সিরিয়াতে কোন পক্ষকে সমর্থন করা উচিত?

সিরিয়াতে কোন পক্ষকে সমর্থন করা উচিত? আসাদকে? নাকি বিদ্রোহীদেরকে? মূল প্রসঙ্গে পরে যাই, তার আগে ইরান প্রসঙ্গে কিছু বলি।

শুরু করি চেতনা দিয়ে। আমাদেরকে শেখানো হয়, যেহেতু একাত্তরে পাকিস্তান আমাদের উপর গণহত্যা চালিয়েছে, তাই কেয়ামত পর্যন্ত সব পাকিস্তানীকে আমাদের ঘৃণা করতে হবে। এমনকি, পাকিস্তানের উপর দিয়ে যে ফ্লাইট চলে, সেই প্লেনেও চড়া যাবে না। অন্যদিকে ভারত যেহেতু আমাদের বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়েছে, তাই কেয়ামত পর্যন্ত তাদেরকে ভালোবাসতে হবে। চাওয়ার আগেই সবকিছু তাদেরকে তুলে দিতে হবে।

Continue reading সিরিয়াতে কোন পক্ষকে সমর্থন করা উচিত?

‘লিবিয়ার শতবর্ষের নির্জনতা’ : মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার সাক্ষাৎকার

ইরফানুর রহমান রাফিন একজন জনপ্রিয় ব্লগার। সম্প্রতি তিনি নিজের ব্লগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎ প্রকাশ করা শুরু করেছেন। প্রথম সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জনপ্রিয় রাজনৈতিক সমালোচক অনুপম দেবাশীষ রয়ের। আর দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি ছিল আমার।

এই সাক্ষাৎকারে লিবিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, গাদ্দাফীর উত্থান, তার শাসণামলের ভালোমন্দ দিকগুলো, ২০১১ সালের বিদ্রোহের সূচনা, দেশী-বিদেশী শক্তির প্রভাব, বিদ্রোহ পরবর্তী লিবিয়ার রাজনীতি, আল-ক্বায়েদা-আইসিসের উত্থান, তাদের ক্ষমতার উৎস, লিবিয়ার ভবিষ্যৎ সহ অনেক কিছু উঠে এসেছে।

মূল সাক্ষাৎকারটি পড়তে পারেন এই লিংক থেকে

Continue reading ‘লিবিয়ার শতবর্ষের নির্জনতা’ : মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহার সাক্ষাৎকার

ভ্যালি অফ প্ল্যানেটস: লিবিয়ার বুকে গ্রহদের উপত্যকা

১৭ লক্ষ ৫৯ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের লিবিয়ার অধিকাংশই মরুময় এলাকা। উত্তরে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী কিছু এলাকা এবং মাঝে মাছে কিছু মরুদ্যান ছাড়া পুরো দেশটাই মরুভূমি। এই মরুভূমির আয়তন প্রায় ১১ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।

লিবিয়ান ডেজার্ট মূলত সাহারা মরুভূমির একটি অংশ। এর কিছু অংশ বালুময়, আর কিছু অংশ পাথুরে। কিছু কিছু এলাকায় পাথুরে সমতল ভূমি বা হামাদায় অবস্থিত পাথরগুলো লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এসব বাতাসের ঘর্ষণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিচিত্র সব আকার ধারণ করেছে। এরকমই একটি এলাকা হলো ‘ওয়াদি আল-কাওয়াকেব’ বা ভ্যালি অফ প্ল্যানেটস (গ্রহ উপত্যকা)।

লিবিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঘাত শহরের নিকটে, গভীর মরুভূমিতে অবস্থিত এই অঞ্চলের পাথরগুলো এমন আকার ধারণ করেছে, যে এগুলোকে দেখতে সৌরজগতের গ্রহের মতো মনে হয়। সেজন্যই এদের এই নামকরণ, যদিও এলাকাটির প্রকৃত নাম ‘ওয়ান তাকুফি’। পাথরগুলোর অধিকাংশই আকারে ছোট থেকে মাঝারি হলেও কয়েকটি আছে বিশাল।

ঘাতক বাস চালকের জবানবন্দীর অন্তরালে

বাস চালকের জবানবন্দী পড়ে আমি আবেগে অভিভূত হয়ে গেলাম। আমার চোখ দিয়ে নিজের অজান্তেই ঝর ঝর করে পানি পড়তে লাগল। মানবতা এখনও বেঁচে আছে, হারিয়ে যায়নি!

ভেবে দেখেন, সবগুলো পত্রিকায় গত এক সপ্তাহে এসেছে, এটা ছিল বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা। চালক ইচ্ছে করে বাচ্চাদের উপর গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে তাদেরকে খুন করেছে, এটা কেউ দাবি করেনি। চালক যদি নিজ মুখে স্বীকার না করত, তাহলে সেটা প্রমাণ করারও কোনো উপায় ছিল না। আর এরকম ক্ষেত্রে সাধারণত কেউ স্বীকারও করে না। ঠিক এ ধরনের কেসে কয়টা এরকম স্বীকারোক্তি শুনেছেন?

