জেড (Z) – অসাধারণ একটা পলিটিক্যাল থ্রিলার

পরিচালক কোঁস্তা-গাভরাসের (Costa-Gavras) মুভি প্রথমে দেখেছিলাম বছর দেড়েক আগে, মিসিং। চিলির সামরিক অভ্যুত্থানের উপর সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত অসাধারণ একটা মুভি। এরপর আইএমডিবিতে গিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে জানতে পারলাম এই পরিচালকের সবচেয়ে বেশি রেটিং পাওয়া মুভি হচ্ছে Z (1969)। আইএমডিবি রেটিং 8.2, কিন্তু ফ্রেঞ্চ ভাষায় নির্মিত ছবিটির ভোটসংখ্যা কম হওয়ায় আইডিবির নিয়ম অনুযায়ী এটা টপলিস্টে উঠতে পারেনি। যাইহোক, খোঁজা শুরু করলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য এই মুভিটি মিডিয়া ফায়ারে তো পেলামই না, টরেন্টেও ৭০০ মেগার যেই লিংকটা পেলাম সেটার সীড একেবারেই কম। কাজেই ডাউনলোড করা হল না। লিবিয়া যুদ্ধে দীর্ঘ আট মাস ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর বিদ্রোহীরা ক্ষমতায় এসে যখন ইন্টারনেট উন্মুক্ত করে দিল, তখন আবার নতুন করে সার্চ দিলাম। এবার পেয়ে গেলাম বেশ ভালো সীড সহ একটা লিংক, সাইজ দেড় গিগা। ত্রিপলীতে ছয়মাস ফ্রি এবং আনলিমিটেড থাকার পর গত মাস থেকে লিমিটেড করে দিলেও সিরতে এখনও এডিএসএল ফ্রি এবং আনলিমিটেড। কাজেই সাইজের চিন্তা না করে ঝটপট ডাউনলোড করে ফেললাম।

Read the rest of this entry »

ইয়ে, বোধহয় আবার আসলাম!

এমনিতেই আমি কোন কাজ একনাগাগাড়ে বেশি দিন করতে পারি না। কাজেই ব্লগিংও যে তার ব্যাতিক্রম হবে না, সেটা বলাই বাহুল্য। কিছুদিন ব্লগিং করার পর একটু ব্যাস্ততা বেড়ে গেলেই ডুব মারি, তারপর মাস খানেক পর আবার হাজির হই। তবে এবারের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণটা অবশ্য ভিন্ন।

লিবিয়া যুদ্ধের কিছুদিন আগে অফিসে আমার পিসিতে নেট কানেকশন দেওয়া হয়েছিল, তাই ঠিক করেছিলাম নিয়মিত ব্লগিং শুরু করব। কিন্তু আন্দোলন শুরু হতে না হতেই গাদ্দাফী সাহেব ইন্টারনেট কানেকশনটা দিলেন ঘ্যাঁচ করে কেটে। দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর যুদ্ধ শেষে যখন ইন্টারনেট চালু হল, তখন দেখি দীর্ঘদিন ইনঅ্যাকটিভ থাকার কারণে আমার একাউন্টটা স্থগিত করা হয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেসে ইমেইল-টিমেইল করে শেষ পর্যন্ত অবশ্য আবার চালু করতে পারলাম। কিন্তু এবার নিয়মিত হতে পারব কি না, সেটাই হচ্ছে কথা!

লিবিয়া যুদ্ধে (বিশেষ করে সিরত যুদ্ধ) প্রায় পুরাটুকুই আমি একেবারে রক্বম এতনীনে থেকেই প্রত্যক্ষ করেছি। আমার সেই অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে একটা বিশাল সিরিজ লিখেছি, যেগুলো অন্যান্য ব্লগে ইতিমধ্যেই শেয়ার করেছি। আপাতত এখানেও সেটা দিয়েই শুরু করব ভাবছি।
তবে শুরুতেই আমার ব্লগের সকল পাঠকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, যারা বিভিন্ন পোস্টে মন্তব্য করেও তার কোন উত্তর পান নি। চেষ্টা করব এখন থেকে উত্তর দিতে।

ঘুরে আসুন আনসাইক্লোপিডিয়ার মিথ্যা ভুবন থেকে

Uncyclopedia Logo

সম্প্রতি আনসাইক্লোপিডিয়া নামে একটা সাইটের খোঁজ পেলাম। বেশ মজার একটা সাইট। এটা দেখতে প্রায় পুরো উইকিপিডিয়ার মতো। এর কাজও উইকিপিডিয়ার মতোই। উইকিপিডিয়া সহ অন্যান্য এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো এতেও রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য, কিন্তু এই সাইটের সব তথ্যই বানোয়াট, কাল্পনিক, আজগুবি এবং ভ্রান্ত। এই কারণেই সাইটটার নাম এরকম অদ্ভুত। সাইটের অ্যাবাউট পেজ থেকে একটা বাক্য পড়লেই এর চরিত্রটা আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে : It has all the information on unicycles that you will (n)ever need. (But if you ever need any more, you can just add it because it’s a wiki).

