বলতে লিবিয়াতে কিছু নাই। “লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি” বা এলএনএ বলতে মূলত জেনারেল হাফতারের বাহিনীকে বোঝানো হয়। কিন্তু সেটা ঠিক ট্রেডেশনাল আর্মি না, আর চরিত্রগত ভাবে ন্যাশনাল তো না-ই।

হাফতারের বাহিনীর দুইটা অংশ। একটা অংশ অর্থাৎ কিছু ব্রিগেড সত্যি সত্যিই প্রফেশনাল আর্মির স্ট্রাকচার ফলো করে। এদের সদস্যরা এবং কমান্ডাররা অনেকেই গাদ্দাফীর আমলের সেনাবাহিনী থেকে আসা। এছাড়াও হাফতার নিজেও গত সাড়ে চার বছরে অনেক নতুন সেনাসদস্যকে ট্রেনিং দিয়ে নিজের বাহিনীকে মোটামুটি একটা অর্গানাইজড স্ট্রাকচারে রূপ দিয়েছেন।

Continue reading লিবিয়া সিভিল ওয়ার গাইড

জেনারেল হাফতার কি এখনও সিআইএ এজেন্ট?

জেনারেল হাফতার একসময় সিআইএ এজেন্ট ছিলেন – এটা সবাই জানে। কিন্তু ঠিক কতদিন পর্যন্ত, এটা কেউ পরিষ্কারভাবে জানে না। সব জায়গায় এমনভাবে বর্ণনা করা হয়, যেন হাফতার ২০ বছর ধরেই সিআইএর এজেন্ট ছিলেন। কিন্তু লিবিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, ইউনিভার্সিটি অফ প্যারিস এইটের প্রফেসর জালাল হারশাউইর মতে, ব্যাপারটা পুরাপুরি সত্য না।

১৯৮৭ সালে চাদ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে যখন তিনি ফরাসিদের হাতে গ্রেপ্তার হন, তখন আন্তর্জাতিক চাপ এড়ানোর জন্য গাদ্দাফী তার সাথে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। হাফতারের সামনে তখন দুইটা অপশন ছিল – সারা জীবন বন্দী অবস্থায় কাটানো, অথবা আমেরিকান/ফ্রেঞ্চদের সাথে যোগ দেওয়া। হাফতার দ্বিতীয় অপশনটা গ্রহণ করেন।

Continue reading জেনারেল হাফতার কি এখনও সিআইএ এজেন্ট?

লিবিয়ানরা আফ্রিকান নাকি আরব?

লিবিয়ানরা একইসাথে আফ্রিকান এবং আরব। ভৌগলিক দিক থেকে তারা আফ্রিকান, ভাষা/জাতিগত দিক থেকে আরব। কিন্তু নিজেদেরকে তারা আরব ভাবতেই বেশি পছন্দ করে।

দৈনন্দিন কথাবার্তায় তারা আফ্রিকানদেরকে এমনভাবে “আফারেক” (আরবিতে আফ্রিকানের বহুবচন) বলে সম্বোধন করে, যাতে মনে হয় তারা নিজেরা আফ্রিকান না। আফারেক শব্দটা এখানে অধিকাংশ সময়ই তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত হয়।

Continue reading লিবিয়ানরা আফ্রিকান নাকি আরব?

গাদ্দাফীকে উৎখাত করতে গিয়ে আমেরিকা যেভাবে ভজগট পাকিয়ে ফেলেছিল!

আশির দশকে আমেরিকা গাদ্দাফীকে হত্যার আয়োজন করছিল।

শুধু আমেরিকা বললে ভুল হবে। সেসময় বিভিন্ন দেশের সাথে গাদ্দাফীর সম্পর্ক খারাপ ছিল। সিআইএর তথ্য অনুযায়ী আমেরিকা ছাড়াও ফ্রান্স, চাদ, মিসর, সুদান, মরক্কো, সৌদি আরব এমনকি ইরাক পর্যন্ত গাদ্দাফীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আগ্রহী বিদ্রোহীদেরকে সাহায্য করে আসছিল।

গাদ্দাফীকে সরাতে চাওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রকম কারণ ছিল। ফ্রান্স এবং আমেরিকার প্রধান কারণ ছিল চাদের উপর গাদ্দাফীর হস্তক্ষেপ। চাদ ছিল ফ্রান্সের কলোনী। স্বাধীনতার পরেও সেখানে ফ্রান্সের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। কিন্তু গাদ্দাফী যখন ১৯৭৮ সালে চাদের একটি অংশকে লিবিয়ার ভূখন্ড দাবি করে সেখানে সেনাবাহিনী পাঠায়, তখনই প্রধানত ফ্রান্স এবং সেই সাথে আমেরিকা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সম্ভাবনা বিচরণ করতে শুরু করে।

Continue reading গাদ্দাফীকে উৎখাত করতে গিয়ে আমেরিকা যেভাবে ভজগট পাকিয়ে ফেলেছিল!

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ – কিছু নির্মোহ পয়েন্ট

পড়লাম বহুল আলোচিত-সমালোচিত বই আরিফ আজাদের প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ। ঠিক রিভিউ না, আবেগ বর্জিত কয়েকটা পয়েন্ট বলি:

১। কয়েকটা চ্যাপ্টার ভালো। বিশেষত যেসব চ্যাপ্টারে বিজ্ঞান নেই, শুধু দর্শন আছে, সেগুলো ভালো। সবচেয়ে ভালো সেসব চ্যাপ্টার, যেগুলোতে কুরআনের মুজেজা বা কুরআন সম্পর্কে নাস্তিকদের সিলি প্রশ্নের জবাব তুলে ধরা হয়েছে। যেমন জুলকারনাইনের পঙ্কিল জলাশয়ে সূর্যাস্ত, নারী মৌমাছি, মুসা (আ) বনাম ইউসুফ (আ) এর বাদশাহ্‌’র টাইটেল এগুলো।

Continue reading প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ – কিছু নির্মোহ পয়েন্ট

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শান্তির বার্তা