Continue reading ঘাতক বাস চালকের জবানবন্দীর অন্তরালে

গুজব কেন আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর

গুজব সাধারণত তিন পক্ষ ছড়ায়। অতি উৎসাহী পক্ষ, বেকুব পক্ষ এবং সরকারী পক্ষ। তিনটাই আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর।

এ জন্য আমি সব সময়ই গুজবের বিরুদ্ধে। গুজব অধিকাংশ সময়ই ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। অ্যাজ এ মেম্বার অফ অতি উৎসাহী পক্ষ, আপনি হয়তো মনে করতে পারেন, গুজব ছড়িয়ে বিপ্লব ঘটিয়ে দিব। কখনো কখনো হয়তো এ পদ্ধতিতে সফল হওয়া সম্ভব, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা ব্যাকফায়ার করার সম্ভাবনাই বেশি।

Continue reading গুজব কেন আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর

বাশার আল-আসাদরা কখনো হার স্বীকার করে না!

বাশার আল-আসাদরা কখনো হার স্বীকার করে না। দাবি করা হয়, দেরা’তে যখন স্কুলের বাচ্চারা তার বিরুদ্ধে দেয়াল লিখন লিখেছিল, তখন নাকি বাশারের মুখাবারাত সেই ছাত্রদেরকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিল, দিনের পর দিন হাত বেঁধে ছাদ থেকে ঝুলিয়ে রেখেছিল, প্লায়ার্স দিয়ে তাদের নখ টেনে উপড়ে ফেলেছিল।

দেশপ্রেমিক জনগণ অবশ্য এগুলো বিশ্বাস করে না। তারা জানে এগুলো মিথ্যা, ষড়যন্ত্র। জনগণের কিছু দাবি মেনে নিলেই যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, তখন বাশার কেন বোকার মতো এই কাজ করতে যাবে? আর তাছাড়া কোনো দেশের সরকার প্রধান, যতোই খারাপ হোক, নিজ দেশের সাধারণ জনগণের উপর, স্কুলের ছাত্রদের উপর আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা কি কখনো সম্ভব? সম্ভব?

Continue reading বাশার আল-আসাদরা কখনো হার স্বীকার করে না!

কিশোর আন্দোলনের ভবিষ্যত

এই মুহূর্তে আন্দোলনের অবস্থাটা হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের মতো। যেদিন এশাকে জুতার মালা গলায় দেওয়ানো হয়েছিল, সেদিনের মতো। আন্দোলনকারীদের মোরাল চরমে। আর সরকার আছে ভয়ে। সে কারণেই এই মুহূর্তে খুব বেশি পেটাবে না। এবং সে কারণেই পুলিশ, ছাত্রলীগ পজিটিভলি কথা বলছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  কী ধরনের নেগেটিভ বক্তব্য দিতে পারেন, সেটা নিয়ে কয়েকটা ট্রোল পোস্ট ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আমার মতে এখনই সেরকম বক্তব্য আসবে না। বরং ছাত্রদের পক্ষ নিয়ে, তাদেরকে আশ্বাস/প্রতিশ্রুতি দিয়েই কোনো বক্তব্য আসবে। সেই প্রতিশ্রুতির উপর ছাত্ররা ঈমান আনবে কিনা, সেটা তাদের বিবেচনা।

Continue reading কিশোর আন্দোলনের ভবিষ্যত

সা’দী গাদ্দাফীর বর্তমান ও ভবিষ্যত

গাদ্দাফীর ছেলে সা’দী গাদ্দাফীকে একটি হত্যা মামলায় নির্দোষ হিসেবে রায় দিয়েছে ত্রিপলীর একটি আদালত।

সা’দী গাদ্দাফীর তৃতীয় ছেলে। ছোটকালে আমরা তাকে ফুটবলার হিসেবেই বেশি চিনতাম। লিবিয়ার ন্যাশনাল ফুটবল টীমের ক্যাপ্টেন ছিল কিছুদিন। খেলোয়াড় হিসেবে মোটামুটি ভালো মানের, কিন্তু লিবিয়াতে তার চেয়েও বেটার প্লেয়ার ছিল। তারপরেও মিডিয়াতে সারাক্ষণ ফোকাসে থাকত। দেশের ভেতরে খেলার সময় প্রায়ই দেখা যেত পুরা টীম তার জন্য অপেক্ষা করছে, শেষ মুহূর্তে সে হেলিকপ্টারে করে এসে নামার পর খেলা শুরু হচ্ছে 

Continue reading সা’দী গাদ্দাফীর বর্তমান ও ভবিষ্যত

ফ্যাক্ট চেকিং সাইটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের ব্যর্থতা

‘ফেইক নিউজ’ শব্দটি সাম্প্রতিক সময়ের আবিষ্কার হলেও বাস্তবে সংবাদপত্রে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন নতুন কিছু না। যুগ যুগ ধরেই গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এবং সর্বোপরি সর্বস্তরে ইন্টারনেট ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় ফেইক নিউজ যেন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তো ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে প্রথমে রাশিয়ান ফেইক নিউজের প্রভাব এবং এরপর কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় হয়ে গেছে! তবে সব রোগেরই যেমন ওষুধ আছে, তেমনি ফেইক নিউজের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের বিভিন্ন সাইট।

Continue reading ফ্যাক্ট চেকিং সাইটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের ব্যর্থতা

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শান্তির বার্তা