চলুন দেখা যাক, এই আন-সাইক্লোপিডিয়াতে বাংলাদেশ সম্পর্কে কী কী বলা হয়েছে। পুরো প্রবন্ধটা অনেক বড় এবং যথেষ্ট বিরক্তিকর! এতো মিথ্যা কথা পড়তে কার ভালো লাগে! তাই আমি এখানে সংক্ষেপে নির্বাচিত কিছু অংশ তুলে ধরলাম। এখানের কিছু কিছু কথা কৌতুকের মতো শুনালেও সেগুলো আসলে আমাদের দুঃখজনক বাস্তবতাকেই মনে করিয়ে দেয় : Read the rest of this entry »

শিক্ষা সফর – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

আত্মজীবনীমূলক > মুহম্মদ জাফর ইকবাল > শিক্ষা সফর

ইউনিভার্সিটিতে আমরা যখন পড়াশোনা করেছি, তখন লেখাপড়া ছিল একটু পুরনো ধাঁচের। তিন বছর পড়ার পর অনার্স পরীক্ষা শুরু হতো। সেটা শেষ করার পর এক বছরের মাস্টার্স। আমরা যে বছর পাস করেছি, সেই বছর থেকে মাস্টার্সের জন্য নতুন একটা বিভাগ খোলা হলো। সেটার নাম থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স।

এটা মোটামুটি আধুনিক একটা বিভাগ। আমেরিকান কায়দায় দুটি সেমিস্টার। দুই সেমিস্টারে পাঁচটি পাঁচটি করে ১০টি আধুনিক কোর্স। আমরা প্রথমদিকের ১০ জন – ছয়জন ছেলে ও চারজন মেয়ে খুব আগ্রহ নিয়ে এই আধুনিক বিভাগে ভর্তি হয়ে গেলাম। বাকি ছেলেমেয়েরা পুরনো বিভাগে রয়ে গেল।

এক বিভাগের ছেলেমেয়েদের দুই ভাগে ভাগ করলে যা হয়, তা-ই হলো। দুই ভাগের মাঝে একটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। তারা দলে ভারী, পুরো ডিপার্টমেন্টই তাদের। আমাদের মাত্র একজন শিক্ষক, নিজেদের ক্লাসরুম নেই, ল্যাব নেই, বসার জায়গা নেই, খানিকটা উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়াই। পুরোনো বন্ধুবান্ধবরা কখনো আমাদের নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে, কখনো হিংসা করে।

আমার নিজের সমস্যা একটু অন্য রকম, সারা জীবন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এসেছি। যখনই সম্ভব হয়েছে পার্সেন্টেজ দিয়ে সটকে পড়েছি। বড় ক্লাস, কেউ টের পায়নি। ছোট ক্লাসে সেটা করা যায় না, হাতেগোনা ১০ জন মাত্র ছাত্রছাত্রী, স্যারেরা সবার মুখ চেনেন, পালানোর উপায় নেই।  Read the rest of this entry »

ডিজিটাল আব্বা – আনিসুল হক

রম্যগল্প > আনিসুল হক > ডিজিটাল আব্বা

ডিপার্টমেন্টের হেডস্যার বললেন, ‘নেক্সট সেমিস্টারে তোমার আর কন্টিনিউ করার দরকার নাই। তুমি অন্য কোথাও দেখো।’

আমি বললাম, ‘স্যার, আর কোথায় দেখব! এত ভালো একটা ইউনিভার্সিটি আমি ছাড়ব না। আর আপনার মতো টিচার! আমাকে লাস্ট চান্স দেন, স্যার।’

‘গতবার আমি তোমাকে লাস্ট চান্স দিয়েছি। লাস্ট চান্স কয়বার হয়?’ স্যারের মুখে মৃদু হাসি।

‘এবিসি স্যার (মানে আবুল বাশার চৌধুরী) তো স্যার, আমাকে তিনবার লাস্ট চান্স দিয়েছেন।’

হেডস্যার হাসলেন, ‘তুমি টার্ম ফি দাও নাই। অ্যাবসেন্ট ছিলা প্রায় সব দিন। ফাইন দিয়ে এডমিশন নেওয়ার ডেটও পার হয়ে গেছে।’

‘ব্যাক ডেটে নেন, স্যার।’

‘তুমি এক কাজ করো। তোমার আব্বাকে ডেকে আনো। উনি এসে যদি বন্ড দেন, তাহলেই তোমাকে আমরা পরের সেমিস্টারে অ্যালাউ করব। যাও।’ স্যারের হাসি মিলিয়ে গেল। তাঁর মুখটা কঠিন মনে হচ্ছে। আমি ঘামছি। অথচ স্যারের রুমে এয়ারকন্ডিশনার। মাথার ওপরে ফ্যানও ঘুরছে।

আব্বা আসলে নিয়মিত টাকা দিয়েছেন। টার্ম ফি, সেশন ফি। আমি সেসব ভার্সিটিতে জমা দিইনি। এখন আব্বাকে কীভাবে বলব, আপনাকে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে হবে। এটা অসম্ভব। এর আগে আব্বা আমার কাছে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ চেয়েছেন। সেটা বানিয়েছি। রসিদ বানানো খুব সোজা। কম্পিউটারে বানিয়ে লাল-হলুদ কাগজে প্রিন্ট নিলেই হলো। পরীক্ষার প্রগ্রেসিভ রিপোর্ট চেয়েছেন। সেটাও বানিয়ে নিয়ে গেছি। আব্বা জানে আমার ফিফথ সেমিস্টার চলছে। আসলে আমার অবস্থা খুবই খারাপ। থার্ড সেমিস্টার পার হতে পারছি না।

আচ্ছা, এত কিছু যখন নকল করতে পেরেছি, একটা আব্বাও নকল করতে পারব। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে আছে মোস্তফা কামাল, তাকে দেখতে লাগে বাবা-বাবা। Read the rest of this entry »

ভয়াবহ একটা সিনেমা : স (SAW)

Saw সিনেমাটার নাম প্রথমে শুনেছিলাম সম্ভবত প্রজন্ম ফোরামের আহমাদ মুজতবার মুখে। তখন সবেমাত্র Saw V রিলিজ পেয়েছে। অন্য কোন ভালো সিনেমার লিংক না পাওয়াতে একদিন কি মনে করে সেটাই ডাউনলোড দিয়ে দিলাম। যথাসময়ে ডাউনলোডও হল। দেখতে বসলাম। আগের পর্ব গুলো না দেখায় কাহিনীর মাথামুন্ডু কিছুই বুঝলাম না। বরং কাটাকাটি, রক্তপাত সবমিলিয়ে যে ভয়াবহ দৃশ্য, সেটা দেখে আমার বমি আসার মতো অবস্থা। ইতিমধ্যে একদিন সাইবারক্যাফের সার্ভারে Saw IV টাও পেয়ে গেলাম। সেটা আর পুরাটা দেখার মতো ইচ্ছা বা সাহস কোনটাই হল না। টেনে টেনে দেখলাম। তাতেই আমার অবস্থা কাহিল। এটা স ফাইভের চৈযৈও বিভত্‍স। এরপর থেকে মুভি দুটো আর দ্বিতীয়বার চালানো তো দূরের কথা, কম্পিউটারের ঐ ফোল্ডারে ঢুকলেই আমার গা গুলিয়ে আসে। আহমাদ মুজতবার নিশ্চয়ই এইসব কাটাকাটি, রক্তপাত নিয়ে অবসেশন আছে, নইলে আবার এগুলো কারো কাছে মজা লাগে?

কয়েকদিন আগে দোকানে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে হঠাত্‍ একটা ডিভিডি পেয়ে গেলাম। একই সাথে Saw সিরিজের পাঁচটা এবং Halloween সিরিজের দুইটা মুভি। কি মনে করে কিনেই ফেললাম। দেখার ইচ্ছা ছিল না, তবুও কি মনে করে দেখা শুরু করে দিলাম। এ যেন অনেকটা নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি বা ভয়ের জিনিসের প্রতি রহস্যময় আকর্ষণ। যেহেতু সবগুলোই আছে, তাই সিরিয়াল অনুযায়ী প্রথমেই দেখা শুরু করলাম সিরিজের প্রথম মুভিটা – স (saw)। দেখতে গিয়ে তো আমার আক্কেল গুড়ুম! Read the rest of this entry »

ইনশাআল্লাহ্ সমাচার

আমার দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে একটু ভাষা বিষয়ক প্যাচাল পাড়ি। একটা প্রশ্ন দিয়েই শুরু করি। মনে করুন আপনি কাউকে তার পরীক্ষার ফলাফল জিজ্ঞেস করলেন, “পাশ করেছ?” উত্তরে সে যদি বলে “ইনশাআল্লাহ্‌”, তাহলে আপনি কি বুঝবেন? সে কি পাশ করেছে, নাকি ভবিষ্যতে পাশ করার আশা আছে?

বাংলায় ইনশাআল্লাহ্‌ শব্দটা সাধারণত ভবিষ্যত বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই কেউ এরকম উত্তর দিলে আমরা স্বভাবতই ধরে নিতে পারি যে সে এবার পাশ করেনি, তবে ভবিষ্যতে আল্লাহ্‌র ইচ্ছা হলে পাশ করলেও করতে পারে। wink

আরবিতে কিন্তু ইনশা আল্লাহ্ শব্দটার ব্যবহার আরো অনেক ব্যাপক। আরবীয়রা শুধু ভবিষ্যত নয়, বর্তমান এমনকি অতীত কাল বর্ণনার সময়ও ইনশা আল্লাহ্‌ শব্দটা ব্যবহার করে। উদাহরণ চাই?  Read the rest of this entry »